মধুর পুষ্টিগুণ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধুতে বিভিন্ন উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। এ কারণে মধু খাওয়া হলে প্রদাহের প্রকোপ কমে। ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি কম থাকে। এতে থাকা উপাদানের কারণে ব্লাড প্রেশারও কম থাকে। আবার হার্ট ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি মধুতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে। এ জন্য কাঁটাছেঁড়ায় মধু দেয়া হলে উপকার পাওয়া যায়। একইসঙ্গে সর্দি-কাশিতেও মধু খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।
দিনের কোন সময় খাওয়া ভালো:
পুষ্টিবিদ শর্মিষ্ঠার ভাষ্যমতে―দিনের যেকোনো সময় মধু খাওয়া যায়। এতে কোনো সমস্যা নেই। বরং উপকার মিলে। তবে অধিকতর উপকার পাওয়ার জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠে মধু খাওয়া উচিত। এতে স্বাস্থ্য ভালো হবে এবং শরীরে শক্তির ঘাটতিও দূর হবে। তাই, সকালে ঘুম থেকে ওঠে মধু খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু যারা নিয়মিত সকালে মিষ্টিজাতীয় এই উপাদান খেতে চান না, তারা দিনের অন্য যেকোনো সময় খেতে পারেন।
খাওয়ার উপায়:
সকালে ঘুম থেকে ওঠে এক চামচ মধু খেতে পারেন। এতে উপকার মিলবে। যদিও কেউ কেউ শুধু মধু খাওয়া পছন্দ করেন না। এ ক্ষেত্রে দুধ বা চায়ে চিনির পরিবর্তে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। তাতেও উপকার পাওয়া যাবে। এছাড়া সর্দি-কাশি হলে এম চামচ মধুতে এক টুকরো তুলসি পাতা দিয়ে খেতে পারেন। ফলে সর্দি-কাশির প্রকোপ কমবে। ধীর গতিতে গলা ব্যথার সমস্যাও কমবে।
মধুকে না বলবেন কারা:
মধু উপকারী উপাদান হলেও এটি সবার খাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের মধু থেকে দূরে থাকা উচিত। মধু খাওয়া হলে হঠাৎ করে সুগার বেড়ে যেতে পারে। নানা সমস্যাও পিছু নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি কিডনির সমস্যা থাকলেও মধু খাওয়া যাবে না।
সতর্কতা:
কোনো সুস্থ মানুষের দিনে ২ চামচের বেশি মধু খাওয়া ঠিক নয়। এতে একাধিক শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
মধুর বিকল্প:
মধু উপকারী ও পছন্দের হলেও অনেকের ক্ষেত্রে এটি গ্রহণে নিষেধ করে থাকেন চিকিৎসকরা। তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুগার ফ্রি খেতে পারেন। কিন্তু হ্যাঁ, কোনো রান্নায় সুগার ফ্রি দেয়া যাবে না। কারণ, মিষ্টি উপাদান বেশি গরম করলে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান বের হয়, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।