নিজেদের শিল্পখাতকে আরও শক্তিশালী করতে সৌদি আরব সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির মন্ত্রিসভা লাইসেন্সপ্রাপ্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের আকামা বা ওয়ার্ক পারমিট ফি সম্পূর্ণ বাতিলের অনুমোদন দিয়েছে।
সৌদি গেজেটের খবরে বলা হয়েছে, যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে কাউন্সিল অব ইকোনমিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাফেয়ার্সের (সিইডিএ) সুপারিশে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শিল্প ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী বান্দার আলখোরায়েফ বলেন, শিল্পখাতে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর আরোপিত আর্থিক লেভি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত সৌদি আরবে টেকসই শিল্প উন্নয়নকে আরও জোরদার করবে।
তিনি জানান, এটি সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর আওতায় শিল্পখাতকে ধারাবাহিক সহায়তারই অংশ। এর ফলে সৌদি শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক বাজারে তেলবহির্ভূত রপ্তানির বিস্তার ও সরবরাহ আরও বাড়বে।
উল্লেখ্য, উচ্চাভিলাষী ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় সৌদি আরব তেলনির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখীকরণ করতে চায়। মন্ত্রী আরও বলেন, এই নতুন পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন উন্নতমানের বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, অন্যদিকে কারখানাগুলোর পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এর মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারবে এবং একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়তা (অটোমেশন), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তির মতো নতুন ব্যবসায়িক মডেল দ্রুত গ্রহণ করতে পারবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে সৌদি আরব পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স উৎস হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। শুধু নভেম্বর মাসেই সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী পাকিস্তানিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৭৫৩ মিলিয়ন ডলার। এর পরেই রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ৬৭৫ মিলিয়ন ডলার। সৌদি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পাকিস্তান থেকে ১৮.৮ লাখ কর্মী সৌদি আরবে গেছেন, যা ২০১৫-১৯ সময়কালের ১৫.৬ লাখের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি।
এ ছাড়া জানা গেছে, এ বছরের সেপ্টেম্বরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর সৌদি আরবে বার্ষিক এক মিলিয়ন শ্রমিক পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইসলামাবাদ। ঐতিহ্যগতভাবে পাকিস্তানের শ্রমিক রপ্তানি নির্মাণ, সংশ্লিষ্ট পেশা, স্বাস্থ্যসেবা ও আতিথেয়তা খাতে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার নতুন নতুন খাতে শ্রমিক পাঠিয়ে এই বাজার আরও বৈচিত্র্যময় করার পরিকল্পনা করছে।