প্রাকৃতিক দুর্যোগ থামানো যায় না, কিন্তু ক্ষতি কমানো যায়—সচেতনতা, ক্ষুদ্র প্রস্তুতি, আর শান্ত সিদ্ধান্তে। ভূমিকম্পের সময় স্থিরতায় হতে পারে অসংখ্য প্রাণের রক্ষা। তাই নিজে জানুন, অন্যকে জানান, আর প্রস্তুত থাকুন, নিজের জন্য, সবার জন্য।
ভূমিকম্প—নিশ্চুপ পৃথিবীর হঠাৎ কাঁপন, এক মুহূর্তে বদলে দিতে পারে চারপাশ। ঠিক তখনই মানুষকে ধরে রাখতে হয় স্নায়ুর জোর, সিদ্ধান্তের দৃঢ়তা, আর সচেতনতার আলো।
রাজধানী ঢাকায় আজ তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস অনুসারে, ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৫। এতে অনেকেই হয়ে পড়েছেন আতঙ্কিত। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্য বাতায়নের তথ্য অনুসারে, চলুন জেনে নেয়া যাক ভূমিকম্পের সময় কী করবেন ও কী করা থেকে বিরত থাকবেন।
ভূমিকম্পের সময় যা করবেন
১. আপনার প্রথম কাজ শান্ত থাকা। ভূকম্পন অনুভূত হলে আতঙ্কিত হবেন না।
২. ভূকম্পনের সময় বিছানায় থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে টেবিল, ডেস্ক বা শক্ত কোনো আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নিন।
৩. রান্নাঘরে থাকলে গ্যাসের চুলা বন্ধ করে দ্রুত বেরিয়ে আসুন।
৪. বিম, কলাম ও পিলার ঘেষে আশ্রয় নিন।
৫. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালে স্কুল ব্যাগ মাথায় দিয়ে শক্ত বেঞ্চ অথবা শক্ত টেবিলের নিচে আশ্রয় নিন।
৬. ঘরের বাইরে থাকলে গাছ, উঁচু বাড়ি, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে খোলাস্থানে আশ্রয় নিন।
৭. একবার কম্পন হওয়ার পর আবারো কম্পন হতে পারে। তাই সুযোগ বুঝে বের হয়ে খালি জায়গায় আশ্রয় নিন।
৮. উপর তলায় থাকলে কম্পন বা ঝাঁকুনি না থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
৯. কম্পন বা ঝাঁকুনি থামলে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়ুন এবং খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিন।
১০. গাড়িতে থাকলে ওভারব্রিজ, ফ্লাইওভার, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে গাড়ি থামান। ভূকম্পন না থামা পর্যন্ত গাড়ির ভেতরে থাকুন।
১১. ব্যাটারিচালিত রেডিও, টর্চলাইট, পানি এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম বাড়িতে রাখুন।
১২. যদি কোনো বিধ্বস্ত ভবনে আটকা পড়েন এবং আপনার ডাক উদ্ধারকারীরা শুনতে না পায়, তাহলে বাঁশি বাজিয়ে অথবা হাতুড়ি বা শক্ত কোনো কিছু দিয়ে দেয়ালে বা ফ্লোরে জোরে জোরে আঘাত করে উদ্ধারকারীদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করুন।
১৩. বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করুন।
যা করবেন না
১. ভূমিকম্পের সময় লিফট ব্যবহার করবেন না।
২. উঁচু বাড়ির জানালা, বারান্দা বা ছাদ থেকে লাফ দেবেন না।
৩. ভাঙা দেয়ালের নিচে চাপা পড়লে বেশি নড়াচড়ার চেষ্টা করবেন না। কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন, যাতে ধুলাবালি শ্বাসনালিতে না ঢোকে।
৪. গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, হাসপাতাল, মার্কেট ও সিনেমা হলে থাকলে বের হওয়ার জন্য দরজার সামনে ভিড় কিংবা ধাক্কাধাক্কি না করে দু’হাতে মাথা ঢেকে বসে পড়ুন।
১০. ঘরের বাইরে থাকলে গাছ, উঁচু বাড়ি, বিদ্যুতের খুঁটি ঘেঁষে অবস্থান করবেন না।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ থামানো যায় না, কিন্তু ক্ষতি কমানো যায়—সচেতনতা, ক্ষুদ্র প্রস্তুতি, আর শান্ত সিদ্ধান্তে। ভূমিকম্পের সময় স্থিরতায় হতে পারে অসংখ্য প্রাণের রক্ষা। তাই নিজে জানুন, অন্যকে জানান, আর প্রস্তুত থাকুন, নিজের জন্য, সবার জন্য।