ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে জেলেনস্কির ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, ইউক্রেনের এমন একজন নেতা প্রয়োজন, যিনি চুক্তি করতে পারবেন। খবর এনডিটিভির
স্থানীয় সময় শনিবার (১০ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমি পরামর্শ দিচ্ছি, তারা যেন এমন একজন নতুন নেতা বেছে নেয়, যিনি চুক্তি করতে পারবেন। কোনো এক কারণে জেলেনস্কি কখনোই তা করতে পারেন না।’
ট্রাম্পের দাবি, ২০২২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুই হতো না। তার ভাষায়, এই যুদ্ধ শুরুর কোনো কারণ ছিল না; অদক্ষতার কারণেই যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
জেলেনস্কির সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেন তার ৩০ শতাংশ ভূখণ্ড হারিয়েছে এবং দুই পক্ষ মিলিয়ে ২০ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এমন যুদ্ধ কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের এক দিন আগে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল সরবরাহ চুক্তির সমালোচনা করেছিলেন জেলেনস্কি। তার মতে, এ ধরনের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারদের জন্য সম্মানজনক নয় এবং এটি একটি ‘দুর্বল সিদ্ধান্ত’।
জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তের জবাবে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আজ রাশিয়া ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে জাপোরিঝঝিয়ায় আবাসিক ভবনে পাঁচটি গ্লাইড বোমা ফেলে।’
এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছে। জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে মস্কোর ওপর যুদ্ধসংক্রান্ত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে।
অন্যদিকে, ক্রেমলিন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে তেল ও তেলজাত পণ্য সরবরাহের প্রস্তুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে মস্কো।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, নভেম্বরে রাশিয়া পাঁচ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে। এরপর সরবরাহের পরিমাণ বাড়িয়ে ১০ লাখ টন করা হবে। পরবর্তী সময়ে আরও বেশি পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এই চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের অবস্থানে স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহের সুবিধা নেওয়ার জন্য রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তকে ইউক্রেন কীভাবে দেখছে, তা জেলেনস্কির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।
(যুগান্তর)