সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর নেতারা। বৈঠকে সংবাদপত্র শিল্পের বর্তমান সংকট, অর্থনৈতিক চাপ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা–সংক্রান্ত বিষয়সহ বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে গণমাধ্যম খাতের সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে শোনেন এবং বেশ কয়েকটি বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানান।
বৈঠক শেষে নোয়াবের সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী জানান, সংবাদপত্র শিল্প বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপ সহ নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতার সঙ্গে কথা শুনেছেন এবং বেশ কিছু দাবি-দাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে কিছু বিষয়ে বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, তিনি আগের সরকারগুলোর পথ অনুসরণ করবেন না এবং উদার গণতন্ত্রের পথে এগোতে চান। এ অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নোয়াব সভাপতি।
গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ বিনা কারণে কারাবন্দি রয়েছেন কি না বা হয়রানির শিকার হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এ ছাড়া বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান নোয়াব সভাপতি।
বৈঠকে নিয়মিত সংলাপের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়। শেখ হাসিনার শাসনামলে একবার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একবার সম্পাদক ও মালিকদের সঙ্গে বৈঠক হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতি তিন মাসে একবার সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা জানিয়েছেন।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীও জানিয়েছেন, তিন মাস অন্তর এমন বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন।
সভায় নোয়াব সভাপতি দৈনিক মানবজমিন–এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার–এর সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, দৈনিক সমকাল–এর প্রকাশক এ কে আজাদ, দৈনিক বণিক বার্তার প্রকাশক ও সম্পাদক দেওয়ান হানিফসহ অন্যান্য পত্রিকার সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।