ব্যাংক লুটেরাদের বিচার নিশ্চিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। একই সাথে পাচারের টাকা ফিরিয়ে এনে ব্যাংকের দায় পরিশোধের দাবি জানান তাঁরা। আজ শনিবারের মধ্যে চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবি না মানলে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি তুলে ধরেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি নুরুন নবী মানিক।
ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ, এমডি ওমর ফারুক খানের পুনর্বহালসহ ৭ দফা দাবিতে গত ১ জুন থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে আসছেন গ্রাহকরা। ব্যাংকটির চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাংকগুলোর এমডিদের সংগঠন এবিবি গত সপ্তাহে গভর্নরের সাথে এক বৈঠকে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরেন। বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আমানতকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে অসত্য তথ্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গভর্নর ও মন্ত্রীর বক্তব্যের কারণেই গ্রাহকরা আমানত তুলে নিচ্ছেন। অবিলম্বে ব্যাংকটিতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে চেয়ারম্যানকে অপসারণ করতে হবে। জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল করতে হবে।
আমানতকারীদের অনেকে টাকা তুলে নেওয়ায় সঙ্কট মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার চেয়ে চিঠি দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। ঈদের পর ব্যাংকটি থেকে ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি উত্তোলন হয়েছে বলে জানা গেছে।
২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখলে নেয় এস আলম গ্রুপ। ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ২০২২ সাল থেকে ব্যাংকটির নানা সঙ্কট সামনে আসে। তবে আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ব্যাংকটি তারল্য সঙ্কট কাটিয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ হারানো খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার পর গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলনে নেমেছে একটি পক্ষ।