সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন




কর ফাঁকির তথ্য দিলে পুরস্কৃত করা হবে: এনবিআর চেয়ারম্যান

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬ ৮:১৭ pm
করদাতা nbr National Board of Revenue জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর nbr আয়কর রিটার্ন Income tax National Income Tax Day জাতীয় আয়কর দিবস আয়কর দিবস aikor nbr National Board of Revenue জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর
file pic

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণমুক্ত (ডিরেগুলেশন) পরিবেশ তৈরিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, করদাতাদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা, কর ব্যবস্থাকে সহজ করা এবং সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে কর ভিত্তি সম্প্রসারণই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি এবারের বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে শুল্ক ও কর বৃদ্ধির কারণে যাতে দ্রব্যমূল্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর ও শুল্কে স্বস্তি দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কর ফাঁকির তথ্য দিলে ভোক্তাদের পুরস্কৃত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।’
রোববার রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) অডিটোরিয়ামে ‘অর্থবিল ২০২৬-২৭-এর বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রপ্তানিমুখী ব্যবসায়ীদের একটি বড় দাবি ছিল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা সম্প্রসারণ। এতদিন যাদের নিজস্ব বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ছিল না, তারা বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহে নানান জটিলতার মুখোমুখি হতেন। নতুন বাজেটে এ সীমাবদ্ধতা দূর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে বলছিলেন- আমি রপ্তানি করি, আমার বন্ডেড ওয়্যারহাউজ আছে; কিন্তু আরেকজন রপ্তানি করেও বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা পায় না। সে কোথা থেকে মাল কিনবে? এবার আমরা বলেছি, তারাও বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাঁচামাল কিনতে পারবে। তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প ব্যাপক উপকৃত হবে এবং স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়বে।
আবদুর রহমান খান আরও বলেন, আগে কন্টিনিউয়াস বন্ড সুবিধা সীমিত ছিল এবং অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য কাঁচামাল আমদানি করতে হলে কমিশনারেটের অনুমোদন নিতে হতো। এবার সেই সুবিধা আন্তঃকমিশনারেট পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগে মাত্র কয়েকটি খাত বন্ড সুবিধা পেত। এখন যে কোনো খাতের উদ্যোক্তা আবেদন করলে বন্ড লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, যেসব ব্যবসায়ী বন্ড লাইসেন্স নিতে চান না, কিন্তু ডিউটি-ফ্রি আমদানি করতে আগ্রহী- তাদের জন্যও নতুন সুযোগ রাখা হয়েছে। আমরা বলেছি, ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে তারা ডিউটি-ফ্রি কাঁচামাল আমদানি করতে পারবেন।
অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) সুবিধা নিয়েও সংস্কারের কথা তুলে ধরেন তিনি। আবদুর রহমান খান বলেন, এই লাইসেন্সের আওতায় ব্যবসায়ীরা দ্রুত পণ্য খালাসের সুবিধা পান এবং তাদের পণ্য বন্দরে নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াই ছাড় করা সম্ভব হয়। কিন্তু অডিট রিপোর্ট জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান আবেদন করছিল না।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি অডিট রিপোর্ট করদাতার হাতে থাকে না। তাই এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অডিট রিপোর্টের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে, যাতে আরও বেশি ব্যবসায়ী এ সুবিধা নিতে পারেন। এনবিআর চেয়ারম্যানের ভাষ্য, বন্ড ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণে একগুচ্ছ সংস্কার আনা হয়েছে, যা বিনিয়োগ ও রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও সহজ করবে।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং ব্যবসা সহজ করতে বিভিন্ন সহায়ক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
ভ্যাট ব্যবস্থাকে সহজ করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ছোট ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ও সহজ ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এসব ব্যবসায়ীকে জটিল রিটার্ন, অডিট বা হিসাবপত্র সংরক্ষণের ঝামেলায় পড়তে হবে না। অনলাইনে তাৎক্ষণিকভাবে নিবন্ধন নিয়ে নির্ধারিত টার্নওভার কর পরিশোধ করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।
তিনি জানান, ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া আয়করের ই-টিআইএ-এর মতো তাৎক্ষণিক করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এনবিআর নিজস্ব সফটওয়্যার তৈরি করবে, যার মাধ্যমে সহজেই ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করা যাবে।
তামাক খাতে কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, সিগারেট ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের স্ট্যাম্পে কিউআর কোড সংযোজন করা হবে। সাধারণ ভোক্তারা মোবাইলের মাধ্যমে যাচাই করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর কর পরিশোধ করা হয়েছে কি না।
তিনি আরো বলেন, তামাক খাতে প্রায় ১৫ শতাংশ পণ্য করের আওতার বাইরে থেকে যায়। নতুন প্রযুক্তি চালু হলে এ খাত থেকে রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ভবিষ্যতে একই ব্যবস্থা অন্যান্য উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। বরং নতুন ব্যবস্থায় অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। অনুষ্ঠানে এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (মূসক) বদরউদ্দিন মুন্সী, কাস্টমস নীতির প্রথম সচিব তারেক হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD