শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন




জ্বালানি সরবরাহ ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: নসরুল

আউটলুকবাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৯ মে, ২০২৩ ৯:০৭ pm
Minister for the Ministry of Power, Energy, and Mineral Resources Nasrul Hamid বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ
file pic

দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট কতটা গভীর, তার একটি ধারণা দিলেন এর দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ; সেই সঙ্গে সংকট কেটে যাওয়ার আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

সোমবার এক সংলাপে তার কথায় ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে কয়লা, তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি আসে।

ডলার সংকটের কথাও এসেছে নসরুলের কথায়। দেশে গ্যাস উত্তোলন বাড়াতে অর্থের প্রয়োজনের কথাও বলেছেন তিনি।

চলমান সংকট কাটার আশা প্রকাশের সঙ্গে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ২ হাজার মেগাওয়াটে নেওয়ার কথাও তিনি বলেছেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল সোমবার বিদ্যুৎ ভবনে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারীদের চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সংলাপে বক্তব্য রাখেন।

জ্বালানি বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন এফইআরবি এবং বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৭ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধায় আনার ঘোষণা সরকার দিলেও জ্বালানির বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সেই সাফল্যে ছেদ ঘটিয়েছে। বিদ্যুতের লোড শেডিং যেমন বেড়েছে, বাড়ছে তেল-গ্যাসের দামও।

সংলাপে নসরুল বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলেছে। সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা পরিকল্পনা মাফিক চললেও প্রাথমিক জ্বালানির ধারাবাহিক সরবরাহ চ্যালেঞ্জে পড়েছে।

“কোভিডের দুই বছর এবং এরপর ইউক্রেইন যুদ্ধ সারাবিশ্বে জ্বালানি খাতে মারাত্মকভাবে প্রভাব ফেলেছে। আগামীতে এই সংকট কীরকম হবে, সেটা বলা যাচ্ছে না।

সরকার বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকে এগোনোর সময়ই ধাক্কা খেতে হয়েছে বলে তার ভাষ্য।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যখনই আমাদের কয়লার পাওয়ার প্লান্টগুলো আসল, তখন কয়লার দাম বেড়ে গেল। যে কয়লার দাম ৬০ ডলার ছিল, সেটা সাড়ে ৪০০ ডলার হয়ে গেল। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আসল। তখন স্পট গ্যাসের দাম ৭ ডলার থেকে ৬৭ ডলার হয়ে গেল। তেলের দামও বেড়ে গেল ১৪০, ১৫০ এমনকি ১৬০ ডলার।

“সেই ধাক্কাটা গত একটা বছর মারাত্মকভাবে গ্যাপ তৈরি করেছে। এর প্রভাবটা আমরা এখন বুঝতে পারছি।”

ডলার সংকটের কথা সরাসরি উল্লেখ না করে নসরুল বলেন, “সারাবিশ্বেই এখন বৈদেশিক মুদ্রার সমস্যা, অর্থনীতির সমস্যা। আমাদের দেশও এর বাইরে না। আমাদের হাতে সব ব্যবস্থা করা আছে। পাওয়ার প্লান্ট আছে, ট্রান্সমিশন লাইনও আছে, কিন্তু জ্বালানির ঘাটতি আছে।”

এই পরিস্থিতিতে নিজস্ব কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন বাড়ানো এবং সৌর বিদ্যুতে জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

“নিজস্ব জ্বালানির নিশ্চয়তার কথা অনেকে বলছেন। আমিও মনে করি, নিজস্ব গ্যাসের সম্ভাবনা অবশ্যই আছে। কিন্তু একটা কূপ খনন করতে গেলে ৯ থেকে ২১ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হয়। ১০টা কূপ খনন করতে গেলে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। তারপর বাপেক্সের রিগ আছে মাত্র ৩টা। কোভিডের কারণে ঠিকাদাররাও আাসে নাই। এভাবে সবকিছুই একটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে।”

দেশে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন ১০০ মেগাওয়াটেরও কম হলেও দুই বছরে তা ২ হাজার মেগাওয়াটে নেওয়ার আশার কথা শোনান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমরা ড্রাস্টিক মেজার হাতে নিয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে সোলার থেকে আমরা দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করব। আমাদের কাছে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুতের অফার আছে। পাশাপাশি নেপালের সোলার পাওয়ার আসছে।”

তবে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে কছু সমস্যা দেখিয়ে তিনি বলেন, “১০০ মেগাওয়াট সোলার প্লান্ট করতে গেলে প্রায় ৩০০ একর অকৃষি জমি প্রয়োজন। দুই হাজার মেগাওয়াট করতে গেলে লাগবে ছয় হাজার একর জমি।

“কিন্তু তারপরেও কিছু কিছু সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে। পাঁচ বছর আগে প্রতি ইউনিট ১৬ সেন্ট, ১৭ সেন্টে অফার করলেও বিনিয়োগকারীরা তেমন আগ্রহী হয় নাই। এখন প্রতি ইউনিট ৯ সেন্টেও অনেক অফার পাচ্ছি। তাই হতাশ হওয়ার কারণ নেই, হবে।

“গ্যাস এখন নতুন একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী ২/৩ বছরের মধ্যে ৬০০ থেকে ৭০০ এমএমসিএফডি দেশীয় গ্যাস পাওয়ার দিকে আমরা যাচ্ছি।”

গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে সরকারের সমালোচনা যারা করছেন, তাদের কাছে ‘তথ্যগুলো সঠিকভাবে নেই’ বলে মনে করেন নসরুল।

ধৈর্য ধরার আহ্বান

সরকার বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ কিনে থাকে। তবে ডলার সংকটের কারণে তাদের পাওনা জমে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন জানান, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে তাদের ১৮ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।

তা শুনে তাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী নসরুল বলেন, “একটার পর একটা চ্যালেঞ্জ আসছে। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অনেক বকেয়া পড়ে গেছে। আমাদের খারাপ সময়ে এগুলো সাপোর্ট দিয়েছে। এই টাকা তো তারা পাবেই। হয়ত আজকে, না হয় কালকে।

“তবে এই মুহূর্তে তাদেরও চিন্তা করা উচিৎ। দেশ তো সবার। অনেকে বলেন যে, টাকা কেন দিতে পারে না, এটা তো ডলার না। তারা তো তেল কিনে ডলার দিয়ে। টাকা দিয়ে তো লাভ নেই। আমরা তো ডলার খরচ করি তেল কেনার জন্যে। এই কারণে একটু ধৈর্য্ ধরতে হবে টাকার জন্য।”

এই পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি হয়ত আমাদের এরকম থাকবে না। আমি মনে করি, হতাশার কিছু নাই। পরিস্থিতি ভালো হয়ে যাবে। হয়ত আমরা আজকে কয়লা আনতে পারছি না, কালকে নিয়ে আসতে পারব। এটা আমরা ব্যবস্থা করতেছি।”

এফইআরবির নির্বাহী পরিচালক রিসান নসরূল্লাহর সঞ্চালনায় ও এফইআরবির চেয়ারম্যান শামীম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে সংলাপে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন, বুয়েটের অধ্যাপক এজাজ হোসাইন, বিইআরসির সাবেক সদস্য মো. মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী, ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের বিশ্লেষক শফিকুল আলম ও বিআইপিপিএ সভাপতি ফয়সাল খান বক্তব্য রাখেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD