শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন




মণ্ডপে মণ্ডপে নিরাপত্তা

সুষ্ঠুভাবে দুর্গাপূজা শেষ করতে বদ্ধপরিকর সরকার

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৩ ৯:৪৯ am
Saraswati Puja সরস্বতী পূজা Saraswati Puja Hindu Vidya Music Goddess Worship Festival Vidyadevi Temple Pushpanjali Sandhya Aarti Sanatan Dharmabalambi Priest Adhisthatri Devi Puja Mandap Ithima Dhakeswari সরস্বতী পূজা হিন্দু বিদ্যা সঙ্গীত দেবী আরাধনা উৎসব বিদ্যাদেবী মন্দির পুষ্পাঞ্জলি সন্ধ্যা আরতি সনাতন ধর্মাবলম্বী পুরোহিত অধিষ্ঠাত্রী দেবী পূজার মণ্ডপ প্রতিমা ঢাকেশ্বরী
file pic

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। এ পূজা কেন্দ্র করে প্রতিবছরই উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। এবার ২০ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে এ উৎসব। দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বেশ সজাগ। তারপরও রয়ে গেছে শঙ্কা। কারণ এবার পূজার দুই মাস পরই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরইমধ্যে নানা কর্মসূচি পালন করছে রাজনৈতিক দলগুলো। তাই সবচেয়ে বেশি শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এর আগে গুজব ছড়িয়ে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা এখনো তাদের মনে দাগ কাটে। এ অবস্থায় সরকার সুষ্ঠুভাবে দুর্গাপূজা শেষ করতে বদ্ধপরিকর।

এজন্য ঢাকাসহ সারাদেশে ৩২ হাজার ৪০৭টি মণ্ডপের নিরাপত্তা নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল পূজার সময় কঠোর নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন। পুলিশ সদরদপ্তর থেকেও সব জেলায় পাঠানো হয়েছে নির্দেশনা। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও নিরাপত্তার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নেতারা বলছেন, এবার সবচেয়ে বেশি শঙ্কায় রয়েছেন তারা। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির মধ্যে গুজব নিয়ে বেশি শঙ্কা রয়েছে।

শেষ সময়ে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা

কারণ দুই বছর আগে কুমিল্লায় দুর্গাপূজায় গুজবকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। তখন ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর কুমিল্লার নানুয়া দিঘিরপাড় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখা নিয়ে মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও নিহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনা শুধু কুমিল্লায়ই সীমাবদ্ধ ছিল না, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, ফেনী, গাজীপুর, কুড়িগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কক্সবাজার, মুন্সিগঞ্জ, হবিগঞ্জ, বরিশালেও মন্দির-মণ্ডপে হামলা-ভাঙচুর হয়। আগুন দেওয়া হয় হিন্দুদের বাড়ি ও দোকানপাটে। চাঁদপুরে পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।

শুধু ২০২১ সালেই যে হামলা হয়েছে তা কিন্তু নয়। এর আগেও ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরের এক হিন্দু জেলের ফেসবুকে ইসলামবিরোধী পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সহিংসতা হয়। তখন ভাঙচুর করা হয় ১৯টি মন্দির ও প্রায় ৩০০টি বাড়ি। আহত হন ১০০ জনেরও বেশি হিন্দু।

সব সম্প্রদায়ের মধ্যে ভালো মানুষ যেমন আছে খারাপও আছে। পূজা হিন্দুদের হলেও উৎসবটা সবার। আমাদের মণ্ডপের ডেকোরেশনের কাজ করেছেন মুসলিম ভাই। কাপড় যিনি বিক্রি করছেন তিনিও মুসলিম। অর্থাৎ রুজি একজনের সঙ্গে আরেকজনের কানেক্টেড।

এর মধ্যে চলতি বছর পূজা শুরুর আগেই প্রতিমা ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটে। গত ১৭-১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফরিদপুরের তাম্বুলখানা বাজারে রাতের অন্ধকারে ভাঙচুর করা হয় বিভিন্ন প্রতিমা। এছাড়া বগুড়ার শেরপুরের বেলতা গ্রামে একটি মন্দিরে পূজার্চনার সময় হামলার ঘটনা ঘটে।

এ অবস্থায় পুলিশ সদরদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, সারাদেশে মণ্ডপে মণ্ডপে মোতায়েন থাকবে পুলিশ। পাশাপাশি দুই লাখ আনসারও থাকবে। কোনো পূজামণ্ডপ থেকে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ সহযোগিতার জন্য কল এলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া দুর্গাপূজা ঘিরে ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে কেউ যেন গুজব ছড়াতে না পারে, সেজন্য সাইবার ইউনিটগুলো সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবে। এ বিষয়ে পুলিশ সদরদপ্তর ও জেলা পর‌্যায়ে থাকবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন সম্প্রতি পুলিশ সদরদপ্তরে এক সভায় বলেন, পূজা উপলক্ষে টহল জোরদার করা হয়েছে।

এছাড়া দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে কেউ যেন গুজব ছড়াতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মাঠপর‌্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ দেন।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানায়, চলতি বছর (২০২৩ সাল) জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৫টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে এ তথ্য সংগ্রহ করে আসক।

তবে সংস্থাটি বলছে, গত ৯ বছরে সংখ্যালঘুদের ওপর সাড়ে তিন হাজার হামলা হয়েছে। এরমধ্যে ২০২১ সালে সারাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা হয় ১০২টি। করোনাকালেও ২০২০ সালে হিন্দুদের ১২টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। ৬৭টি মন্দির-উপাসনালয়ে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়। এসব ঘটনায় আহত হন ৭১ জন।

‘এবার আশঙ্কার জায়গা হলো সামনে জাতীয় নির্বাচন। সেদিক থেকে অপরাজনীতি ও গুজব ছড়ানো চলছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও প্রতিমা বানানোর সময় বেশ কয়েকটি জায়গায় ভাঙচুর হয়। সামনে কোনো আশঙ্কা থাকবে না তা বলা যাবে না।’

আসক বলছে, ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর মোট তিন হাজার ৬৫৮টি হামলার ঘটনা ঘটে। এসময়ের মধ্যে শুধু মন্দির ও উপাসনালয়ে হামলা এবং প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এক হাজার ৬৭৮টি। হামলার শিকার প্রায় ৯৯ শতাংশই হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।

আসকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩ জন হিন্দু হামলায় আহত হন। আর পাঁচটি বাড়ি ভাঙচুর, চারটি মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুর, একটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগ এবং ২৫টি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়।

এদিকে সারাদেশে দুর্গোৎসব সুন্দরভাবে শেষ করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ থেকে শুরু করে র‌্যাব, আনসারসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে থাকবে।

এ বিষয়ে পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর বলেন, পূজায় তিন পর‌্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। পূজার আগে, পূজা চলাকালীন এবং পূজা পরবর্তী।

গুজবের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে, গুজব রটিয়ে পূজার সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর অপচেষ্টা করা হয়। এসব অপচেষ্টা রোধে সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং, সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান জানান, প্রতিটি মণ্ডপে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা ও টহল পুলিশের প্রয়োজনীয় নম্বর প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। যাতে যে কোনো সময় যোগাযোগ করা যায়। এছাড়া পূজার দিনগুলোতে প্রত্যেক মণ্ডপে স্থায়ীভাবে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল। পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হবে। সক্রিয় থাকবে গোয়েন্দা সংস্থা।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সারাদেশে র‌্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন প্রস্তুত। র‌্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা নিয়মিতভাবে কাজ করছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে র‌্যাবের হেলিকপ্টার। নিয়মিত চেকপোস্ট স্থাপন, বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড কাজ করবে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কোনো মণ্ডপ থেকে ৯৯৯ নম্বরে সহযোগিতার জন্য কল এলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এবার পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরার সঙ্গে থাকবে আইপি ক্যামেরা।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজা ঘিরে ফেসবুক এবং ইউটিউব থেকে কেউ যেন গুজব ছড়াতে না পারে সেজন্য বিশেষ নজরদারির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ সদরদপ্তর ও জেলাপর‌্যায়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থাকবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেন, পূজা পবিত্র ও আনন্দের। এজন্য আমরা কোনো আশঙ্কা করছি না। আমরা আমাদের সব প্রস্তুতি শেষ করেছি। সরকার তৎপর রয়েছে। আশা করছি ভালোভাবে সম্পন্ন হবে এবারের দুর্গোৎসব।

বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে পূজা উদযাপনের বিষয়ে সভা হয়েছে। তারা সবাই আশ্বস্ত করেছেন। সরকার এ বিষয়ে সজাগ। তবে সব সম্প্রদায়ের মধ্যে ভালো মানুষ যেমন আছে খারাপও আছে। পূজা হিন্দুদের হলেও উৎসবটা সবার। আমাদের পূজামণ্ডপের ডেকোরেশনের কাজ করছেন মুসলিম ভাই, কাপড় যিনি বিক্রি করছেন তিনিও মুসলিম। অর্থাৎ রুজি একজনের সঙ্গে আরেকজনের কানেক্টেড।

মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়লে হামলা-সহিংসতা কম হয়। যেমন গত বছর হামলা হয়নি। তবে এবার আশঙ্কার জায়গা হলো সামনে জাতীয় নির্বাচন। সেদিক থেকে অপরাজনীতি ও গুজব ছড়ানো চলছে। এবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও প্রতিমা বানানোর সময় বেশ কয়েকটি জায়গায় ভাঙচুর হয়। সামনে কোনো আশঙ্কা থাকবে না তা বলা যাবে না। তবে পুলিশ প্রশাসন তৎপর।

পুলিশি পাহারায় পূজা উদযাপন হবে তা চান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাইকে নিয়ে উৎসব করবো এটিই আমাদের চাওয়া। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ। সব ধর্মের রক্তের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। শুধু পূজার সময় নয়, পূজা পরবর্তী সময়েও যেন অসাম্প্রদায়িক চেতনা বাংলাদেশে থাকে তা আমাদের কাম্য।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, আশঙ্কা নিয়েই আমরা নির্বাচন কমিশনার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেছি। আশঙ্কা নিয়েই আমরা ছয় মাস ধরে চিৎকার করছি। দুর্গাপূজার মূল আয়োজন শুরুর আগেই ১২টি জায়গায় হামলা হয়েছে। মূর্তি ভাঙচুর হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, সামনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হতে পারে আপনারা সবাই সতর্ক থাকবেন। এর চারদিন পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও একই কথা বলেন। তাহলে দাঁড়ালো সাম্প্রতিক সহিংসতা উভয়পক্ষই স্বীকার করলেন। বাস্তবতা হলো আমরা যা আশঙ্কা করছি রাজনৈতিক দলগুলোও সেই আশঙ্কা করছে। এসব বিষয় আমরা নির্বাচন কমিশনার ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে তুলে ধরেছি।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এলাকায় হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে রানা দাশ গুপ্ত বলেন, সামনের নির্বাচনে যেসব এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ বলে আমরা সরকারকে বলেছি, ওইসব এলাকাকে দুর্গাপূজার সময় ঝুঁকিপূর্ণ বলছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠকেও অনেকগুলো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কী হচ্ছে তা বুঝি না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার অনুরোধ জানাই। ২০২১ সালে দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লা থেকে শুরু করে ২৭টি জেলায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল।

দুর্গাপূজার সময় ডিএমপির ২২ নির্দেশনা

১. প্রতিটি পূজামণ্ডপ বা মন্দিরে অন্ধকারে ভিডিও ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন পর‌্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং ফুটেজ সংরক্ষণ করা।

২. পূজামণ্ডপের জন্য নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া। তাদের আলাদা পোশাক, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র ও আর্মড ব্যান্ড নির্ধারণ করে দেওয়া। স্বেচ্ছাসেবকদের নামের তালিকা স্থানীয় থানায় পাঠানো।

৩. গেট মজবুতভাবে স্থাপন করা। যেসব মণ্ডপে সীমানা দেওয়াল নেই, সেসব ক্ষেত্রে বাঁশের শক্ত বেড়া দেওয়া। একই সঙ্গে নারী-পুরুষের জন্য পৃথক প্রবেশ গেটের ব্যবস্থা করা।

৪. স্থানীয় কাউন্সিলর, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা এবং তাদের নাম ও মোবাইল নম্বর সম্বলিত ব্যানার দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করা।

৫. সচেতনতামূলক নির্দেশনা প্রচারের ব্যবস্থা করা।

৬. প্রতিটি পূজামণ্ডপে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) রাখা। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপে আর্চওয়ে গেট স্থাপন করা।

৭. বৈদ্যুতিক কাজে নিম্নমানের তার ব্যবহার না করা।

৮. অগ্নিদুর্ঘটনা এড়াতে পূজামণ্ডপে মোমবাতি, আগরবাতি ও আরতির সময় সাবধানতা অবলম্বন করা।

৯. আনন্দ উৎসবে মাদকের ব্যবহার, জুয়া খেলা ও আতশবাজি বন্ধ রাখা।

১০. পূজামণ্ডপ ও মন্দিরের জন্য পরিদর্শন রেজিস্টার প্রস্তুত এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা।

১১. পূজামণ্ডপ বা মন্দির এবং পুরো এলাকায় পর‌্যাপ্ত ও বিকল্প আলোর (জেনারেটর) ব্যবস্থা রাখা।

১২. মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ব্যাগ বা পোটলা ইত্যাদি নিয়ে প্রবেশ না করা। এছাড়া মণ্ডপ এলাকায় সন্দেহজনক কোনো ব্যাগ বা পোটলা পড়ে থাকতে দেখলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা।

১৩. ধর্মীয় সম্প্রতি বজায় রাখা এবং অপর ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের লক্ষ্যে আজান ও নামাজের সময় এবং মসজিদের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বাদ্য বাজানো বন্ধ রাখা।

১৪. পূজামণ্ডপ সংলগ্ন স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পূজামণ্ডপ ও আশপাশ এলাকায় মেলা না বসানো।

১৫. পুলিশ ও আনসার সদস্যদের জন্য ওয়াশরুমসহ আবাসনের ব্যবস্থা রাখা।

১৬. পূজার প্রসাদ প্রস্তুত করার সময় সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং মণ্ডপগুলোতে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।

১৭. মণ্ডপকেন্দ্রিক কোনো বিরোধ থাকলে তা পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিষ্পত্তি করা।

১৮. বিজয়া শোভাযাত্রায় উচ্চ বাদ্যযন্ত্র সেট (পিএ) ব্যবহার না করা।

১৯. শোভাযাত্রা চলাকালে যেন কোনো গ্যাপ সৃষ্টি না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা।

ঢাকাসহ সারাদেশে ৩২ হাজার ৪০৭টি মণ্ডপের নিরাপত্তা নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল পূজার সময় কঠোর নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন। পুলিশ সদরদপ্তর থেকেও সব জেলায় পাঠানো হয়েছে নির্দেশনা। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও নিরাপত্তার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

২০. প্রতিমা বিসর্জনের সময় নৌকায় ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা। বিসর্জনের সময় পানিতে পড়ে প্রাণহানি না ঘটে সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করা। বিশেষ করে বৃদ্ধ, নারী ও শিশুদের নৌকায় ওঠা নিরুৎসাহিত করা।

২১. ২৪ অক্টোবর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা বিকেল ৩টার আগেই ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা। বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে শোভাযাত্রা শুরু করা এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে প্রতিমা ওয়াইজঘাটে পৌঁছানো। রাত ৮টার মধ্যে সব প্রতিমা বিসর্জন শেষ করা।

২২. কোনো দুর্ঘটনা বা অপরাধের আশঙ্কা তৈরি হলে দ্রুত পুলিশকে জানানো।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD