মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন




নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ২:৫২ pm
Tarique Rahman তারেক রহমান Bangladesh Nationalist Party BNP ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি
file pic

নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সমস্যা এখনও চলছে। বিগত ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা না করে, কীভাবে আগামীতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার।

তিনি জানান, সৌর বিদ্যুৎ সম্প্রসারণে ১৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে সরকার। এক বছরের মধ্যে দেশের ১৭ হাজার সেচ পাম্পকে সৌর বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসা হবে। বছরে সৌর বিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করা হবে। আগামী গ্রীষ্মের আগে জাতীয় গ্রীডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ যোগ হবে।

বিগত সময়ে দেশকে সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিলো উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থের অভাবে যাতে উদ্যোক্তারা পিছিয়ে না যায়, সেই জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে অর্থায়ন সহজ করতে সরকার প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করেছে। পর্যায়ক্রমে এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা যেন শুধু অর্থের অভাবে পিছিয়ে না পড়েন, সরকার তা নিশ্চিত করতে চায়। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণ সহজ করতে ইতিমধ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিভিন্ন নীতিসহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে।

উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন ও প্রণোদনা
তারেক রহমান বলেন, সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে নতুন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে তরুণেরা কাজ করছেন। সম্প্রতি একটি প্রতিযোগিতায় তিন শতাধিক তরুণ-তরুণী তাদের নতুন ধারণা উপস্থাপন করেছেন। তাদের সবাইকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীর বাংলাদেশে জ্ঞানের পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণার প্রতিযোগিতাও চলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি উদ্ভাবনী ধারণা বাংলাদেশের জন্য গেম চেঞ্জার হতে পারে। অর্থের অভাবে যেন তরুণদের কোনো উদ্ভাবনী উদ্যোগ হারিয়ে না যায়, সে জন্য চলতি বাজেটে স্টার্টআপের জন্য বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগানোর প্রত্যাশা করছে সরকার। নেট মিটারিং ব্যবস্থায় নিজস্ব ব্যবহারের পর বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এভাবে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুৎ সরকার প্রণোদনাসহ ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানানোর আগে তিনি নিজেও তাঁর বাসায় সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন। সেখান থেকে ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতেও সক্ষম হয়েছেন।

জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল। ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকার ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরেও বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় একই রকম রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিজেলের মজুত বাড়ানো হয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লার সরবরাহ ও মজুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইতিমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে অতীতের সরকারগুলোর ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় সময়ক্ষেপণের পরিবর্তে কীভাবে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো যায় এবং বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, সেটিই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, জনগণের ভোগান্তির বিষয়ে সরকার সচেতন। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও চুক্তি পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের বিষয়ে সরকার একযোগে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি মানুষের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। উদ্যোক্তারাই এ উদ্যোগের মূল চালিকাশক্তি।

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সরকারের দায়িত্ব। অন্যদিকে বিদ্যুতের সঠিক ও সাশ্রয়ী ব্যবহার জনগণের দায়িত্ব। দিনের বেলায় যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ব্যবহার এবং বাসা, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনে বাতি, পাখা ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হবে না। সূর্যের আলোকে দেশের সম্পদে পরিণত করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD