নিজেদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে সর্বোচ্চ উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় তুরস্ক ও বাংলাদেশ। আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান।
এ সময় উভয় দেশের মধ্যকার ইতিহাস, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও ধর্মের দিক উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত তুরান বলেন, দুই দেশ ব্যবসা ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের একটি চমৎকার সময় অতিবাহিত করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতি বজায় রাখতে বাংলাদেশের পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এশিয়াকে ঘিরে আমাদের নতুন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ তুরস্কের শান্তি ও স্থিতিবিষয়ক এসব নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করতে একটি উল্লেখযোগ্য দেশ হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

এ সময় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের অসামান্য অবদানের কথা উল্লেখ করে তুরান বলেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি উল্লেখযোগ্য কাজ সমাধান করা সম্ভব।
তুরান উল্লেখ করেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ইতোমধ্যে ১০০ কোটি ইউএস ডলার অতিক্রম করেছে। বর্তমানে এর পরিমাণ প্রায় ১৫০ কোটি ইউএস ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
রাষ্ট্র্রদূত বলেন, আমরা বাংলাদেশ থেকে পাট আমদানি করে থাকি। কার্পেট শিল্পে আমাদের প্রায় অর্ধেক কাঁচামাল বাংলাদেশ থেকে সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও আমরা বাংলাদেশ থেকে ওষুধও আমদানি করে থাকি। পাশপাশি তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি করা পণ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তুরস্ক বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরণের যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক দ্রব্য ও তুলা সামগ্রী রপ্তানি করে থাকে।
গত তিন বছরে তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যকার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও কথা বলেন তুরান। তিনি বলেন, সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে আমরা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছি। তুরস্কে বাংলাদেশের প্রায় তিন হাজার সামরিক কর্মকর্তা গত তিন বছরে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ তুরস্ক থেকে সাঁজোয়া যান ও বহুমুখী রকেট নিক্ষেপণ ব্যবস্থা ক্রয় করেছে। এছাড়াও তুরস্কের উৎপাদিত সামরিক ড্রোন ক্রয়ের ব্যাপারেও ঢাকার সঙ্গে আঙ্কারার চারটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানান তুরান।