সরকার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাস ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। রোববার সমিতির অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রস্তাব করা হয়।
অতীতে তেলের দাম কমানোর পরিপ্রেক্ষিতে যে হারে বাস ভাড়া কমানো হয়েছে, সেই একই অনুপাতে এবার ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন ও গণমাধ্যমকে এড়িয়ে বিআরটিএ সদর দপ্তরে ‘গোপনে গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির খবর পেয়ে’ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, “জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিকে পুঁজি করে বাস মালিক সমিতির সরকার সর্মথিত প্রভাবশালী নেতারা অতীতের ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ পদাঙ্ক অনুসরণ করে সরকারের সঙ্গে মিলে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে। রাতের আঁধারে ভাড়া বৃদ্ধির গোপন বৈঠক এমন চক্রান্তের ইঙ্গিত দেয়।”
মোজাম্মেল হক বলেন, “তিন দফা জ্বালানি তেলের দাম ৩ টাকা হারে কমানোর পরিপ্রেক্ষিতে বাস ভাড়া তিন পয়সা হারে কমানো হয়েছে, দুই টাকা কমানোর পরিপ্রেক্ষিতে দুই পয়সা হারে কমানো হয়েছে। এবার প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বৃদ্ধি হয়েছে। তাই আগের হিসাবে বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৫ পয়সা বৃদ্ধি হতে পারে।”
আমলাতন্ত্রকে ‘ম্যানেজ’ করে অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধি করা হলে সরকারের জনপ্রিয়তা কমবে এবং জনরোষ তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তাই বাস মালিক সমিতিকে ‘একচেটিয়া সুবিধা প্রদানের এমন কর্মকাণ্ড’ থেকে বিরত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব।
এর আগে রোববার দুপুরে আরেক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি গণপিরবহনের ভাড়া নির্ধারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতা-ভোক্তা অধিকার আইন অনুসরণ করে যাত্রী এবং ভোক্তা প্রতিনিধিদের অর্ন্তভুক্ত করে বাস ও লঞ্চ ভাড়া নির্ধারণ কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানায়।
বাস ও লঞ্চ মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ফেডারেশনের সংখ্যানুপাতে যাত্রী ও ভোক্তা প্রতিনিধি অর্ন্তভুক্তি করে ‘বাস ও লঞ্চ ভাড়া নির্ধারণ কমিটি’ পুনর্গঠনের দাবিতে বিকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দেয় সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, “বিগত সরকার একযুগেরও বেশি সময় ধরে সড়ক ও নৌ যোগাযোগ খাতে বেসরকারি বাস ও লঞ্চ মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের মাফিয়া নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ভাড়া নির্ধারণ, সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ, নীতি ও কৌশল নির্ধারণের যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে এই সেক্টরে যাত্রী দুর্ভোগ এখন চরমে।
“গণমানুষের দল বিএনপি, সরকার গঠনের পর এখনো বিগত সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আসছে। ফলে জনগণের মধ্যে চরম হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে আজ (শনিবার) মধ্যরাতে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ১৫ শতাংশ বা লিটার প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।”
অতীত পর্যবেক্ষণের বরাত দিয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, “সড়ক ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে ভাড়া নির্ধারণের মত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ বা বিশেষজ্ঞ কোন ব্যক্তি বা প্যানেল ছিল না, এখনো নেই। এহেন পরিস্থিতিতে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাবশালী নেতারা তাদের মর্জিমত ভাড়া তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে এনে প্রদর্শনের মধ্যে দিয়ে একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করে, অতিরিক্ত ভাড়া লুফে নেন।
“এতে জনস্বার্থ তথা যাত্রীস্বার্থ চরমভাবে লংঘিত হয়। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ বাড়ে। আমরা আশাকরি, গণমানুষের দল হিসেবে বিএনপি সরকার অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের নীতি ও কৌশল পরিহার করে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস ও লঞ্চ ভাড়া নির্ধারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতা-ভোক্তা অধিকার আইন অনুসরণ করে বাস ও লঞ্চ মালিক সমিতির সংখ্যানুপাতে যাত্রী ও ভোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধি অর্ন্তভুক্ত করে বাস ও লঞ্চ নির্ধারণ কমিটি পুনর্গঠন পূর্বক ভাড়া পূনঃনির্ধারণের উদ্যোগ নিবেন এবং যাত্রী স্বার্থ সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”