শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন




দুর্নীতি কমে গেছে, মনে করে না টিআইবি

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৫:৫৫ pm
transparency international bangladesh tib ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ টিআইবি
file pic

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) চেয়ারম্যান ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়নি। দুর্নীতি এখনও আছে। তবে এটা বেড়েছে নাকি কমেছে সেটি এখনই বলা অনেক তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর দুর্নীতি কমে গেছে কিংবা অর্থ পাচার বন্ধ হয়ে গেছে বলে মনে করে না ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল।

বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁ এ কথা বলেন। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইর চেয়ারম্যানের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে টিআইবি।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের দুর্নীতি পরিস্থিতি নিয়ে টিআই চেয়ারম্যানের পর্যবেক্ষণ জানতে চান সাংবাদিকেরা। জবাবে তিনি বলেন, স্বৈরশাসনের শেষের বছরগুলোতে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে বেড়েছিল। গত বছরের আগস্টে শাসনক্ষমতার পরিবর্তনের পরও দুর্নীতি পুরোপুরি শেষ হয়নি।

টিআই চেয়ারম্যান আরও বলেন, যেসব দুর্নীতির মামলায় প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত, সেসব যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিয়ে যেতে হবে এবং একটি চূড়ান্ত পরিণতি দিতে হবে। যেসব দেশ তা করতে পেরেছে, তারাই দুর্নীতি ধারণা সূচকে নিজেদের স্কোর উন্নত করতে সক্ষম হয়েছে।

দেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও খুনখারাপির বিষয়ে টিআই চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘যদি সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের কর্মী ও মানবাধিকারকর্মীরা হয়রানি, হুমকি কিংবা সহিংসতার মধ্যে থাকেন, তবে ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ বা জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।’ নাগরিকদের তথ্য জানানো এবং সত্য প্রকাশ করা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। তাই সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় বাংলাদেশ সফরের কারণ জানতে চাইলে টিআই চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে তাঁর দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ পরিদর্শন শেষ হচ্ছে এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফর। বাংলাদেশ সফরের আগে তিনি মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কায় গেছেন। তাঁর এ সফর শুধু প্রতীকী নয়; এর উদ্দেশ্য দুর্নীতিবিরোধী বৈশ্বিক আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি জানানোও।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সহযোগিতা করছে টিআই

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন (১ হাজার ৬০০ কোটি) ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। এ অর্থ ফেরাতে টিআই সহযোগিতা করছে বলে জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান।

ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁ বলেন, পাচার হওয়া অর্থ কোথায় আছে, তা জানা জরুরি। নাগরিক সমাজকে জানতে হবে, অর্থ কোথায় আছে এবং নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হতে হবে; যাতে সেই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা যায়।অর্থ পাচার ঠেকাতে বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

সম্প্রতি লন্ডনে ১৮৫ মিলিয়ন (১৮ কোটি ৫০ লাখ) পাউন্ড মূল্যের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার উদাহরণ টেনে টিআই চেয়ারম্যান বলেন, এটি সম্ভব হয়েছে টিআই বাংলাদেশ, টিআই যুক্তরাজ্য ও স্পটলাইট অন করাপশন (যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা)–এর যৌথ উদ্যোগে। এখানে নাগরিক সমাজ তার ভূমিকা রেখেছে এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষও ব্যবস্থা নিয়েছে।

বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর প্রায় এক ট্রিলিয়ন (লাখ কোটি) ডলার চুরি হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁ বলেন, এসব অর্থ প্রতিটি দেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও জলবায়ু নীতির জন্য প্রয়োজন ছিল।

বাংলাদেশ থেকে পাচার করা অর্থে দুর্নীতিবাজ নেতারা বিলাসবহুল বাড়ি–গাড়ি কেনেন জানিয়ে ভ্যালেরিয়াঁ বলেন, তবে সেটিও হিমশৈলীর অংশমাত্র। এ অর্থের বড় অংশ ক্যাপিটাল মার্কেটে যায়, সেখানে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ে ও অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যে অর্থ জনগণের কাজে লাগার কথা ছিল, তা পরিণত হচ্ছে নিরর্থক ব্যক্তিগত অর্থে।

এদিকে পাচার করা অর্থ ফেরত আনার চেষ্টার পাশাপাশি টাকা পাচার রোধে প্রচেষ্টা চালানোর পরামর্শ দেন টিআইবির নির্বাহীর পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, যদি বিদেশে অর্থ পাচার করার কোনো সুযোগ না থাকে, পাচারকারীরা টাকা পাচারের সুযোগ পাবেন না। তাই টাকা দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। সেটি বন্ধ করার যে হাতিয়ার রয়েছে সেগুলো আরও শাণিত করতে হবে। এ–সংক্রান্ত আইনগুলো আরও জোরালোভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

 




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD