সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন




টিসিবির পণ্য নিতে রাত ১টা থেকেই নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন

আউটলুকবাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৩ ১১:১৫ am
Shopping Trading Corporation Of Bangladesh TCB ট্রেডিং কর্পোরেশন করপরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবি
file pic

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের নাভিশ্বাস। রমজান ঘিরে নিত্যপণ্যের দাম আরও বেড়েছে। বিপাকে পড়েছেন স্বল্প-আয়ের মানুষ। এ অবস্থায় সাশ্রয়ী মূল্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য পেতে রাত ১টা থেকেই সরবরাহ গুদামের সামনে ভিড় করতে দেখা গেছে শত শত নারী ও পুরুষকে।

রোববার মধ্যরাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬০ নম্বর ওয়ার্ডে জনতাবাগ কাউন্সিলরের বাসার নিচে টিসিবির একটি পণ্য সরবরাহ পয়েন্টে এমন চিত্র দেখা যায়।

ওই ওয়ার্ডে টিসিবির ডিলার এএইচ এন্টারপ্রাইজের পণ্য আসে শনিবার রাত সাড়ে ৮টায়। পর দিন সকাল ৯-১০টায় পণ্য বিক্রি করা হবে। সেটি জেনেও ৮-৯ ঘণ্টা আগেই কেউ রাত ১টা, কেউ রাত ৩টা কেউ আবার সেহরি খেয়েই লাইনে দাঁড়িয়ে যান ওই এলাকার ফ্যামিলি কার্ডধারী ক্রেতা নারী-পুরুষ।

ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য বিক্রিতে বিশৃঙ্খলার কারণে টিসিবির সরবরাহকারীর মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে পণ্য বিক্রি করছে সরকার। ফ্যামিলি কার্ড নিয়েও সরবরাহকারীর দোকানের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে পণ্য না নিয়ে খালি হাতে বাসায় ফিরে যান।

রোববার রাত ১টায় লাইনে দাঁড়ানো মাহবুব, নজরুল ইসলাম, মোসলেম, শাহাজান বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। টিসিবির পণ্য স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায়। সে কারণে টিসিবির পণ্য কিনতে আসছি। শনিবার সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উত্তপ্ত রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য নিয়ে বাসায় যেতে পারিনি। সে কারণে আজ রোববার রাত ১টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি।

মুক্তা, মোরশেদা, হোসনে আরা, লিপিসহ একাধিক নারী একই কথা বললেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, বিগত পণ্য বিক্রির দিনে ২-৩ দিন ধরে ৬-৭ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য ক্রয় করতে না পেরে খালি হাতে বাসায় যেতে হয়েছে।

তারা আরও বলেন, ওয়ার্ডের ফ্যামিলি কার্ডধারী লোকজন বেশি। ডিলাররা পণ্য বিক্রির সময় একটি বুথের মাধ্যমে টাকা নেন, কার্ডে স্বাক্ষর দেন, পণ্য দেন। সে কারণে ভোগান্তি হয়। মানুষের সমাগম অনুযায়ী পণ্য বিক্রির বুথের সংখ্যা বাড়ানো হলে ভোগান্তি কমে যেত। মানুষের ভোগান্তি দেখেও ডিলার এবং কাউন্সিলর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, এখানে স্বজনপ্রীতিই চলে বেশি। কাউন্সিলরের লোকজন লাইনে না দাঁড়িয়ে যখন খুশি তখন এসে পণ্য নিয়ে যান। আর যারা মধ্যরাতে, ভোররাতে ৭-৮ ঘণ্টা আগে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তারা শুরুতে যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকেন। পণ্য ক্রয় ভাগ্যে জোটে না।

৬০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন মজুমদার কিছুটা অসুস্থ থাকার কারণে তার ছোটভাই নুরুল ইসলাম মজুমদারই ওয়ার্ডের সব কাজ করে আসছেন দীঘদিন যাবত। নুরুল ইসলাম বলেন, বিগত দিনে টিসিবির পণ্য বিক্রিতে মানুষের কিছুটা ভোগান্তি হয়েছে শনিবার তা হয়নি। আশা করি রোববার পণ্য বিক্রিতেও মানুষের কোনো ভোগান্তি হবে না।

টিসিবির ডিলার এএইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক ফাহাদ বলেন, এখানে ৬০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের লোকজন পণ্য বিক্রিতে আমাদের সহায়তা করেন। তারা যেভাবে বলে সেভাবেই আমি পণ্য বিক্রি করি। সে ক্ষেত্রে মানুষের ভোগান্তি হলে আমার কি করার থাকে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD