বেলজিয়ামে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। আগুন ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর বনভূমি ও প্রাকৃতিক এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাবানলটি এখন জার্মান সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ডাচ হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে জার্মানির সীমান্তবর্তী শহর মনশাও রোববার (১৬ আগস্ট) সীমান্তের কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন জার্মান ভূখণ্ডে পৌঁছানোর আশঙ্কা কম হলেও ব্যাপক ধোঁয়ায় বায়ুদূষণ হতে পারে।
ইউরোপজুড়ে একের পর এক তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। দীর্ঘস্থায়ী তাপ ও বৃষ্টির ঘাটতিতে মাটি ও উদ্ভিদ শুকিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন দেশে দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে।
গ্রিসের সালামিনা দ্বীপে রোববার দাবানলে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া স্পেনের আরাগনে ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে ফ্রান্স থেকে প্রায় ১০০ দমকলকর্মী পাঠানো হয়েছে। ওই আগুনে ১৬ হাজার ৬০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে।
বেলজিয়ামের পূর্বাঞ্চলের হাই ফেনস প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় শুক্রবার থেকে আগুন জ্বলছে। এটি নিয়ন্ত্রণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দমকলকর্মীদের পাশাপাশি প্রতিবেশী জার্মানি ও লুক্সেমবার্গের কর্মীরাও কাজ করছেন। সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় কৃষকরাও আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছেন।
ওয়ালোনিয়া অঞ্চলের প্রশাসনের মুখপাত্র স্টেফানি এরনু জানান, রোববার উদ্ধারকারী দলগুলো জার্মানির দিকে অগ্রসরমান আগুনের সম্মুখভাগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষভাবে নজর দেয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের হাত থেকে সরিয়ে নেওয়া কয়েকটি গ্রামের সুরক্ষা-বেষ্টনী এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে শনিবার যেসব বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের আপাতত বাড়ি ফিরতে নিষেধ করা হয়েছে।
ইউরোপীয় বন অগ্নিকাণ্ড তথ্য ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, এটি বেলজিয়ামে রেকর্ড করা সবচেয়ে বড় দাবানল। ২০১১ সালে যে আগুনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর এলাকা পুড়েছিল, এবারের দাবানল তার দ্বিগুণেরও বেশি বিস্তৃত হয়েছে।
দমকল বাহিনীর ক্যাপ্টেন করিম বুয়ারফা জানান, বেলজিয়ামে এত বড় আকারের আগুনের ঘটনা ঘটতে পারে, তা তারা কখনো ভাবেননি।
বেলজিয়ামের অনুরোধের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন শনিবার বিভিন্ন দেশ থেকে তিনটি হেলিকপ্টার ও দুটি পানি ছোড়ার বিমান পাঠিয়ে উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা করেছে।
সূত্র: রয়টার্স