জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন স্টেনোটাইপিস্ট খুলনায় প্রক্সি পরীক্ষা (অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেওয়া) দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন। আটক তৃতীয় শ্রেণির ওই কর্মচারীর নাম মো. জাহিদুল ইসলাম সোহাগ। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার। আটক সোহাগ জিজ্ঞাসাবাদে প্রক্সিকাণ্ডে আরও একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন। অভিযুক্ত সোহাগকে ফৌজদারি মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত তদন্ত শেষে রিপোর্টে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে জানান কমিশনার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। প্রক্সি ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মন্ত্রণালয়ের অপর এক পদস্থ কর্মকর্তা জানান, মো. জাহিদুল ইসলাম সোহাগের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে। সে এককভাবে এ অপকর্মে জড়িয়েছে নাকি আরও কেউ ঘটনার সঙ্গে জড়িত-আশা করি তদন্তে বেরিয়ে আসবে। সে আলোকে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রক্সি পরীক্ষা দিতে গিয়ে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আটক মো. জাহিদুল ইসলাম সোহাগ ২০২০ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে স্টেনোটাইপিস্ট পদে চাকরিতে প্রবেশ করে। ধারণা করা হচ্ছে, এই চক্রে আরও অনেকে জড়িত।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অপর এক কর্মকর্তা জানান, কমপক্ষে ২৩ জন নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী নানা ধরনের অপকর্মের জড়িত রয়েছে এমন তথ্যও রয়েছে। এরা দেশব্যাপী সরকারি নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও পদায়ন বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অনেক বছর ধরেই তারা এ ধরনের অপরাধ করছে। এদের বিরুদ্ধে একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে গোপনে তদন্ত চলছে। তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দপ্তর থেকে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের কাছে ফোন করে তারা তদবির করে। নিজেদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে টাকার বিনিময়ে কাজ করেন তারা। ওই কর্মকর্তার তথ্য মতে, কিছু কর্মকর্তা কর্মচারী আছেন যারা মাঠ পর্যায়ে কর্মরত প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ গায়েব করে দেয়। বিনিময়ে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে তার কাছ থেকে সুবিধা নেয়। মাঠ প্রশাসনে কর্মরতদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক মাখামাখি। খুলনায় স্টোনোটাইপিস্ট আটকের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর অনেকেই আতঙ্কে পড়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অপর কর্মকর্তা বলেন, জাহিদুল ইসলাম সোহাগের সঙ্গে আর কারা জড়িত তাদের তথ্য বের করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থাও (এনএসআই) বিষয়টি তদন্ত করছে। শিগগিরই এই চক্রের অনেকের বিষয়ে জানা যাবে বলে ধারণা দেন তিনি। এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা কর্মচারীরা বলছেন, অপরাধ যে করুক আইন অনুসারে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অভিভাবক মন্ত্রণালয়। এখানে কোনো চোর বা দুষ্টচক্র থাকা ঠিক না। এতে করে মন্ত্রণালয়ের বদনাম হয়। তারা বলেন, এই মন্ত্রণালয়ে চাকরি করি-এখন পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করি। তারা আরও জানান, গত মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রক্সি-পরীক্ষা দিতে এসে প্রথমে ছয় জন এবং চাকরিতে যোগদান করতে এসে আরও চার জন গ্রেফতার হন। তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলাও হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ ঘটনার সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কেউ না কেউ জড়িত রয়েছে।
(যুগান্তর)