তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৩৭ হাজার ছাড়িয়েছে। এরমধ্যে শুধু তুরস্কেই প্রাণহানী হয়েছে ৩১ হাজার ৬৪৩ জনের। অপরদিকে সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজারের কাছাকাছি। দুই দেশে আহত হয়েছেন প্রায় এক লাখ মানুষ।
এদিকে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়াদের উদ্ধার প্রচেষ্টা এখন শেষ দিকে। আর হয়ত কয়েক ঘণ্টা এই অভিযান চলতে পারে। ভূমিকম্পের পর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখন আর কারও ধ্বংসস্তুপের নিচে বেঁচে থাকার সুযোগ নেই। মেক্সিকো ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এডুয়ার্ডো রেইনোসো অ্যাঙ্গুলো বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, জীবিত আর কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা এখন একেবারেই কম।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের জরুরী পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অধ্যাপক ডেভিড আলেকজান্ডারও একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, সম্ভাবনা এখন খুব বেশি নেই। অনেক ভবন এতটাই খারাপভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল যে তারা খুব ছোট ছোট টুকরোয় ভেঙে পড়েছে।
ফলে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট জায়গা ছিল না। ভবন ধ্বসে পড়লেও যদি তার ফ্রেমটা ঠিক থাকে তাহলে উদ্ধারকারীরা টানেল খুড়ে ভেতরে থাকাদের বের করে আনতে পারেন। কিন্তু তুরস্ক এবং সিরিয়ার দিকে তাকালে দেখা যাবে সেখানে সব গুড়োগুড়ো হয়ে গেছে।
শীতের জন্যেও মানুষের বাঁচার আশা কমে গেছে। শীতের মধ্যে শরীর নিজেকে গরম রাখতে প্রচুর ক্যালোরি বার্ন করতে থাকে। ফলে মানুষের খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া টেকের জরুরি মেডিসিনের অধ্যাপক ডঃ স্টেফানি লারেউ বলেন, ওই অঞ্চলে প্রচণ্ড শীত থাকায় এত বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।