সার্স কোভিড-২ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জিনোম গঠন পরিবর্তন হতে পারে যা তাদের অনাক্রম্যতা কমিয়ে দীর্ঘ কোভিডের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নেচার মাইক্রোবায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় এমনটা দেখা গেছে। গবেষণা অনুসারে, ভাইরাসটি ক্রোমাটিনকে আক্রমণ করতে পারে, যেখানে আমাদের কোষে জেনেটিক উপাদানগুলি সংরক্ষণ থাকে। গবেষণায় বলা হয়েছে, কিছু ভাইরাস আমাদের কোষে ক্রোমাটিন পুনরোৎপাদন পদ্ধতি পরিবর্তন করে দিতে পারে।
সার্স কোভিড-২ আমাদের ক্রোমাটিনকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে তা আগে অজানা ছিল। গবেষণার সিনিয়র লেখক এবং হিউস্টনের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস হেলথ সায়েন্স সেন্টারের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ওয়েনবো লি বলেছেন- ‘আমরা দেখতে পেয়েছি যে একটি স্বাভাবিক কোষের অনেকগুলি সুগঠিত ক্রোমাটিন গঠন কোভিড সংক্রমণের পরে অসংগঠিত হয়ে যায়।’
তিনি এক ধরনের ক্রোমাটিন গঠনের উদাহরণ দিয়েছেন যাকে এ/বি কম্পার্টমেন্ট বলা হয়। লি-এর মতে, আমাদের ক্রোমাটিনের ইয়িন এবং ইয়াং অংশের সাথে এটি সাদৃশ্যপূর্ণ হতে পারে। ‘একজন ব্যক্তি সার্স কোভিড-২-এ আক্রান্ত হওয়ার পরে তারা দেখতে পান যে ক্রোমাটিনের ইয়িন এবং ইয়াং অংশগুলি তাদের স্বাভাবিক আকার হারিয়ে ফেলে এবং একসাথে মিশে যেতে শুরু করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সার্স কোভিড-২ দ্বারা শুধুমাত্র আকৃতিই নয় বরং ক্রোমাটিনের রাসায়নিক গঠনও পরিবর্তন হতে পারে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী বিজ্ঞানী সিয়াওয়ি ইউয়ানের মতে, ‘ক্রোমাটিনের রাসায়নিক পরিবর্তনগুলো জিনের অভিব্যক্তি এবং ফেনোটাইপগুলিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। গবেষণার নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে হোস্ট ক্রোমাটিনের ওপর ভাইরাল প্রভাবগুলো আমরা জানতে পেরেছি যা কোভিডের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
‘ক্রোমাটিনের মিশ্রণ ইন্টারলেউকিন-৬-এর মতো কিছু মূল জিনের পরিবর্তনের কারণ হতে পারে। ইন্টারলিউকিন-৬ একটি উল্লেখযোগ্য প্রদাহ জিন। ক্রোমাটিনের এই মিশ্রণ ও পরিবর্তন গুরুতর কোভিড-১৯ রোগীদের মধ্যে সাইটোকাইন স্টর্মের কারণ হতে পারে। সাইটোকাইন স্টর্মের জেরে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং শরীর থেকে খুব দ্রুত সাইটোকাইন নিঃসরণ হয়ে যায়।
পিটিআই-কে লি বলেছেন- ‘এই গবেষণাটি আমাদের কাছে ব্যাখ্যা করেছে যে কীভাবে সার্স কোভিড-২ আমাদের ক্রোমাটিনকে পরিবর্তন করে কোভিড-১৯ উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে। এই গবেষণা ভবিষ্যতের কাজে আমাদের ফোকাস করতে সাহায্য করবে। গবেষকরা আরও আশা করেন যে এই ফলাফলগুলো ভবিষ্যতের গবেষণা এবং ভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বোঝার পথ তৈরি করতে পারে।