সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন




রুদ্ধশ্বাস জয়ে হোয়াইটওয়াশ থেকে বাঁচলো অস্ট্রেলিয়া

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬ ৮:২৫ pm
cricket-pak cricket pak pakistan cricket board logo pcb Pakistan Pak national cricket team পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড পিসিবি পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল Cricket-Pakistan Cricket-পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া
file pic

৫ ওভার বাকি, হাতে ৫ উইকেট নিয়ে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন মাত্র ৯ রান। উইকেটে ১৪৯ রানে অপরাজিত ওপেনার কুপার কোনোলি। ঠিক এই সমীকরণ মেলাতেই অস্ট্রেলিয়া হারিয়েছে ৪ উইকেট, লেগেছে ২৭ বল!

৪৬তম ওভারে জোড়া উইকেট নিলেন শরিফুল ইসলাম, এক ওভার বাদে আরও একটি। এরপর শেষ ২ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ৫ রানের। ৪৯তম ওভারে ২ উইকেট দিয়ে ১৪৯ রানে থাকা কোনোলিকে বোল্ড করেন মোস্তাফিজুর রহমান।

শেষ ওভারে সমীকরণ ৩ রানের, প্রথম ২ বলে ১ রান দেওয়া তাসকিন আহমেদের তৃতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে শ্বাসরুদ্ধকর জয় এনে দেন অ্যাডাম জাম্পা। আর এতে বাংলাদেশের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার লজ্জা এড়ায় অস্ট্রেলিয়া।

রোববার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ১ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে বাংলাদেশ ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে ২-১ ব্যবধানে।

টস জিতে আগে ব্যাটিং করে ২৭৪ রান করে স্বাগতিকরা। জবাবে কোনোলির সেঞ্চুরির পর দাপুটে জয়ের পথেই ছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে শেষদিকে শরিফুল-মোস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৫ রানে ৪ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত শেষ ওভারের তৃতীয় বলে গিয়ে জয় পায় তারা। বাংলাদেশের হয়ে ৬ উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম।

রান তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণ করেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার। তবে পঞ্চম ওভারে আক্রমণে এসে জোড়া উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে খেলায় ফিরিয়েছেন নাহিদ রানার বদলে একাদশে ফেরা শরিফুল ইসলাম। ইংলিস ১২ বলে ২১ রান করে ক্যাচ দেন মোসাদ্দেকের হাতে। এক বল পরই রানের খাতা খোলার আগে বোল্ড হয়ে ফেরেন ম্যাট রেনশ। প্রথম পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে ২ উইকেট হারালেও ৬৩ রান তুলে ভালো শুরু করে অস্ট্রেলিয়া।

নতুন ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে ভালোভাবেই এগোচ্ছিলেন ওপেনার কুপার কোনোলি। তবে সৌম্য সরকারের অবিশ্বাস্য এক ক্যাচে ভাঙে তাদের ৩০ রানের জুটি। সামনের পায়ে এসে কাভারের ওপর দিয়ে জোরে চালিয়েছিলেন ক্যারি। শূন্য ভেসে ঝাঁপিয়ে পড়ে অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ নেন সৌম্য। ফেরার আগে ১৬ বলে ৮ রান করেন ক্যারি।

ক্যারি ফেরার পর মার্নাস লাবুশানে এসে সঙ্গ দেওয়া শুরু করেন কোনোলিকে। দুজনের জুটিতে ফিফটিও পার হয়েছিল। এরপর আক্রমণে এসেই ব্রেকথ্রু এনে দেন শরিফুল। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দেন লাবুশানে, সেটা ঝাঁপিয়ে এক হাতে ক্যাচ নেন উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান। এতে ভাঙে ৭৭ বলে ৬৪ রানের জুটি।

একপ্রান্তে নিয়মিত সঙ্গী হারালেও অন্যপ্রান্তে রানের চাকা সচল রেখে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পথ প্রসস্ত করেন কুপার কোনোলি। আগের ১১ ওয়ানডেতে মাত্র ১ ফিফটি করা এই বাঁহাতি ওপেনার রোববার হোম অফ ক্রিকেটে তুলে নিয়েছেন নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ৬ নম্বরে ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে এরপর নতুন করে জুটি গড়েন। বাংলাদেশি বোলাররা কোনোভাবেই কোনোলি ও গ্রিনের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারছিলেন না। দুজনে খুব সহজেই রান করছিলেন। দুজনের ব্যাটে অস্ট্রেলিয়ার রানও ২০০ পার হয়ে যায় ৩৫ ওভারেই।

তবে ৩৬তম ওভারে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন এই ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গায় খেলা শেখ মেহেদী। মিডল-অফ স্টাম্পের ওপর করা মেহেদী ডেলিভারিটি টার্ন করে বাইরের দিকে যাচ্ছিল। ব্যাকফুটে গিয়ে বলটিকে অনসাইডে খেলার চেষ্টা করেন ক্যামেরন গ্রিন। তবে ব্যাটের ফেস আগেভাগেই বন্ধ করে ফেলায় বল লাগে লিডিং এজে। ফলে বল সোজা লফট হয়ে ফিরে যায় বোলারের দিকে, আর সহজ ক্যাচটি তালুবন্দি করেন মেহেদী।

তবে পুরো ইনিংসের বাকি সময়ের মতো এবারও সঙ্গী হারালেও কোনোলির কোনো সমস্যা হয়নি। তাকে কোনোভাবে আটকাতে পারেনি টাইগার বোলাররা। শেষদিকে রীতিমত বাংলাদেশি বোলারদের উপর তান্ডব চালান কোনোলি। ৪৫তম ওভার করতে আসা তাসকিন আহমেদকে ওই ওভারেই হাঁকান ৩ ছক্কা।

জয় থেকে ৮ রান দূরে থাকতে অলি পিককে ফেরত পাঠান শরিফুল ইসলাম। তার ব্যাট থেকে আসে ৩২ বলে ২৭ রান। পরের বলেই জাভিয়ের বার্টলেটকে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম ফাইফার পূর্ণ করেন শরিফুল। এক ওভার আক্রমণে এসে আবার উইকেট নেন তিনি। তার ষষ্ঠ শিকার হয়ে ফেরেন ডোয়ার্শাস।

এক বল পরই অস্ট্রেলিয়ার নবম উইকেট নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। গালিতে অ্যাডাম জাম্পার ক্যাচ ফেলেন তানজিদ হাসান তামিম। এরপর সমীকরণ দাড়ায় শেষ ২ ওভারে ৫ রান। ৪৯তম ওভারে ২ রান দিয়ে ১৪৯ রান করা কোনোলির উইকেট তুলে নেন। ২৬৬ থেকে ২৭১ এর মধ্যে ৪ উইকেট হারায় অজিরা। তবে শেষ ওভারে ৩ রান আটকাতে পারেননি তাসকিন।

এর আগে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান করেছিল বাংলাদেশ। এদিন টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারে উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। জেভিয়ার বার্টলেটের অফ স্টাম্পের একটু বাইরের বল ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন সৌম‍্য। বলের লাইনে যেতে পারেননি পুরোপুরি। কানায় লেগে আঘাত হানে স্টাম্পে। ৪ বল খেলে ২ রান করেন সৌম‍্য।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ফেরেন তানজিদ তামিম। ম্যাট রেনশর অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে মিড অনের উপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। টাইমিং করতে পারেননি, ধরা পড়েন রাইলি মেরেডিথের হাতে। এতে ভাঙে ৫৬ বল স্থায়ী ৫১ রানের জুটি। ২০ বলে এক ছক্কা ও দুই চারে ১৯ রান করেন তামিম।

শান্তকেও ফেরত পাঠান রেনশ। সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন শান্ত। ৫০ বলে ২৪ রান করে আউট হয়েছেন তিনি। ইনিংসের ১৫তম ওভারে এসেই বাংলাদেশ হারায় তৃতীয় উইকেট। এরপর লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয় মিলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রন এনে দেন বাংলাদেশের হাতে। তবে পায়ের পেশীতে টান লাগায় মাঠ ছাড়তে হয় লিটনকে। এতে ছেদ পড়ে ৯২ রানের জুটিতে। আহত হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে ৪৮ রান করেন লিটন।

এরপর মোসাদ্দেক নেমেই আক্রমণ শুরু করেন। ৩৬ ও ৩৭, পরপর দুই ওভারে তার ব্যাট থেকে আসে ৩ চার। অপরপ্রান্তে ফিফটি পূর্ণ করার পর হৃদয়ও রানের গতি বাড়ান। ৪৬তম ওভারে ফেরার আগে ৮৮ বলে ৮৩ রান করেন তিনি। হৃদয় ফেরার পরের ওভারে ব্যক্তিগত ৪৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন মোসাদ্দেক। ৪৮ রানে থাকা অবস্থায় পায়ের পেশীতে টান লেগে উঠে লিটন মাঠে ফেরেন ৪৯তম ওভারে। ফিরেই তুলে নেন মিরপুরে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২টি করে উইকেট নেন জাভিয়ের বার্টলেট ও ম্যাট রেনশ।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD