বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ন




এই বছর বিপিএল হচ্ছে না: তামিম

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬ ৬:১৮ pm
Bangladesh Premier League BPL বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএল বিপিএল
file pic

সমকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তামিম ইকবাল আগেও বলেছিলেন, জোড়াতালি দিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন করতে চান না। এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি সরাসরিই জানিয়ে দিলেন, এ বছর বিপিএল মাঠে গড়াচ্ছে না। একই সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য নতুন একটি কাঠামো তৈরির কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তামিম বলেন, ‘এ বছর বিপিএল মাঠে গড়াচ্ছে না। আমরা একটি নতুন ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছি। যখন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে, তখন আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেব যে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারটি আমরা কীভাবে সাজাচ্ছি। এটি বেশ ভিন্নধর্মী ও রোমাঞ্চকর হতে চলেছে।’

বিপিএল আয়োজন না করার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে বলে জানান বিসিবি সভাপতি। তার মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলোর নিয়ম না মানা, বকেয়া পরিশোধে সমস্যা এবং দলগুলোর দায়িত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা টুর্নামেন্টকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

তামিম বলেন, ‘আমি আগেই বেশ কয়েকবার ইঙ্গিত দিয়েছিলাম যে আমি বিপিএল এভাবে পরিচালনা করব না। এখানে মূলত দুই-তিনটি বড় ইস্যু রয়েছে। প্রথমত, আমাদের মূল এজেন্ডা ছিল যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন সম্পন্ন করা।’

বিপিএলের দলগুলোর বর্তমান অবস্থাও তুলে ধরেছেন তিনি। তামিমের ভাষায়, ‘রংপুর ও রাজশাহী ছাড়া বাকি দলগুলোর অবস্থা কী? কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন ও নীতিমালা ভাঙা হয়েছে। যদিও রাজশাহী পেমেন্ট ক্লিয়ার করেছে, তবুও তাদের ক্ষেত্রেও যে শতভাগ কমপ্লায়েন্স বা নিয়মের কড়াকড়ি রক্ষা করা হয়েছে, তা নয়।’

গত দুই বছরে বিপিএল থেকে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলেও জানান তামিম। তার মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট থেকে বোর্ডের লাভ হওয়ার কথা, লোকসান নয়। তিনি বলেন, ‘যদি কোনো দল টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায় বা কমপ্লায়েন্স পূরণ না করে, তবে বিসিবিকে সেই দলের দায়িত্ব নিতে হয়। গত দুই বছরে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকার মতো লোকসান হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে তো বিসিবির লাভ করার কথা, লোকসান নয়।’

তাই সমস্যাগুলোর সমাধান না করে শুধু টুর্নামেন্ট চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে নন বিসিবি সভাপতি। তবে বিপিএল বন্ধ করে দেওয়ার ইচ্ছা বোর্ডের নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। তামিম বলেন, ‘এটি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের ইচ্ছা এক হাজার শতাংশ রয়েছে। তবে আমি কোনো তাড়াহুড়ো করতে চাই না। আমি কাজটি সঠিকভাবে করতে চাই, সেজন্য যদি ৬ বা ১২ মাস সময়ও লাগে, আমি তা নেব।’

ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নিয়ম ভঙ্গ, বকেয়া অর্থ ও ব্যাংক গ্যারান্টিসহ বিভিন্ন সমস্যা ধাপে ধাপে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তার মূল লক্ষ্য, পুরো ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজানো যাতে বিসিবি লাভজনক ও টেকসই কাঠামোর মাধ্যমে বিপিএল পরিচালনা করতে পারে।

পরবর্তী বিপিএলের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রক্রিয়াও আগেভাগে শেষ করতে চান তামিম। তার পরিকল্পনা, আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে দলগুলোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। ‘আগে যা হতো, একেবারে শেষ মুহূর্তে সবকিছু করা হতো। আমরা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো চূড়ান্ত করতে চাই, যাতে কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে বা সরে দাঁড়ালে আমাদের হাতে বিকল্প খোঁজার মতো যথেষ্ট সময় থাকে,’ বলেন তিনি।

তামিম আরও বলেন, ‘আমি চাইলে কালকেই পাঁচটি দল দাঁড় করিয়ে দিতে পারি, কিন্তু আমি তা করব না। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিযোগিতামূলক ফেয়ার ক্রিকেট নিশ্চিত করা এবং বিসিবির সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখা। এর জন্য যদি আমাকে কোনো সমালোচনাও শুনতে হয়, তবুও আমি রাজি।’

বাংলাদেশে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে ২০১৪ সালে ফিক্সিং কেলেঙ্কারির কারণে বিপিএল আয়োজন করা হয়নি। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২১ সালেও টুর্নামেন্টটি মাঠে গড়ায়নি।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD