সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ন




ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব আমার, আপাতত কোনও নির্বাচন হবে না: ট্রাম্প

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬ ১২:১৯ pm
Donald Trump USA President ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপতি
file pic

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর অন্তত আগামী ৩০ দিনে সেখানে আর কোনও নির্বাচন হচ্ছে না— এমন ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটিকে আগে ‘স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা’ দরকার বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তিনি জানান, প্রয়োজনে মার্কিন সেনা মোতায়েন রেখে ওয়াশিংটন সরাসরি ভেনেজুয়েলা পরিচালনায় ভূমিকা নেবে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয় বরং মাদক চক্র ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে যুক্তরাষ্ট্র।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, সোমবার এনবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আগে আমাদের দেশটাকে (ভেনেজুয়েলা) ঠিক করতে হবে। এখনই নির্বাচন করা সম্ভব নয়। মানুষ ভোট দিতেও পারবে না। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ, আমাদের ভেনেজুয়েলাকে ধীরে ধীরে সুস্থ করতে হবে’। তিনি আরও জানান, শনিবারের সামরিক অভিযানের ফলে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছে। আপাতত যুক্তরাষ্ট্র দেশটি পরিচালনায় ভূমিকা রাখবে। প্রয়োজনে সেখানে মার্কিন সেনাও থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প।

তবে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুদ্ধ করছে না। তার ভাষায়, ‘না, আমরা যুদ্ধ করছি তাদের বিরুদ্ধে যারা মাদক বিক্রি করে, যারা তাদের কারাগারের বন্দি, মাদকাসক্ত আর মানসিক রোগীদের আমাদের দেশে পাঠিয়ে দেয়’। এনবিসিকে তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে সহায়তা দেয়া হতে পারে। এতে ১৮ মাসের কম সময় লাগতে পারে বলে তার ধারণা। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘এতে বিপুল অর্থ লাগবে। কোম্পানিগুলো টাকাটা খরচ করবে, তারপর আমরা ফেরত দেব অথবা রাজস্ব থেকেই তা ওঠানো হবে।’

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ভূমিকা রাখবেন। তিনি বলেন, ‘সবাই মিলে কাজ করবে, প্রতিজনের আলাদা আলাদা দক্ষতা আছে।’

কে শেষ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার দায়িত্বে বা নিয়ন্ত্রণে থাকবেন— এ প্রশ্নে ট্রাম্পের এককথায় জবাব দেন: ‘আমি’।

এদিকে সোমবার নিউইয়র্কের আদালতে হাজির হয়ে মাদুরো সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি নিজেকে এখনো ভেনেজুয়েলার বৈধ নেতা দাবি করেন। অন্যদিকে মাদুরো আটক হওয়ার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তবে মাদুরো আটক হওয়ার আগে দুই পক্ষের মধ্যে কোনও যোগাযোগ থাকার কথা তিনি নাকচ করেন। রদ্রিগেজের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে কি না সেটিও শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মাদুরোকে সরাতে ভেনেজুয়েলার কোনও কর্মকর্তার সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল কি না— এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকে চুক্তি করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা এই পথেই এগিয়েছি’। রদ্রিগেজের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন কি না— এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত উত্তর না দিলেও বলেন, রুবিও স্প্যানিশ ভাষায় তার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সম্পর্ক ‘খুব দৃঢ়’।

রদ্রিগেজ সহযোগিতা না করলে দ্বিতীয় সামরিক অভিযান হতে পারে বলে ইঙ্গিতও দেন ট্রাম্প। যদিও তিনি মনে করেন, এমন অবস্থার সৃষ্টি হবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত ছিলাম, এমনকি আগেই এমনটা করার কথা ভেবেছিলাম।’

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার কারণে তাকে নেতৃত্বের দৌড় থেকে সরিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে তিনি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘তার এটা পাওয়া উচিত ছিল না। তবে আমার সিদ্ধান্তের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।’




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD