বাঘের বেশে সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ দল। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নেমে ১৮৬ রানের বড় পুঁজি দাঁড় করায় টাইগাররা। জবাবে জিম্বাবুয়ে ১৫২ রানের বেশি করতে পারেনি।
বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে এদিন টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সাইফ হাসান এবং তানজিদ হাসান তামিম শুরু থেকে এগিয়েছেন সাবলীল ব্যাটিংয়ে। উইকেটের চারপাশে শট খেলেছেন। দলের বোর্ডে রানও তুলেছেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৫৪ রান তোলে বাংলাদেশ।
পাওয়ারপ্লে শেষেও চলেছে সাইফ-তানজিদের উইলোবাজি। দুজনের ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশের ইনিংস। সাইফ কিছুটা খোলসবন্দী থাকলেও তানজিদ ছিলেন আগ্রাসী। শতরান পার করেছে ওপেনিং জুটি। দুই ওপেনারই ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটি।
তবে ফিফটির পর বেশি দূর আগাতে পারেননি দুজন। ওপেনিং জুটি ভাঙে ১২০ রানের মাথাতে। ৪৫ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান সাইফ হাসান। পরের ওভারেই ফিরেছেন তানজিদ। ৪৪ বলে ৫৮ রান করে বিদায় নেন তিনি।
দুই ওপেনারের বিদায়ে যেন ধস নামে টাইগার ইনিংসে। ১২০ রান থেকে ১৪১ রান পর্যন্ত যেতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ দল। অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ৫ বলে ৬ রান করেছেন। পারভেজ হোসেন ইমন খেলেন ২ বলে ১ রানের ইনিংস। নুরুল হাসান সোহান প্রথম বলে চার মেরে পরের বলেই হয়েছেন আউট।
শেষ দিকে কিছুটা লড়াই চালিয়ে গেছেন ফর্মে থাকা ইয়াসির আলি চৌধুরী। সাতে নেমে যোগ দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও। শেষ ওভারে চার ছক্কায় ২৮ রান তোলেন সাইফউদ্দিন। ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ দল। ১০ বলে ৩১ রান করে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন সাইফউদ্দিন। ১২ বলে ২২ রান করে অপরাজিত ছিলেন ইয়াসির।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন রিচার্ড এনগারাভা এবং ব্র্যাড ইভান্স। ১ উইকেট শিকার করেছেন সিকান্দার রাজা।
জবাব দিতে নেমে প্রথম ওভারেই ১৫ রান তোলেন জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি এবং ব্রায়ান বেনেট। তবে ওভারের শেষ বলে মারুমানিকে ফিরিয়ে দেন শেখ মেহেদী হাসান। পরের ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে বিদায় করেন নাহিদ রানা। ৫ বলে ১১ রান করে ফিরেছেন বেনেট।
পাওয়ারপ্লের মধ্যে আরও এক উইকেট হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ৭ বলে ৪ রান করা ডিয়ন মেয়ার্সকে ফেরান শেখ মেহেদী। এরপর মিল্টন শুম্বা এবং অধিনায়ক সিকান্দার রাজা মিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। মিল্টন ধীরেসুস্থে এগোলেও রাজা ছিলেন আগ্রাসী। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৬ রান তোলে জিম্বাবুয়ে।
পাওয়ারপ্লে শেষেই থেমেছেন রাজা। ১২ বলে ২৮ রান করে বিদায় নেন তিনি। মিল্টন ধুঁকতে ধুঁকতে ২০ বলে ১৯ রান করেছেন। এরপর চেষ্টা করেছেন রায়ান বার্লও। ১৯ বলে ২৯ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলা বার্লকে ফেরান রিশাদ হোসেন। তাতে জিম্বাবুয়ের জেতার প্রায় সব আশাই শেষ হয়ে যায়। তবুও শেষ দিকে লড়ে গেছেন ব্র্যাড ইভান্স এবং রিচার্ড এনগারাভা। শেষ ২ ওভারে দরকার ছিল ৪০ রান। শেষের আগের ওভারে ইভান্সকে ফেরান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। সেই ওভারে রান দিয়েছেন মাত্র ২। শেষ ওভারে জিম্বাবুয়ের দরকার ৩৮ রান। শেষ ওভারে ৪ বলের বেশি টেকেনি জিম্বাবুয়ের ইনিংস। ১৫২ রানে অলআউট হয়েছে তারা। কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকেছেন রিশাদ হোসেন।
বাংলাদেশের হয়ে ৪ উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলার রিশাদ। এছাড়া ৩ উইকেট শিকার করেছেন শেখ মেহেদী হাসান। ১টি করে উইকেট নেন নাহিদ রানা, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন এবং সাইফ হাসান। তিন ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ সমতা। ১৯ জুলাইয়ের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি এখন সিরিজ নির্ধারণী।