বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিমানবহর সম্প্রসারণ কর্মসূচিতে এই চুক্তিটি আরও একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। জাতীয় পতাকাবাহী এই এয়ারলাইন্সের ভবিষ্যৎ বহরের বড় অংশের জন্য মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং এবং ইউরোপীয় মহাকাশ ও বিমান নির্মাতা জায়ান্ট এয়ারবাসের মধ্যে চলমান প্রতিযোগিতার মধ্যেই এই চুক্তিটি হতে যাচ্ছে।
অতিরিক্ত ১১টি বিমান সংগ্রহের বিষয়টি বিমানের সেই ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হবে, যা গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি বিমানের (আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮) জন্য স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
বুধবারের এই চুক্তির ফলে বিমানের বোয়িং বিমান সংগ্রহের পরিকল্পনাটি মোট ২৫টি বিমানে উন্নীত হবে। তবে অতিরিক্ত ১১টি বিমানের মডেল, মূল্য, অর্থায়নের ব্যবস্থা এবং হস্তান্তরের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এয়ারবাস কেনার পরিকল্পনা রাজনৈতিক ছিল না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে। তিনি বলেন, ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ভালো সম্পর্ক নির্ধারণে এয়ারবাস ইস্যুতে ঢাকার সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের প্রায় ৫০ শতাংশ তৈরি পোশাক ইউরোপে রপ্তানি হয়, ফলে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশেরও বড় স্বার্থের বিষয়।
বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি নিয়ে ফ্রান্স বা ইউরোপ উদ্বিগ্ন নয় বলেও জানান জঁ-মার্ক সেরে-শারলে। তিনি বলেন, ফ্রান্স কিংবা ইউরোপ কোনো চাপিয়ে দেয়া সম্পর্কে বিশ্বাস করে না। বরং বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে ইউরোপ সত্যিকারের আস্থাশীল অংশীদার হতে চায়। ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে এয়ারবাস গুরুত্বপূর্ণ।
এক প্রশ্নের জবাবে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, জুলাই চার্টার অনুযায়ী বাংলাদেশের সংস্কারের দিকেও নজর রাখছে ফ্রান্স। বাংলাদেশের গণমানুষ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে ফ্রান্স সবসময় নিজেদের মতামত সরকারের সামনে তুলে ধরে।
এ সময় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা মিশনেরও প্রশংসা করেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে।