রওশন এরশাদের ডাকা ৯ মার্চের জাতীয় সম্মেলনে রংপুর বিভাগের জাতীয় পার্টির কোনো নেতাই অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর একনিষ্ঠ অনুসারী এবং দলটির সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। এর মাধ্যমে তিনি দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের পক্ষে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন।
রাঙ্গার হঠাৎ ভোল পাল্টানোর ব্যাপারে জি এম কাদেরের অংশের জাপার শীর্ষস্থানীয় নেতারা কিছু বলতে রাজি হননি। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে রংপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করে হেরে যান রাঙ্গা।
যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘৯ মার্চ জাতীয় পার্টির নামে রওশন এরশাদ যে সম্মেলন ডেকেছেন, তাতে থাকছি না। চেয়ারম্যান ও দলের বাইরে গিয়ে ডাকা এই কাউন্সিল অবৈধ ও গঠনতন্ত্রবিরোধী। রাজনীতি করলে মূল জাতীয় পার্টি করব। অর্থাৎ যেখানে লাঙ্গল আছে, সেই দলই করব। দলের বাইরে গিয়ে অন্য কারও সঙ্গে রাজনীতি করতে চাই না।’
রাঙ্গা আরও বলেন, জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুরসহ পুরো বিভাগের আট জেলা থেকে দলের শীর্ষ নেতা, প্রেসিডিয়ামের সদস্য ওই কাউন্সিল অধিবেশনে অংশ নেবে না। কারণ, রংপুরের মানুষ দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি এখনও সহানুভূতিশীল। এখানে রওশনের পক্ষে নেতাকর্মী নেই। এমনকি তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি ভেঙে আলাদা দল হলেও তাতে এ অঞ্চলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও মানুষের সমর্থন পাবে না।
দীর্ঘদিন রওশনপন্থি নেতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তের কারণ সম্পর্কে রাঙ্গা বলেন, জাতীয় পার্টির মূল পরিচয় দলের প্রতীক লাঙ্গল। অথচ তা পার্টির চেয়ারম্যানের হাতে। আমি কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের মহাসচিব হয়েছিলাম। দলের গঠনতন্ত্র সম্পর্কে সবকিছু জানি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানসহ দলের নেতারা লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ৭ জানুয়ারির নির্বাচন করেছেন। ১১ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে দলের প্রতীক লাঙ্গল ফিরে পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই রওশন এরশাদের। তিনি ফের ডেকেছেন সম্মেলন। সেখানে যোগ দিয়ে নিজেকে আর বিতর্কিত করতে চাই না।
এরশাদপত্নী রওশনের সঙ্গে জি এম কাদেরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন সব সময়ই ছিল। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে তাদের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়। রওশন ও তাঁর ছেলে রংপুর-৩ (সদর) আসনের সাবেক এমপি রাহগীর আল মাহি (সাদ এরশাদ) নির্বাচনে অংশ নেননি। এ অবস্থায় আগামী শনিবার নিজের অনুসারী নেতাকর্মী নিয়ে জাতীয় সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়েছেন রওশন।
জাপার একাধিক নেতা জানান, সম্মেলন সামনে রেখে রওশন দলের সাবেক, নিষ্ক্রিয় এবং বাদ পড়া নেতাদের সংগঠিত করছেন। অন্যদিকে, জি এম কাদের দলে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে কাউকে পদোন্নতি, আবার অব্যাহতি পাওয়া নেতাদের কাউকে স্বপদে ফিরিয়ে আনছেন। ইতোমধ্যে দলের তিন নেতার অব্যাহতির আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, জি এম কাদেরের নেতৃত্বে দলকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দলে যতই বিরোধ হোক, রংপুর অঞ্চলে জি এম কাদেরের নেতৃত্বেই দল এগিয়ে যাবে। রাঙ্গা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি দলের বহিষ্কৃত নেতা! তবে রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু নেই।