মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন




মূল্যস্ফীতি আরও কমলো, আগস্টে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:৩৮ pm
ইনডেক্স দাম বাড়বে কমবে Inflation মূল্যস্ফীতি dse cse ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই Dhaka Stock Exchange চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ Chittagong Stock Exchange dse cse ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই Dhaka Stock Exchange চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ Chittagong Stock Exchange শেয়ারবাজার dse ডিএসই Share point সূচক অর্থনীতি economic দরপতন dse ডিএসই শেয়ারবাজার দর পতন পুঁজিবাজার CSE BSEC share market DSE CSE BSEC sharemarket index discrimination সূচক market down INFLATION Inflation মূল্যস্ফীতি dse cse ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই Dhaka Stock Exchange চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ Chittagong Stock Exchange dse cse ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই Dhaka Stock Exchange চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ Chittagong Stock Exchange শেয়ারবাজার dse ডিএসই Share point সূচক অর্থনীতি economic দরপতন dse ডিএসই শেয়ারবাজার দর পতন পুঁজিবাজার CSE BSEC share market DSE CSE BSEC sharemarket index discrimination সূচক market down
file pic

চলতি অর্থবছরের শুরুর দুই মাসেই মূল্যস্ফীতি কমল। জুলাইয়ের চেয়ে আগস্টে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়েছে। জুলাইয়ে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আজ আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করেছে।

টানা ৩ মাস ৯ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতি থাকার পর জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি কমেছিল। আগস্ট মাসে আরও কমল।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এর ফলে সীমিত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ওপর খরচের চাপে আছে।

বিবিএসের হিসাব অনুসারে, গত আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয় ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

জীবনযাত্রায় প্রভাব কী
জিনিসপত্রের দাম বাড়লে সীমিত ও মধ্য আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়ে। সেই তুলনায় আয় না বাড়লে তাদের সংসার চালানের খরচ বেড়ে যায়।

সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে। ফলে বাজারে শাকসবজি, মাছ-মাংসের দাম চড়া।

মূল্যস্ফীতি কমার পাশাপাশি জাতীয় গড় মজুরি হারও কমেছে। গত আগস্টে জাতীয় গড় মজুরি হার হয়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। এর মানে হলো যত মূল্যস্ফীতি হয়েছে, এর চেয়ে মজুরি কম বেড়েছে। ফলে বাজার থেকে পণ্য কিনতে ভোগান্তি বাড়ছে। গত জুলাইয়ে জাতীয় গড় মজুরির হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার কম হলে প্রকৃত আয় কমে যায়। মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় না বাড়লে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয় কিংবা খাবার, কাপড়চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে কাটছাঁট করতে হয়।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্দোলনের ধাক্কায় দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে উঠেছিল। ওই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি হয় ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরের কয়েক মাস সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যেই ওঠানামা করছিল। তারমধ্যেই ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে রাখার লক্ষ্য ধরেছিল অন্তবর্তী সরকার। তবে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ গড় মূল্যস্ফীতি নিয়ে শেষ হয়েছিল ওই আর্থিক বছর।

এদিকে অগাস্ট শেষে (২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের অগাস্ট) দেশে গড় মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিন মাস পর গত জুলাইয়ে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নামে। গত এপ্রিলে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল দেশে। মে মাসে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে উঠেছিল। জুনে তা সামান্য কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নামে।

জুলাইয়ে তা থেকে আরও দশমিক ৮৪ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৯ শতাংশের নিচে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছিল; অগাস্টে তা আরও কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে।

চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৮ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল দেশে। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে ওঠে। মার্চে অবশ্য কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমেছিল। এরপর টানা তিন মাস ৯ শতাংশের ওপরে থাকার পর জুলাই মাসে এর নিচে নেমেছিল।

গ্রামের পাশাপাশি শহরেও কমেছে

অগাস্টে শহরের পাশাপাশি গ্রামেও কমেছে মূল্যস্ফীতি। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে এ মাসে গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

আগের মাস জুলাইয়ে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। যার মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ; খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

অন্যদিকে অগাস্টে শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ; খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

জুলাইয়ে শহর এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। যার মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৭ দশমিক ২১ শতাংশ; খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।

মজুরি সূচকও কমেছে

মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস অগাস্টে মজুরি সূচকও কমেছে। এই জাতীয় গড় মজুরির হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আগের মাস জুলাইয়ে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ।

এর মানে হল- অগাস্টেও মূল্যস্ফীতি মজুরি হারের চেয়ে বেশিই রয়ে গেছে।

মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধি বা আয় বৃদ্ধি কম হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে। প্রকৃত আয় কমে যায়।

গ্রাম-শহর নির্বিশেষে ১৪৫টি নিম্ন দক্ষতার পেশার মজুরির ওপর হিসাব করে থাকে বিবিএস। মজুরিনির্ভর বিশাল জনগোষ্ঠীর ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি পড়ে।

বিবিএস বলছে, দেশের প্রায় ৮৬ শতাংশ মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। দেশে এরকম কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা ছয় কোটি মতো।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD