রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন




সংসদে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

সুদ বন্ধ করে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালুর আহ্বান

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬ ৫:১৯ pm
Professor Mojibur Rahman central Naeb amir Bangladesh Jamaat-e-Islami অধ্যাপক মুজিবুর রহমান জামায়াত ইসলামী নায়েবে আমির
file pic

আল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ না করতে চাইলে দেশে সুদভিত্তিক অর্থনীতি বন্ধ ও জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করার দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এজন্য আলেমদের নিয়ে একটি কমিটি করা, জাকাত মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং তা আলেমদের নেতৃত্বে পরিচালনা করারও দাবি জানান তিনি।

রোববার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সুদের বিধান ও কুফল প্রসঙ্গে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, সুদ খাওয়াকে মহান আল্লাহ ও রাসুলের (সা.) সঙ্গে যুদ্ধ করার শামিল বলা হয়েছে। তাই যুদ্ধ করতে না চাইলে অবশ্যই সুদভিত্তিক অর্থনীতি বন্ধ করতে হবে। অনেক দেশে সুদমুক্ত অর্থনীতি আছে, ব্যাংক আছে। বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হলেও সেটা প্রায় ধ্বংস করা হয়েছে। অনেক ব্যাংক ইসলামিক কাউন্টার খুলেছিল, এতে প্রমাণিত হয় সুদমুক্ত ব্যাংক চলে।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, সুদ চললে আল্লাহর আজাব হালাল হয়ে যায়। সুদের টাকায় শরীরের যে অংশ গঠিত হবে, তা জাহান্নামে পুড়বে। জাকাত ঠিকমতো আদায় করা গেলে ২ লাখ কোটি টাকা বের হতে পারে। আমাদের ঘাটতি বাজেট পূরণ হয়ে যাবে। কিন্তু জাকাত যারা বোঝে না, চুরি করে তাদের হাতে জাকাত দিলে হবে না। এজন্য আলেমদের নিয়ে একটি কমিটি করে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করে সুদভিত্তিক অর্থনীতির কবর রচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, কালোটাকা সাদা করা যাবে না। এটা চালু থাকলে অন্যায় বলে কিছু থাকবে না। তিনি বলেন, মদ ও বিড়ি যাতে মানুষ না খায়, সেজন্যই দাম বাড়িয়েছেন, এর জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কেন কমাতে বললেন জানি না।

মদিনার ইসলাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মদিনার ইসলামে সুদ ছিল না, জাকাত ছিল। তাই সুদ বন্ধ করে জাকাত চালু করতে হবে। ফসলের ওশর আছে। অন্যান্য দ্রব্যের জাকাত, কাফফারার সঙ্গেও অর্থনীতির সম্পর্ক আছে। বাংলাদেশে একটি জাকাত মন্ত্রণালয় ও আলেমদের নেতৃত্বে তা পরিচালনা করার দাবি জানান তিনি। কওমি মাদ্রাসার প্রতি বাজেট থাকা দরকার বলেও জানান তিনি।

প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ২৩৪ পৃষ্ঠার বাজেট বক্তৃতা ও ৩৪৬টি ধারায় বক্তব্য রেখেছেন অর্থমন্ত্রী। আল্লাহ বাজেটের মালিক। তিনি বলেছেন, খাও এবং পান করো, কিন্তু অপচয় কোরো না। কিন্তু এই বাজেট বক্তৃতায় অপচয়ের কথা অর্থমন্ত্রী বলেছেন বলে জানি না। জাকাতের কথা বলেননি।

ঋণের কুফল সম্পর্কে তিনি বলেন, ঋণ পরিশোধ করে মরতে হবে। কোনো ঋণকে ছোট করে দেখা যাবে না। ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু ঋণ রেখে মরা যাবে না। ঋণ করা মানে ফকিরের হাত। ঋণ করে ঘি খাওয়া যাবে না। এই ঋণ করে দেশ চালানো যাবে না। জাতি ও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করি।

মসজিদে রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মসজিদে নববীতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা গেলে বাংলাদেশের প্রতিটি মসজিদ থেকে কেন করা যাবে না?

প্রধানমন্ত্রী প্রাইমারির বাচ্চাদের জুতা-পোশাক দেবেন, তাতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আছে কি না, তাদেরও জুতা-জামা দেওয়ার দাবি রাখছি।

তিনি বলেন, শিক্ষকেরা সম্মান করার জিনিস। শিক্ষকেরা সম্মানের হয়ে থাকলে তারা যখন প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করেন, তাদের প্রতি আমাদের দায়-দায়িত্ব আছে। তাদের সব দাবি মেনে নেওয়া উচিত। যেগুলো যোগ্য তাদের এমপিও চালু, যেগুলোর ঘাটতি আছে তাদের শর্ত সাপেক্ষে চালু এবং বাকিগুলো যাচাই-বাছাই করে তিন কিস্তিতে এমপিওভুক্ত করা গেলে শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত হবে।

শ্রমিকদের যথাযথ পারিশ্রমিক দিতে হবে। কৃষি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের হাতে কাজ দিন, কার্ড নয়। তা না হলে তাদের ভিক্ষার হাতই থাকবে। রাসুল (সা.) কাজে উৎসাহিত করেছেন। কাজ দিলে বাংলাদেশ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।

মুজিবুর রহমান বলেন, মহিলা শ্রমিকদের অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জাতীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত যে, শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ হলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সসহ সব সমস্যার সমাধান করতে হবে। সব এমপির সম্মান রক্ষার্থে গঠনমূলক উন্নয়নকাজ যেন হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

অধ্যাপক মুজিবুর বলেন, এই সংসদে আল্লাহকে বাদ দিয়ে যারা সরাসরি নেতাদের স্মরণ করেছেন, দোয়া করেননি, তারা আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন। আল্লাহর এসব নির্দেশ মানলে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ হবে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD