অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রমে ব্যবহৃত ৮ হাজার ৬৮২টি সিম শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ ঘটনায় চার মোবাইল অপারেটরকে মোট ৮ কোটি ৬৮ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত ২১ জুলাই চার অপারেটরের কাছে এ সংক্রান্ত আলাদা আলাদা নোটিশ পাঠায় বিটিআরসি। বিটিআরসির উপপরিচালক শারমিন সুলতানা স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রমে ব্যবহৃত প্রতিটি সিমের জন্য ১০ হাজার টাকা হারে প্রশাসনিক জরিমানা করা হয়েছে। তবে এ শাস্তিকে যথেষ্ট মনে করছে না সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি শুধু জরিমানা নয়, জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এত বিপুলসংখ্যক সিম অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হওয়া শুধু লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রীয় রাজস্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং টেলিযোগাযোগ খাতের সুশাসনের জন্যও বড় ধরনের হুমকি। তাই প্রশাসনিক জরিমানার মাধ্যমে এত বড় অনিয়মের দায় শেষ হতে পারে না। অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রমের মাধ্যমে সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকি ও অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনেরও দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি সরকারের কাছে চার দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে, জড়িত ব্যক্তি ও চক্রকে চিহ্নিত করে ফৌজদারি মামলা করা, রাষ্ট্রের প্রকৃত রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও তা আদায়, বিটিআরসি, এনটিএমসি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দুদকের সমন্বয়ে যৌথ তদন্ত সেল গঠন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রযুক্তিগত নজরদারি আরও জোরদার করা।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি জরিমানা করা হয়েছে রবি আজিয়াটাকে। প্রতিষ্ঠানটির ৫ হাজার ৯৩৫টি সিম অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রমে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় তাদের ৫ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাংলালিংকের ১ হাজার ৮৮২টি সিম অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ কোটি ৮৮ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের ৬৮১টি সিম ভিওআইপি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৬৮ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর গ্রামীণফোনের ১৮৪টি সিম অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রমে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় অপারেটরটিকে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে কমিশন।
বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, এনটিএমসির সঙ্গে যৌথ অভিযানে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় পরিচালিত অভিযানে এসব সিম শনাক্ত করা হয়েছে। অপারেটরগুলো অবৈধ আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(যুগান্তর)