শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ন




ফ্রিজে সেদ্ধ ডিম কতদিন ভালো থাকে?

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৫ ৬:০২ pm
animal eggs chickens harvested egg food fowl especially chickens ডিম হালি ব্রয়লার মুরগি বাজার খুচরা পাইকারি বাচ্চা ফিড ব্যবসায়ী খামারি ডজন ফার্ম মুরগি সাদা ডিম হাঁস ডিম সোনালি মুরগি দেশি মুরগি পোল্ট্রি খামার ডিম-মুরগি egg
file pic

সেদ্ধ ডিম একটি সহজ, পুষ্টিকর এবং দ্রুত খাওয়া যায় এমন খাবার। যা সকালের নাস্তা, সালাদ বা স্ন্যাকস হিসেবে জনপ্রিয়। তবে সেদ্ধ ডিম বেশি দিন ভালো থাকে না এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

অনেকেই ভুলভাবে ধরে নেন, সেদ্ধ ডিম যেহেতু খোসায় মোড়ানো, তাই তা দীর্ঘ সময় ভালো থাকবে। তবে বাস্তবে এর মেয়াদ সীমিত, বিশেষত যদি সংরক্ষণ পদ্ধতি ঠিক না হয়।

কীভাবে সেদ্ধ ডিম সংরক্ষণ করতে হবে, কতদিন পর্যন্ত তা খাওয়া নিরাপদ আর কীভাবে বুঝবেন ডিম নষ্ট হয়ে গেছে তা সম্পর্কে ধারণা থাকলেই কেবল স্বাস্থ্যহানি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

সঠিকভাবে সেদ্ধ ডিম সংরক্ষণের নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রের লেখক ও খাদ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যারিয়েল ক্লেইন রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “সেদ্ধ ডিম ভালো রাখতে হলে তা প্রথমে ঠাণ্ডা হতে দিতে হবে। এরপর তা বায়ুনিরোধক পাত্রে ভরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে। বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে যেন ডিমের খোসা না ওঠানো হয়। খোসা থাকলে তা ডিমের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ফ্রিজের অন্য খাবারের গন্ধ থেকে ডিমকে রক্ষা করে।”

তিনি আরও বলেন, “সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে সেদ্ধ ডিম সাধারণত এক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে। তবে যেসব ডিম আগে থেকেই খোসা ছাড়ানো, সেগুলো বায়ুনিরোধক পাত্রে ভরে এর সঙ্গে একটি ভেজা টিস্যু রাখলে তা দুয়েক দিন ভালো থাকবে।”

ফ্রিজে সংরক্ষণের সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, “ফ্রিজের মাঝখানের তাকে সিদ্ধ ডিম রাখাই সবচেয়ে ভালো, কারণ সেই স্থানে তাপমাত্রা সাধারণত স্থির থাকে। প্লাস্টিক ব্যাগে না রেখে কাচ বা ভালো মানের প্লাস্টিকের বায়ুনিরোধক পাত্র ব্যবহার করতে হবে। কারণ ব্যাগে অক্সিজেন প্রবেশ করলে ভেতরে আর্দ্রতা জমে গিয়ে তা ডিমের মান নষ্ট করতে পারে।”

সিদ্ধ ডিম ফ্রিজে রাখা গেলেও ফ্রিজারে রাখা যাবে কি?

এই প্রশ্নের উত্তর অনেকের অজানা।

অ্যারিয়েল ক্লেইনের মতে, “সম্পূর্ণ সেদ্ধ ডিম ফ্রিজারে রাখা অনুচিত। কারণ ডিমের সাদা অংশ জমে গিয়ে রবারের মতো হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত পানি ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ডিম খাওয়ার অযোগ্য হয়ে ওঠে। তবে কুসুম আলাদা করে বায়ুনিরোধক পাত্রে রেখে ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা যায়। আর পরে সালাদে কুচি করে বা সস তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।”

কীভাবে বুঝবেন সেদ্ধ ডিম নষ্ট হয়ে গেছে?

সিদ্ধ ডিমের সতেজতা যাচাইয়ের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গন্ধ। যদি ডিমে পচা বা ঝাঁঝালো সালফারের মতো গন্ধ আসে, তাহলে তা খাওয়া অনিরাপদ।

এছাড়া ডিমের টেক্সচার বা গঠনেও পরিবর্তন দেখা গেলে তা নষ্ট হয়ে গেছে ধরে নিতে হবে। যেমন- সাদা অংশ যদি পিচ্ছিল বা জেলির মতো হয় বা কুসুম যদি অতিরিক্ত শুকনা বা ঝুরঝুরে হয়, তবে তা ফেলে দেওয়া উচিত।

অনেক সময় ডিমের কুসুমের চারপাশে সবুজাভ ধূসর রং দেখা যায়। তবে এটি বিপদজনক নয়; এটি কেবল বেশি সময় সিদ্ধ করায় ঘটে।

তবে কুসুমে যদি দাগ পড়ে বা সাদা অংশের রং পরিবর্তন হয় তবে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

আরও একটি সহজ পরীক্ষা হল- খোসা ছাড়ানোর পর ডিমটির ঘ্রাণ নেওয়া। যদি তাতে কোনো গন্ধ পাওয়া যায়, বা চেনা ডিমের গন্ধের বাইরে কিছু মনে হয়, তাহলে ডিমটি না খাওয়াই শ্রেয়।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD