বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন




ট্রাম্পের সংবাদমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক, হোয়াইট হাউসে প্রবেশের নির্দেশ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩০ am
White House official residence workplace president United States Pennsylvania Avenue Washington হোয়াইট হাউস সাদা বাড়ি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক বাসভবন ওয়াশিংটন ডিসি পেনসিলভানিয়া ওয়াশিংটন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকা North America United States United State usa
file pic

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংবাদমাধ্যমের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে করা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এ আদেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক টিম কেলি। তিনি মনে করেন, সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করে থাকতে পারে।

বিচারক বলেন, ট্রাম্পের নিজের বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন ও মতপ্রকাশের কারণে তাদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতিপত্র বাতিল করা হয়েছে। এটি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হয়ে থাকলে তা প্রথম সংশোধনীর পরিপন্থী।

কেলি তার আদেশে লেখেন, ট্রাম্প সম্ভবত সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনকে সাধারণভাবে ভুল ও নিজের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট মনে করায় তাদের হোয়াইট হাউস থেকে দূরে রাখতে চেয়েছেন।

জাতীয় নিরাপত্তার কারণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এই যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেছেন বিচারক। তিনি বলেন, শুরু থেকেই জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিতে অনুমতিপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। ট্রাম্পও সরাসরি কখনো বলেননি যে জাতীয় নিরাপত্তার কারণেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পের নিয়োগ পাওয়া বিচারক কেলি মনে করেন, প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞাটি অসাংবিধানিকভাবে নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে বৈষম্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এর আগে মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের যুক্তিতে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রবেশের অনুমতিপত্র পুনরায় চালু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তার পর্যবেক্ষণ ছিল, প্রবেশাধিকার বাতিলের আগে সংবাদমাধ্যমগুলোকে যথাযথভাবে কারণ জানানো বা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

মামলা দায়েরের পর হোয়াইট হাউস সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়ে নিষেধাজ্ঞার কারণ ব্যাখ্যা করে এবং জবাব দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেয়। তবে বিচারক মনে করেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পর চিঠি পাঠানোয় আগের ত্রুটিগুলো যথাযথভাবে দূর হয়নি।

কেলির নতুন আদেশের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর আগে হোয়াইট হাউসের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দেওয়া আদালতের আদেশটির মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা ছিল।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর থেকে ট্রাম্প বারবার এর পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তার দাবি, সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন নেতিবাচক বা একপেশে হওয়ায় তিনি সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ বন্ধ করতে চেয়েছেন।

তবে আদালতে দেওয়া নথিতে বিচার বিভাগ জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে তুলে ধরে। এ ক্ষেত্রে ইরান যুদ্ধ, হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ে বলরুম নির্মাণ এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলন নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমগুলোর আইনজীবীরা বলেছেন, এ নিষেধাজ্ঞা শুধু প্রেসিডেন্টকে নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগই সীমিত করেনি, বরং অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যেও ভীতি তৈরি করেছে।

গত বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে বিচারক কেলি ট্রাম্প ও বিচার বিভাগের আইনজীবীদের দেওয়া যুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তি যখন কোনো পদক্ষেপের কারণ হিসেবে নির্দিষ্ট বিষয় উল্লেখ করেন, পরে সরকার যখন ভিন্ন কারণ দেখায়, তখন তা অস্বাভাবিক।

বিচার বিভাগের আইনজীবী মাইকেল ভেলচিক আদালতকে বলেন, সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রেসিডেন্টের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে। তার দাবি, সিএনএন বহু বছর ধরেই জানে যে ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমটিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে সমালোচনা করেন।

সংবাদমাধ্যমগুলোর আইনজীবী টেড বুট্রোস জুনিয়র বলেন, নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত ট্রাম্প নিজেই নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে তিনি বারবার প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তার ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট হয়তো একদিন সকালে খারাপ মেজাজে ঘুম থেকে উঠে নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD