শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৬ অপরাহ্ন




বিশ্বব্যাংকের কাছে ১৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ চায় সরকার

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১:০০ pm
World Bank WB বিশ্বব্যাংক বিশ্ব ব্যাংক
file pic

দেশের অর্থনীতিতে বিরাজমান চাপ মোকাবিলা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে বিশ্বব্যাংকের কাছে মোট ১৩.৭৭ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের কাছে ২.৭৭ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প অর্থায়ন এবং অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া আগামী তিন বছরে ‘রেজিলিয়েন্স, রিফর্ম অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ’ (আরআরআইপি) নামক একটি প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক সহায়তার মূল লক্ষ্য হলো—সাশ্রয়ী মূল্যে এলএনজি আমদানির পাশাপাশি দেশের নাজুক ব্যাংক খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা, রাজস্ব আহরণে গতি ফেরানো এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মেগা অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় সভায়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রথম এই ১০ বিলিয়ন ডলারের আরআরআইপি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে গত ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বার্ষিক সম্মেলনে, বিভিন্ন প্রকল্পের রূপরেখাসহ এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা-২০২৬ এর বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই কৌশলগত অংশীদারত্বকে চূড়ান্ত রূপ দিতে—আগামী ৬০ দিনের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), বিশ্বব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি কারিগরি টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুপক্ষ। আগামী বছরের জুনের মধ্যে এই চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

ব্যাংককে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে ১২ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জানা গেছে, সম্মেলন চলাকালে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশনস) অ্যানা বিয়ার্ড এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোয়েল বার্লির সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেন। এসব সভায় বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২.৭৭ বিলিয়ন ডলারের ১০টি পাইপলাইনভুক্ত প্রকল্প নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে তুলনামূলক স্বল্পমূল্যে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি আমদানির জন্য বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা—ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) গ্যারান্টি হিসেবে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছে সরকার। এছাড়া ব্যাংকিংসহ আর্থিক খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রোগ্রাম-২’-এর অধীনে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি সহায়তা প্রকল্পের জন্য আরও ৩০০ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সরকারের তিনটি অগ্রাধিকার প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রকল্পগুলো হলো—ঢাকা-চট্টগ্রাম কর্ডলাইন (রেল) স্থাপন, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং ঢাকা ইনার সার্কুলার রিং রোড। এর পাশাপাশি, ঢাকার চারপাশে নদী ও খাল পুনরুদ্ধার ও দূষণ সংক্রান্ত আমব্রেলা ইনভেস্টমেন্ট প্রজেক্টে (ইউআইপি) অর্থায়নের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আরআরআইপি কাঠামোর অধীনে, বিশ্বব্যাংকের নিয়মিত সহায়তার বাইরে তিন বছরে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের যে অর্থায়ন চাওয়া হয়েছে, তা চারটি প্রধান ক্ষেত্রে বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

এর মধ্যে সরকার জ্বালানি তেল ও সারসহ জরুরি আমদানির অর্থায়নের চাহিদা মেটাতে ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে। উদ্যোক্তাদের বাণিজ্য সুবিধা এবং কর্মসংস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পকে (এমএসএমই) সহায়তা করতে ১.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যবহার করা হবে। ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং আর্থিক খাতের পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যয় করা হবে ৩ বিলিয়ন ডলার, আর বাকি ১.৫ বিলিয়ন ডলার আপৎকালীন ও কো-ফাইন্যান্সিং ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের পরবর্তী ‘কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক’ (সিপিএফ)-এর মধ্যে এই আরআরআইপি রূপরেখাকে অন্তর্ভুক্ত করতে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। জানা গেছে, ব্যাংককে অবস্থানকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ প্যাকেজ নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নেন। আইএমএফ বিশেষ করে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো এবং ব্যাংকিং খাতের তীব্র মূলধন ঘাটতি দূর করার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে—অবিলম্বে কাঠামোগত সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, আইএমএফের ঋণের ক্ষেত্রে বেশকিছু কঠোর শর্ত বা ‘পারফরম্যান্স ক্রাইটেরিয়া’ বহাল থাকবে। আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে কিছু সমস্যা সমাধান করা হবে উল্লেখ করে তিনি জানান যে, পরবর্তী আলোচনার জন্য আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আইএমএফের কারিগরি দল ঢাকা সফরে আসছে।

অন্যদিকে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের সাইডলাইনে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বেসরকারি খাতবিষয়ক সংস্থা—ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। সংস্থাটির সঙ্গে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে সংস্কার, পুনর্মূলধনীকরণ, বাণিজ্য অর্থায়ন এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এছাড়া বিভিন্ন বৈশ্বিক ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পৃথক বৈঠকগুলোয় ব্যাংকিং সংস্কার, বিনিময় হারের নমনীয়তা এবং মুদ্রানীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। আমার দেশ




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD