রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন




বিতর্কিত ১১ বই কেন বাতিল করা হবে না: হাইকোর্টের রুল

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৪ ৯:৫০ pm
SC সুপ্রিম কোর্ট রায় Supreme Court highcourt হাইকোর্ট আদালত
file pic

শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আগ্রহী করে তুলতে সেকেন্ডারি অ্যাডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি) প্রকল্পের বাছাই করা ৯৬টি বইয়ের মধ্যে স্বাধীনতাবিরোধী ও বিতর্কিত ১১ বই কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

চার প্রকাশকের দায়ের করা রিটের শুনানি নিয়ে ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে ওই দিন আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল বারি। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রকাশকদের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সাংবাদিকদের জানান আইনজীবীরা।

রিটকারীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব জানান, ২৫ জানুয়ারি মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের পাঠ অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য এসইডিপি প্রকল্পের বাছাই করা ৯৬টি বইয়ের মধ্যে ১১টি বই কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আবেদনকারীরা হাইকোর্টের ওই রুলের বিষয়টি জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘প্রকল্পের বই বাছাই প্রক্রিয়ার অনিয়মের বিষয়ে বিভিন্ন সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অবহিত করা হয়। কিন্তু কোনো প্রতিকার হয়নি। ফলে উল্লেখিত তারিখে সবশেষ যে রুল ইস্যু হয়, তা আপনাদের জ্ঞাতার্থে দাখিল করা হলো। আশা করি আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, এসইডিপি প্রকল্পের বই কেনার তালিকার নীতিমালার ১৭ নম্বর ধারা পরিপন্থী দুটি বই আছে। নাসির আলীর বই তালিকাভুক্ত হওয়ায় নীতিমালার ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে উল্লেখ করে উচ্চ আদালতে রিট করেন চার প্রকাশক। তাদের একজন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. কায়সার-ই আলম প্রধান।

রিটকারীরা বলেন, সব প্রকাশনী থেকে একটি করে বই তালিকায় স্থান পেলে করোনাকালে প্রকাশকদের যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা হলেও কাটত। ৯৬টির মধ্যে ১৭টি বই মাত্র চারটি প্রকাশনীর— কাকলী প্রকাশনী, আগামী, সময় ও আদিত্যের। অন্য বইগুলোর প্রকাশকদের খবর নিয়ে দেখেন তাদেরই (চার প্রকাশনীর) আত্মীয়স্বজনের নামে লাইসেন্স নেওয়া। অধিকাংশ বই তাদেরই সহযোগী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। প্রকল্পের টাকায় সুফল পাচ্ছেন গুটিকয়ক প্রকাশক।

রিটকারী আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব জাগো নিউজকে বলেন, নীতিমালায় বলা আছে, এক প্রকাশকের বই অপর প্রকাশকের নামে চালানো যাবে না। বই সংগ্রহের নীতিমালার ১৭ নম্বর ধারায় উল্লেখ আছে— ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী কোনো লেখকের গ্রন্থ নির্বাচন করা হবে না।’

তালিকায় ‘লেবুমামার সপ্তকাণ্ড’ ও ‘বীরবলের খোশগল্প’ বই দুটির লেখক মোহাম্মদ নাসির আলী। বাংলা একাডেমির চরিতাভিধানে মোহাম্মদ নাসির আলী সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে, অখণ্ড পাকিস্তান রক্ষার পক্ষে তিনি বিবৃতি দিয়েছিলেন এবং ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান রেডিওর পক্ষ থেকে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

‘সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ (এসইডিপি) নামে ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর কর্মসূচিটি গ্রহণ করা হয়। এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, পাঁচ বছর মেয়াদি এ কর্মসূচি ২০১৮-২২ অর্থবছর মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে। এ কর্মসূচির প্রাক্কলিত ব্যয় ১৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউএস ডলার (১৭ হাজার ২০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার)। এরমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ১৬ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার। বাকি ৫০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক দেবে ২২৫ মিলিয়ন ডলার। বিশ্বব্যাংক আরও ১০ মিলিয়ন ডলার ‘জিএফএফ গ্রান্ট’ হিসেবে প্রদান করবে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD