সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ন




এনবিআর: শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনার সংস্কৃতি কী বার্তা দিচ্ছে

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১৯ am
করদাতা nbr National Board of Revenue জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর nbr আয়কর রিটার্ন Income tax National Income Tax Day জাতীয় আয়কর দিবস আয়কর দিবস aikor nbr National Board of Revenue জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর NBRএনবিআরভবন
file pic

শাস্তি, বরখাস্ত বা বাধ্যতামূলক অবসরের পর সরকার বদল হলে কর্মকর্তাদের চাকরিতে ফেরানোর ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়। বিভিন্ন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে সরিয়ে দেওয়া এবং পরে অন্য সরকার এসে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করার নজির রয়েছে। এতে প্রশাসনে যোগ্যতা ও দক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক আনুকূল্যই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।

বাংলাদেশ সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আন্দোলনে অংশ নেওয়া ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

এর আগে গত ১ জুলাই সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতি পাওয়া ও বরখাস্ত হওয়া ১৫০ কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেয় সরকার। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চাকরিতে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও পুলিশ ও জনপ্রশাসনে আগের সরকারের সময়ে চাকরি হারানো অনেক কর্মকর্তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বরখাস্ত হওয়া ৮৫ নির্বাচন কর্মকর্তাকেও ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট চাকরিতে পুনর্বহাল করে নির্বাচন কমিশন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ওই সময়ে অনেক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরিচ্যুতি কিংবা বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পর তাদের অনেকে আবার চাকরিতে ফিরেছেন।

এখন প্রশ্ন উঠছে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা পাওয়া কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক বিবেচনায় ফিরিয়ে নেওয়ার এই সংস্কৃতি প্রশাসনকে কী বার্তা দিচ্ছে?

একই সময়ে বর্তমান সরকারও অনেক কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত কিংবা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে। অনেকে এখনো বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে আছেন। ফলে এক সরকারের নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা পরের সরকার এসে বাতিল করলে প্রশাসনের শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা কতটা বজায় থাকে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জনপ্রশাসন ও আমলাতন্ত্র বিষয়ে অভিজ্ঞদের মতে, এসব ঘটনায় যোগ্যতা ও দক্ষতার চেয়ে সরকারের পছন্দ-অপছন্দ এবং রাজনৈতিক বিবেচনা বেশি গুরুত্ব পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

সাবেক সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান বলেন, সব সরকারের সময়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। দলীয় ও রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে বিদায় করা হলে সরকার পরিবর্তনের পর তাদের ফিরে আসার পথ তৈরি হয়। আবার রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে ফিরিয়ে আনলে তা রাজনৈতিক দৌরাত্ম্যকে আরো শক্তিশালী করে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়ার মতে, সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ছাড়া রাজনৈতিক বিবেচনায় বা সরকার পরিবর্তনের পর কাউকে ফিরিয়ে এনে পদে বসানো হলে সেটি অনিয়ম। রাজনৈতিক আনুকূল্য পাওয়া ব্যক্তিরাই সাধারণত এ ধরনের সুবিধা পান বলে মনে করেন তিনি।

এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করেছেন রাষ্ট্রপতি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তির জন্য ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছিলেন।

২০২৫ সালের জুনে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে এনবিআরে নজিরবিহীন আন্দোলন হয়েছিল। ওই আন্দোলনের কারণে দেশে রাজস্ব কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছিল।

আন্দোলনের একপর্যায়ে এসব কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। তবে তারা প্রকাশ্যে বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলেন। পরে বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের কাউকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কারো বেতনও কমিয়ে দেওয়া হয়।

এখন রাষ্ট্রপতির আদেশে সেই শাস্তি বাতিল করা হয়েছে।

এর মাত্র কয়েক মাস আগে সরকারি কর্মচারীদের জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়। এতে দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে। আইনে নতুন একটি ধারা যুক্ত হয়েছে। সেখানে জনসেবার কার্যক্রম ব্যাহত করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

এ কারণে এনবিআরের কর্মকর্তাদের শাস্তি মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে জনসেবার কার্যক্রম ব্যাহত করার বিরুদ্ধে কঠোর আইন করা হয়েছে। অন্যদিকে সেই ধরনের কর্মকাণ্ডে শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তাদের শাস্তি পরে মওকুফ করা হয়েছে।

এ ধরনের ঘটনা কি নতুন?

দীর্ঘদিন সরকারি চাকরি করেছেন এমন ব্যক্তিদের অনেকের মতে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরবর্তী সরকারের সময়ে তা বাতিল করে দেওয়ার রেওয়াজ বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের।

গত ১ জুলাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতি পাওয়া ও বরখাস্ত হওয়া ১৫০ কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে চাকরিতে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক অবসর, বাধ্যতামূলক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও পাবেন।

এ ছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক উপপুলিশ কমিশনার মো. ওবায়দুর রহমান খানের চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশ ১১ বছর পর গত ৬ আগস্ট বাতিল করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে ১০ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাকরিচ্যুত, বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া কিংবা স্বাভাবিক অবসরে যাওয়া অনেক কর্মকর্তাকেও চাকরিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

এর মধ্যে ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বরখাস্ত হওয়া ৮৫ নির্বাচন কর্মকর্তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন কারণে চাকরি হারানো ১ হাজার ৫২২ পুলিশ সদস্যকে চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তবে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছিল, নৈতিক স্খলন, আর্থিক দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগে ফৌজদারি মামলা থাকা ব্যক্তিদের এ প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হয়নি।

একদিকে ফেরানো, অন্যদিকে সরানো

অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপি সরকারের গত কয়েক মাসে পুলিশ ও জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন খাতের অনেক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

জুলাইয়ের শেষে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জেলা প্রশাসকসহ (ডিসি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ৩২ যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। পুলিশ প্রশাসনেও বহু কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মকবুল হোসেনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তার বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী অবসরের কথা বলা হয়েছিল। এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর যেকোনো সময় সরকার জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে কোনো কারণ না দেখিয়েই তাকে অবসর দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিধানসহ বিভিন্ন আইনি ক্ষমতা রাজনৈতিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

ন্যায়বিচার না রাজনৈতিক আনুকূল্য?

সাবেক সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান বলেন, শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়াতেই অনেক সময় ভুল থাকে। কখনো কারো ব্যক্তিগত জেদের ভিত্তিতেও শাস্তির সিদ্ধান্ত হতে পারে।

তার মতে, কেউ দুর্নীতি, অসদাচরণ বা অন্যায় করলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। শোকজ, তদন্ত কমিটি এবং বড় শাস্তির ক্ষেত্রে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত নেওয়াসহ সব প্রক্রিয়া শেষ করে শাস্তি দেওয়া হলে তা নিয়ে প্রশ্ন কম থাকে।

২৫ বছর চাকরি পূর্ণ হলে অবসর দেওয়ার বিধানকে তিনি ‘কালাকানুন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এই বিধান ব্যবহার করে দলীয় ও রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে সরিয়ে দিলে সরকার পরিবর্তনের পর তার ফিরে আসার পথ তৈরি হয়।

আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান বলেন, অন্যায় করলে বিচার হতে হবে। কিন্তু অন্যায্য আদেশ হলে প্রশ্ন উঠবেই। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের এভাবে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া তাদের হতাশ করে, দক্ষতা কমায় এবং আমলাতন্ত্রে দলীয় দৌরাত্ম্য তৈরি করে।

তার মতে, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকা ভালো। তবে সেই প্রক্রিয়াতেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতি হয় রাষ্ট্রের।

মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়ার মতে, কোনো কর্মকর্তাকে বিভাগীয় মামলায় দণ্ড দেওয়া হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আপিল বা রিভিউ করতে পারেন। দণ্ড বহাল থাকলে তা চূড়ান্ত হয়। এরপর তিনি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে যেতে পারেন। সেখান থেকে আপিল বিভাগেও যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তার মতে, এই প্রক্রিয়ার বাইরে রাজনৈতিক বিবেচনায় বা সরকার পরিবর্তনের পর কাউকে ফিরিয়ে এনে পদে বসানো অনিয়ম। কোনো আইন বা বিধি এ ধরনের সিদ্ধান্তকে বৈধতা দেয় না।

তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক আনুকূল্য পাওয়া ব্যক্তিরাই সাধারণত এসব সুযোগ পান। এ কারণেই প্রশাসনের রাজনীতিকরণ বন্ধ হচ্ছে না। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দক্ষ ও নিরপেক্ষ আমলাতন্ত্র গড়ে তোলাও কঠিন হবে।

ফলে শাস্তি দেওয়া এবং পরে সেই শাস্তি বাতিল করে কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনার ধারাবাহিকতা শুধু ব্যক্তির চাকরি ফিরে পাওয়ার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থার প্রশ্নও।

সূত্র: বিবিসি বাংলা




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD