‘বাংলাদেশে যেভাবে সরকার উৎখাত করা হয়েছে, ভারতেও তেমন চক্রান্ত চলছে’— ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের এমন বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, কোনো দেশ অন্যায় ও অবৈধভাবে পরিচালিত হলে সেখানে আন্দোলন, গণজাগরণ ও জনগণের অভ্যুত্থান ঘটে। পার্শ্ববর্তী দেশে কী হচ্ছে, না হচ্ছে, সেটা নিয়ে বলার নেই। যখন বাংলাদেশকে ইঙ্গিত করে বলা হয়, তখন তো আমাদের কথা বলার আছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। মধ্যরাতের নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কার্যত অকার্যকর করে তোলা হয়েছিল। জনগণ ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার হারিয়েছিল। বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় নিজের লোক বসিয়ে তিনি দুঃশাসন কায়েম করেছিলেন।
তিনি বলেন, দেশ যদি অন্যায়-অবৈধভাবে চলে, তাহলে আন্দোলন, গণজাগরণ এবং জনগণের উত্থান তৈরি হয়। তাতে যারা অপরাধ করে, সেই শাসকদের পালিয়ে যেতে হয়। এটাই সত্য কথা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, শেখ হাসিনা বৈধভাবে ক্ষমতায় ছিলেন না। বারবার ভোটকে জলাঞ্জলি দিয়ে ক্ষমতায় টিকে ছিলেন তিনি। এ কারণে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রিজভী বলেন, কোনো অন্যায় পার পাবে না। বেআইনিভাবে হত্যা আমাদের এই দেশে কখনোই সম্ভব হবে না। ন্যায়বিচার হবে এবং আইন-আদালতের মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
অনুষ্ঠানে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সারের সরবরাহে সৃষ্ট সংকট নিয়েও কথা বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী সরকারি প্রশাসন ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন আনন্দঘন পরিবেশে উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য বিএনপির নেতারা সারা দেশে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।
সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডের সমালোচনার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে। তবে সমালোচনার নামে জনগণকে বিভ্রান্ত না করে সত্য ও ন্যায়সংগত কথা বলা উচিত।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানিতে বাধা তৈরি হলেও সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি ও সার সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।