বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন আয়োজনে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেও ফিফা সভাপতি পদে আবারও নির্বাচনে লড়বেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো সভাপতি হওয়ার জন্য প্রার্থী হবেন ৫৬ বছর বয়সী এই সুইস। রবিবার ফিফার পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংস্থাটির এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘ফিফা সভাপতি এপ্রিলেই ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি ২০২৭ সালে নির্বাচনে দাঁড়াবেন। অবশ্যই, কিছুই বদলায়নি। মি. ইনফান্তিনো পুনর্নির্বাচনে দাঁড়াবেন।’
জুলাইয়ের শেষ দিকে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইনফান্তিনো। ওই পরিকল্পনার মাধ্যমে ফিফার বিভিন্ন আয়োজনে, বিশেষ করে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়।
পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এবারই প্রথম ফিফা আবারও নিশ্চিত করলো, ২০২৭ সালের নির্বাচনে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য লড়বেন ইনফান্তিনো। নির্বাচনে জয়ী হলে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
বর্তমানে নারী অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ উপলক্ষে পোল্যান্ডে রয়েছেন ফিফা প্রধান। তবে শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি।
ইনফান্তিনোর বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় বিরোধিতা করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। শুরুতেই এর বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেয় উয়েফা। এমনকি পরিকল্পনাটি বাতিল না হলে পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল তারা।
তবে উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) ইনফান্তিনোর প্রতি শক্ত সমর্থন দেখিয়েছে।
ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানির নামই সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন অবশ্য ইতোমধ্যে নির্বাচনে না লড়ার কথা জানিয়েছেন।
তবে ইনফান্তিনো একেবারে একা নন। গত মাসে ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক সৌদি আরব তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) এবং দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলও তার প্রতি সমর্থন দেখিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের মার্চে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে এখন পর্যন্ত একমাত্র ঘোষিত প্রার্থী ইনফান্তিনো। ফিফার ২১১ সদস্য ফেডারেশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেলেই আরও এক মেয়াদে দায়িত্বে থাকবেন তিনি। ২০১৬ সালে প্রথমবার ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। তারপর ২০২৩ সালে পুনর্নির্বাচিত হন।