বাংলাদেশ ক্রিকেটের অস্থির সময়ে নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে আবার জাতীয় দলে ফেরাতে চায় বিসিবি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সংকটকালীন মুহূর্তে ৩৮ বছর বয়সি সাকিবকে আবার স্মরণ করেছে বোর্ড।
নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে না খেলার সিদ্ধান্তে সরকার ও বিসিবি অনড় থানায় শনিবার আইসিসি বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে ২০২৬ টি ২০ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দিয়েছে। বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হারানোর খবরটি বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। আপাত সমাধান হিসাবে সাকিবকে ফেরানোর উদ্যোগ নেয় বিসিবি।
বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, সাকিবকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত আসলে সরকারের কোনো পক্ষ থেকে এসেছে। সরকারের ধারণা, যারা ক্ষুব্ধ তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সাকিবের অনুসারী। তাই গত পরশু রাতে বোর্ডের জরুরি সভায় সাকিবকে জাতীয় দলে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রায় দেড় বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর এমন এক সময়ে সাকিবের ফেরার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে যখন বাংলাদেশ টি ২০ বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। বিসিবি জানিয়েছে, সাকিবের দলে ফিরে আসার সম্ভাবনা মূলত তার ফিটনেস, জাতীয় দলে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকা এবং নির্বাচকদের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে। তবে সাকিবের রাজনৈতিক অবস্থান এখনো বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ২০২৪ সালে বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সাকিবকে ঘিরে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিশেষত, তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় নির্লিপ্ত থাকার কারণে অনেকের ক্ষোভের শিকার হন সাকিব। যদিও জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। বিসিবি এখন বলছে, সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার জন্য সরকারের সম্মতি প্রয়োজন। বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবর বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সম্মতি ছাড়া সাকিবের ফেরার সম্ভাবনা নেই এবং সরকার পরিবর্তন হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। এসব পরিপ্রেক্ষিতে, সাকিবের ভবিষ্যৎ জাতীয় দলে তার পারফরম্যান্সের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও নির্ভর করবে, যা এখনো অস্পষ্ট।’ যেখানে সরকারের সিদ্ধান্ত ছাড়া এক চুলও নড়তে পারে না বিসিবি, সেখানে সাকিবকে ফেরানোর মতো সিদ্ধান্ত হলো কীভাবে? নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত উপর থেকে এসেছে। এরপর বিসিবি অনুধাবন করতে পেরেছে, সমালোচনা সামলাতে সাকিবের বিষয়টা সামনে আনার এটাই সঠিক সময়। সব ঠিক থাকলে দ্রুতই আইনি সব প্রক্রিয়াও ঠিক হয়ে যাবে। সমর্থকদের একটা বড় অংশ সাকিবকে ভালোবাসে, তার ফেরার খবরে অন্য সব ভুলে যাবে। আর একটি সমর্থক গ্রুপ আছে যারা সত্যিই সত্যিই ভারতে দলকে খেলতে দেখতে চায় না।’ বিসিবির আরেকটি সূত্র জানায়, ‘এই মুহূর্তে দেশের আইন, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তাই ইচ্ছা থাকলে সাকিবকে ফেরানো খুব কঠিন কাজ হবে না।’
ধারণা করা হচ্ছে, আসিফ নজরুলের ইচ্ছাতেই সাকিবকে ফেরানোর পরিকল্পনা করেছে বিসিবি।
সাকিব দেশের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২৪ সালে। এরপর একাধিক ক্রিকেটীয় ও রাজনৈতিক কারণে আর জাতীয় দলে ডাক পাননি তিনি। অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধও ছিলেন মাঝে। তবে আশা ছাড়েননি দেশের জার্সিতে ফেরার। এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, ঘরের মাঠে জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ খেলে পাকাপাকিভাবে তিন ফরম্যাটকে বিদায় জানাতে চান। এবার সেই সুযোগ করে দিতে চায় বিসিবি। কেন্দ্রীয় চুক্তিতে সাকিবের নাম রাখতে চায় তারা। তবে সবটাই নির্ভর করছে বাংলাদেশ সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয় তার ওপর। গত দেড় বছরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন টি ২০ টুর্নামেন্টে খেলেছেন। সবচেয়ে বেশি খেলেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ভারত ও শ্রীলংকায় টি ২০ বিশ্বকাপ শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। ১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশ কোনো বিশ্বকাপে খেলতে পারছে না।
(যুগান্তর)