শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৪ অপরাহ্ন




তিস্তাসহ পাঁচ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:৩০ pm
flood Water level Of Jamuna jamuna-river প্লাবন flood flood Disaster Flood Safety adb Flood Flooding overflow water rain snow coastal storms storm surges dangerous floodwaters floodwater বন্যা কবলিত পানি প্রবাহ প্রবাহিত পানি জোয়ার ভাটা কৃষি জোয়ার-ভাটা দুর্যোগ বন্যা বন্যার্ত পানি বন্যা-Kurigram বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই
file pic

সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও উজানের বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দেশের ৫ নদীর ৯ স্টেশনে পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে।

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৫টি নদীর ৯টি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্টে পানি যথাক্রমে ৯৫ ও ২৩ সেন্টিমিটার, মাতামুহুরী নদীর লামা ও চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৪৭ ও ৩২ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১৮ ও ১০ সেন্টিমিটার, মনু নদীর মনু রেলওয়ে ব্রিজ ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৩৫ ও ৮০ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদীর বল্লা পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

এ ছাড়া ৫টি নদীর আরও ৯টি স্টেশন সতর্ক সীমায় রয়েছে। এগুলো হলো– তিস্তা নদীর ডালিয়া (নীলফামারী), কাউনিয়া (লালমনিরহাট) ও তারাপুর (গাইবান্ধা); কুশিয়ারা নদীর শেরপুর (মৌলভীবাজার); সুরমা নদীর কানাইঘাট (সিলেট), ছাতক ও সুনামগঞ্জ; সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) এবং ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) পয়েন্ট।

গত ২৪ ঘণ্টায় উজানে সর্বোচ্চ ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে। একই সময়ে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে।

পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৪৩টিতে কমেছে এবং ৫টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এদিকে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি কয়েক দিন ধরেই ওঠানামা করছে। গত কয়েক দিনে পানি কিছুটা কমলেও বৃহস্পতিবার আবারও বাড়তে শুরু করেছে। দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও রাত ৯টার মধ্যে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে ৩ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে যায়। এতে তিস্তা ব্যারাজের ভাটির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আকস্মিক পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়াসহ শত শত পরিবার পানিবন্দি হওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ মিটার। এই পয়েন্টে পানির বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার, যা বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতে কয়েকদিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। উজানের এ ঢলের কারণে বাংলাদেশ অংশের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কয়েক দিন ধরে পানি প্রবাহ ওঠানামা করলেও বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে ভারি বৃষ্টি আর উজানের ঢলে বুধবার তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বেড়ে গিয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করে। ফলে তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং শত শত পরিবার পানিবন্দি হতে পাড়ে।

ইতোমধ্যে বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। জেলার ৫টি উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকা বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পানির চাপ বেড়ে গেলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদীর তীরবর্তী এলাকার উঁচু রাস্তাগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করা এসব বাঁধ চলতি বন্যায় বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব নিয়ে কাজ না করে ফেলে রাখে। বর্ষা এলে এগুলোতে জরুরি মেরামত শুরু করে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হয়। অথচ শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ মেরামত করলে কাজগুলো যেমন পাকাপোক্ত হতো, তেমনি নদী ভাঙন আর বন্যার ক্ষতি থেকেও রক্ষা পাওয়া যেত।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ভারি বৃষ্টি আর উজানের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় পানি বেড়েছে তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে। এ কারণে নদী তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বন্যা দেখা দিতে পারে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, রাত ৯টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানের পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় এ পয়েন্টে পানি প্রবাহ বেড়েছে। তাই হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘ হতে পারে। উজানের ঢলের ওপরই নির্ভর করে পানির চাপ কমবেশি হতে পারে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD