শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন




প্রত্যক্ষ লড়াই শুরু

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১১:১৯ am
রাজনীতি Dhaka Metropolitan Police dmp ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি রোড accident rash road যানজট রাস্তা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি dhaka তল্লাশিচৌকি ঢাকা বিএনপির গাবতলী ঢাকামুখী বাস যানবাহন তল্লাশি পুলিশ ঢাকা প্রবেশমুখ Bangladesh Police বাংলাদেশ পুলিশ নয়াপল্টন রোড accident rash road যানজট রাস্তা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি police vigilant পুলিশ অভিযান মোতায়েন bnp বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর Bangladesh Nationalist Party BNP ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বিএনপি গণসমাবেশ Bangladesh Nationalist Party BNP Mirza Fakhrul Islam Alamgir বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর police Panchagarh পঞ্চগড় panchagarch police bnp
file pic

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম পায় ভিন্নমাত্রা। ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিটি দিন ছিল গুরুত্ববহ। নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ৩ ডিসেম্বর ছিল এক মোড় ঘুরানো দিন।

পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ লড়াই শুরুর নির্ধারক দিন। এদিন পাকিস্তানি বাহিনী ভারতীয় বিমানঘাঁটিগুলোয় বোমাবর্ষণ এবং পশ্চিম সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে আর্টিলারি গোলা নিক্ষেপ করে। আর এর মধ্য দিয়েই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। একই সঙ্গে সূচিত হয় পূর্ব রণাঙ্গনে বাংলাদেশ-ভারত মিলিত মিত্রবাহিনীর যুদ্ধ-তৎপরতার চূড়ান্ত অধ্যায়।

বাঙালির স্বাধীনতাসংগ্রামকে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধ হিসাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেখানোর জন্য ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ভারতে হামলা করে। এদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কলকাতায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জনসভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন। পাকিস্তানের হামলার খবরে তিনি দিল্লি ফিরে যান।

গভীর রাতে জাতির উদ্দেশে বেতার ভাষণে তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বলেন, ‘বাংলাদেশের যুদ্ধ এখন ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের আক্রমণ ঐক্যবদ্ধভাবেই প্রতিহত করতে হবে।’

পাকিস্তানের ভারত আক্রমণের জের ধরেই গঠন করা হয় বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কমান্ড। ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তিবাহিনী সম্মিলিতভাবে পূর্ব সীমান্তে অভিযান শুরু করে। পূর্ববাংলায় পাকিস্তানি বাহিনীর অবস্থানকে ঘিরে ফেলার জন্য সাতটি এলাকা দিয়ে আক্রমণ পরিচালিত হয়। সেই রাতেই ঢাকা এবং আশপাশে পাকিস্তানি হানাদারদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে শুরু হয় বিমান হামলা।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সফল হামলায় নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও চট্টগ্রামের ফুয়েল পাম্প মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একের পর এক যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত করে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাদের কোণঠাসা করে ফেলেন। এদিনের আরও একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো, বরগুনায় মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি সেনারা পরাজয় বরণ করে। মুক্ত হয় বরগুনা জেলা।

৩ ডিসেম্বর ভারতে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার পরই বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কমান্ডের সম্মিলিত সর্বাত্মক লড়াই শুরু হয়। পশ্চিম ও পূর্ব রণাঙ্গনে গর্জে ওঠে কামান। ভারতীয় বিমানবাহিনী হামলা চালাতে শুরু করে। এতদিন পাকিস্তানি বাহিনীর বোমার আওয়াজে মানুষ আতঙ্কে থাকলেও মুক্তিযোদ্ধারা বিমান নিয়ে পালটা আক্রমণ শুরু করায় আনন্দিত-উদ্বেলিত হন তারা। তাদের সামনে দেখা দেয় মুক্তির আলোকচ্ছটা।

এদিকে মুক্তিবাহিনীর সর্বাত্মক হামলায় পাকিস্তানি হানাদাররা দিশেহারা হয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ের বেশে সামনের দিকে এগিয়ে যান। তারা একের পর এক যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত করে পাকিস্তানি সেনাদের ফাঁদে ফেলেন। পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে শুরু হয় সম্মুখযুদ্ধ। মিত্রবাহিনীর সঙ্গে সম্মিলিতভাবে সম্মুখযুদ্ধে এগিয়ে যায় বীর বাঙালি। কুমিল্লায় মুক্তিবাহিনী মিয়াবাজারে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর হামলা চালায়।

ভারতীয় আর্টিলারি বাহিনীর সহযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধারা মিয়াবাজার দখল করে নেন। আখাউড়ার আজমপুর স্টেশনে দুপক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে দিনভর যুদ্ধ চালিয়ে যায়। সিলেটের ভানুগাছায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে ১৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহিদ হন। নোয়াখালীতে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল সোনাইমুড়ী মুক্ত করে। এরপর তারা চৌমুহনীতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়।

রংপুরের পলাশবাড়ীতে ১২ জন পাকিস্তানি সেনা আত্মসমর্পণ করে। সাতক্ষীরা থেকে পিছু হটে দৌলতপুরের দিকে যায় পাকিস্তানি বাহিনী। পাকিস্তান এয়ারলাইন্স পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে সব ফ্লাইট বাতিল করে। সামরিক কর্তৃপক্ষ সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ঢাকায় সান্ধ্য আইন জারি ও নিষ্প্রদীপ ব্যবস্থা পালনের নির্দেশ দেয়।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD