বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ন




ঢাবির ৬ অধ্যাপককে অব্যাহতি, বরখাস্ত সাদেকা হালিম

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬ ৮:১৫ pm
ঢাবি ভিসি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান du vc Md. Akhtaruzzaman Dhaka university du ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাবি ডিইউ DU ঢাবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় Dhaka University ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাসে মিলবে ওয়াইফাই The DU residential hall may open in March ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
file pic

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে স্থায়ী বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছয় অধ্যাপককে সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

গত ২৮ জুলাই রাতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই)। সভায় অংশ নেওয়া দুইজন সিন্ডিকেট সদস্য জাগো নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ঢাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সভা সূত্রে জানা যায়, সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে আগের তদন্ত কমিটির স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাইব্যুনাল।

অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সিন্ডিকেট সভায় ছয়জন অধ্যাপককে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে নীল দলকে নিষিদ্ধের বিষয়েও তদন্ত কমিটি গঠনসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অব্যাহতিপ্রাপ্ত ছয়জন
ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মুহিত, ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন।

পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিক শাহরিয়ার, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আফরোজা শেলী এবং অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম। তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব ও ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

বরখাস্তের মুখে পড়া সাদেকা হালিম ও অব্যাহতি পাওয়া ছয় শিক্ষক আওয়ামীপন্থি নীল দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিষয়টি নিয়ে সাদেকা হালিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলবেন না। আর অব্যাহতি পাওয়া ছয় শিক্ষকও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. তাজমেরি এস এ ইসলাম বলেন, জুলাই নিয়ে কটূক্তি ও জুলাইবিরোধী অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগে আরও অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা মিললে তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিটিগুলো দ্রুত কাজ শেষ করবে।

আওয়ামী লীগ আমলের সব শিক্ষক-কর্মকর্তার নিয়োগ পর্যালোচনা করবে ঢাবি

২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সব নিয়োগ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া ঢাবির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব নিয়োগ পর্যালোচনা করা হবে। গত ২৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিন্ডিকেট সদস্যরা জানান, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত যত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের নিয়োগ কোন প্রক্রিয়ায় এবং কীভাবে হয়েছে- তা খতিয়ে দেখা হবে। পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। কোনো নিয়োগে অনিয়ম-ত্রুটি পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিগত ১৫ বছরের নিয়োগ পর্যালোচনার জন্য উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটিতে অনুষদগুলোর ডিনরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সভায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, বিশ্বব্যাংক ও ইউজিসির অর্থায়নে পরিচালিত হেকেপ প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রম খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়।

হেকেপ প্রকল্পের গবেষণা তহবিলের সঠিক ব্যবহার খতিয়ে দেখতে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের চিহ্নিত করতে উপাচার্য, দুই উপ-উপাচার্য, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানের সমন্বয়ে চার সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

কমিটি ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ’ প্ল্যাটফর্মের জমা দেওয়া ২৩১ জন শিক্ষকের তালিকা পর্যালোচনা করবে। অভিযুক্ত শিক্ষকরা কোনো শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে ওই সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, ঢাবির আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে। এ দাবিতে গত ২৭ জুলাই ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দের’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।

এ সময় তারা জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে ও ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা আওয়ামী ও বামপন্থি ২৩১ জন শিক্ষকের তালিকা হস্তান্তর করে তাদের শাস্তি ও নীল দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানান।

জানতে চাইলে ঢাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, সিন্ডিকেটে সর্বসম্মতভাবে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যেসব তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে, সেগুলোর প্রতিবেদন জমা পড়লে তা বিবেচনা করে প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD