ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে বাংলাদেশ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটি প্রকাশিত ‘অ্যান আনসাস্টেইনেবল লাইফ: দ্য ইমপ্যাক্ট অব হিট অন হেলথ অ্যান্ড দ্য ইকোনমি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮০ সাল থেকে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ‘অনুভূত’ তাপমাত্রা বেড়েছে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ কারণে ডায়রিয়া, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ক্লান্তিজনিত অসুস্থতা, মানসিক সমস্যা যেমন বিষণ্নতা ও উদ্বেগের হার বাড়ছে।
অর্থনৈতিক ক্ষতি
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তাপ-সম্পর্কিত অসুস্থতার কারণে প্রায় ২৫ মিলিয়ন কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে। এতে অর্থনীতিতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের জিডিপির প্রায় ০.৪ শতাংশ।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্বলতা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রীষ্মকালে ডায়রিয়া ও দীর্ঘস্থায়ী কাশির হার শীতকালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। নারীরা হিট স্ট্রোক ও ক্লান্তিজনিত অসুস্থতায় বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তীব্র গরমের কারণে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ায় উৎপাদনশীলতার ক্ষতিও বেড়েছে।
করণীয় পদক্ষেপ
বিশ্বব্যাংক বলেছে, তাপপ্রবাহ এখন কেবল মৌসুমি অস্বস্তি নয়, বরং সুদূরপ্রসারী হুমকি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-
তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় জাতীয় প্রস্তুতি ও বহু-খাতভিত্তিক কৌশল গ্রহণ।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন।
সঠিক আবহাওয়া ও স্বাস্থ্য তথ্য সংগ্রহ।
শহরে সবুজায়ন বাড়ানো।
এ ছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব কমাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নের গুরুত্বও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।