ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপের প্রতিনিধিরা বলেন, ‘বীর’-এর নতুন যাত্রায় ডিলারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষকদের কাছে মানসম্মত কৃষি-উপকরণ সহজলভ্য করার পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের কৃষি-শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।
দিনাজপুরের দ্যা গ্র্যান্ড দাদুবাড়ি রিসোর্টে ধানের ব্লাস্ট রোগ দমনে কার্যকর কীটনাশক ‘বীর’-এর নতুন যাত্রা ও বাজার সম্প্রসারণের প্রত্যয়ে ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘বীর’-এর পুনঃউন্মোচন ও পরিবেশক সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী এ আয়োজনে দিনাজপুর অঞ্চলের শতাধিক ডিলার এবং ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপের প্রধান কার্যালয় ঢাকা থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান। উদ্বোধন বক্তব্যে তারা ‘বীর’-এর নতুন যাত্রা, স্থানীয় উৎপাদনের উদ্যোগ, বাজার সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের কাছে মানসম্মত কৃষি-উপকরণ পৌঁছে দেয়ার বিষয়ে তাদের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন।
কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বীর’ ব্র্যান্ডকে নতুনভাবে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ২০২৬ সালেই বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে এর ফর্মুলেশন ও উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ধানের ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগ দমনে ব্যবহৃত বালাইনাশক এতদিন দেশের বাজারে মূলত আমদানির মাধ্যমে পাওয়া যেত। ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপ এটি দেশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে কৃষকরা তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় কীটনাশকটি পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
একই সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমবে, দেশের কৃষি-শিল্পের সক্ষমতা বাড়বে এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ কমিয়ে লাভজনকতা বৃদ্ধিতেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি জানান।
কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন, কৃষকদের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মানসম্মত ও কার্যকর কৃষি-উপকরণ সহজলভ্য করার পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতকে আরো এগিয়ে নিতে ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপ কাজ করে যাচ্ছে।
দেশের বাজারে ধানের রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত বালাইনাশক মূলত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে আমদানি করে বাজারজাত করে আসছিল। কৃষকদের কাছে এ ধরনের কৃষি-উপকরণ আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপ প্রথমবারের মতো ‘বীর’ বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ফলে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি কৃষকদের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্যটি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমানো, কৃষকের লাভজনকতা বৃদ্ধি এবং দেশের কৃষি খাতকে আরো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মতবিনিময় পর্বে দিনাজপুর অঞ্চলের ডিলাররা ‘বীর’-এর নতুন ব্র্যান্ডিং, স্থানীয় উৎপাদন ও বাজার কার্যক্রম নিয়ে তাদের মতামত ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন ব্র্যান্ডিংয়ের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের উদ্যোগের ফলে ‘বীর’-এর সরবরাহ ও বাজার সম্প্রসারণ আরো গতিশীল হবে এবং দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষকদের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপের প্রতিনিধিরা বলেন, ‘বীর’-এর নতুন যাত্রায় ডিলারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষকদের কাছে মানসম্মত কৃষি-উপকরণ সহজলভ্য করার পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের কৃষি-শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।
কেক কাটার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বীর’-এর পুনঃউন্মোচন এবং ব্র্যান্ডটির নতুন ‘বীর মাসকট’ উন্মোচন। নতুন পরিচয়ে ব্র্যান্ডটির যাত্রাকে ঘিরে ডিলার ও কোম্পানির প্রতিনিধিদের মধ্যে এ সময় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ডিলারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, উৎসাহ ও ইতিবাচক প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী ‘বীর পুনঃউন্মোচন ও ডিলার সম্মেলন ২০২৬’ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।