কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এবার দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলিতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও আরাকান সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহতদের সবাই আরসার সদস্য।
এর আগে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের ডেকে আনতে গিয়ে মো. এবাদুল্লাহ (২৭) নামে এক রোহিঙ্গা মাঝি (নেতা) ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম আসাদ আহমাদ খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এর একদিন পর এই গোলাগুলির ঘটনা ঘিরে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
রোহিঙ্গাদের দাবি, আরসার সন্ত্রাসীরা মিয়ানমার সরকারের ইন্ধনে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও আন্তর্জাতিক আদালতের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে কাজ করছে। এবাদুল্লাহকে তারাই হত্যা করেছে। এবার মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের ভয় দেখাতে এসে গোলাগুলিতে তাদের লোকই মারা যায়।
৮ এপিবিএন-এর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আমির জাফর বলেন, ভোর ৫টার দিকে উখিয়ার ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টে আরসা ও আরএসও-এর গোলাগুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তিনজনের লাশ পাওয়া যায়। আহত তিনজনকে হাসপাতালে নিলে তারাও মারা যান। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার নিহতরা হলেন আরসা কমান্ডার ক্যাম্প-১০-এর বাসিন্দা মো. নজিমুল্লাহ, আরসার জিম্মাদার ক্যাম্প-১৩-এর নুরুল আমিন (২৪), আরসার সদস্য ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন (২৪), সানাউল্লাহ ও মোহাম্মদ হামীম (১৬)। অপরজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এপিবিএন পুলিশ ও রোহিঙ্গা সূত্র জানায়, ভোরে আরসার ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টে আসে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ঘুমন্ত আরএসও সদস্যদের ওপর হামলা করা। কিন্তু আরএসও-এর সদস্যরা আগে থেকেই হামলার খবর পেয়ে ভারী অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত হয়। ভোর ৫টার দিকে আরসার সদস্যরা ক্যাম্পে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে চারদিক থেকে ঘিরে এলোপাতাড়ি গুলি করে আরএসও-এর প্রশিক্ষিত যোদ্ধারা। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে দুই পক্ষই পালিয়ে যায়।
৮ এপিবিএন-এর সহকারী পুলিশ সুপার (অপারেশন অ্যান্ড মিডিয়া) ফারুক আহমেদ বলেন, নিহতরা সবাই সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসার সদস্য বলে জানতে পেরেছি। তিনি বলেন, আরসা সব সময় রোহিঙ্গাদের কাছে প্রত্যাবাসনবিরোধী হিসাবে পরিচিত এবং তারা মিয়ানমারের সরকারের হয়ে কাজ করে বলে দাবি করা হয়। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে-আইসিসির প্রধান কৌঁসুলির ক্যাম্প পরিদর্শন ঘিরে রোহিঙ্গাদের ভয়ভীতি দেখাতে আরসার এ হামলার পরিকল্পনা।
ফারুক আহমেদ বলেন, কে আরসা, কে আরএসও-সেটি বিষয় নয়। ক্যাম্পে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলবে না। যারাই অপরাধে জড়াবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। হত্যাকারীদের ধরতে অভিযান চলছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, আমার ধারণা-প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য মিয়ানমার নানাভাবে তৎপর। তারা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে ক্যাম্পে উত্তেজনা-খুনখারাবি অব্যাহত রাখতে চাইবে।