রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন




‘আমার দেশ’ ছিঁড়ে ফেলা গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আক্রমণ: ডিইউজে

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:৫০ pm
The Dhaka Union of Journalists DUJ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজে
file pic

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের ভিডিও বার্তায় প্রকাশ্যে ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা এবং সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।

গত শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত ‘আমার দেশ’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনের জবাবে রাশেদ খান ওই প্রতিক্রিয়া জানান। তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের প্রতিবাদে রোববার এক বিবৃতিতে ডিইউজে সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মতো দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্য ভিডিও করে প্রচার করার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আক্রমণের শামিল। এই আচরণের মাধ্যমে তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মৌলিক নীতিকেই অস্বীকার করেছেন।

তারা আরও বলেন, আমার দেশ বা অন্য কোনো সংবাদপত্রের খবরে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি প্রতিবাদ পাঠাতে পারতেন, প্রেস কাউন্সিলে যেতে পারতেন, এমনকি আইনের আশ্রয়ও নিতে পারতেন। কিন্তু এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে ফেসবুকে ভিডিও প্রচার করে সংবাদপত্র সম্পর্কে রাশেদ খান কী বার্তা দিলেন? সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকে এভাবে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা স্পষ্ট উসকানিমূলক আচরণ। সরকারের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে কেউ এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করে না। কারণ, ব্যক্তি রাশেদ খান আর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী এক কথা নয়। এ বিষয়টি বুঝতে অপারগ ব্যক্তিদের দায়িত্বশীল পদে বসা উচিত নয়।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও ‘আম-জনতা দল’-এর সদস্য সচিব তারেক রহমান ‘আমার দেশ’-এর একটি পুরোনো খবরকে কেন্দ্র করে সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আইনের আওতায় আনার যে দাবি জানিয়েছেন, তাকেও উসকানিমূলক ও সম্পাদককে সরাসরি হুমকি প্রদানের শামিল বলে উল্লেখ করেন ডিইউজে নেতারা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা, আগুন দেওয়া এবং পত্রিকা অফিসে হামলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছিল। বর্তমানে রাশেদ খানের মতো ব্যক্তিরাও একই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত উসকানি দিয়ে যাচ্ছেন।

ডিইউজে নেতৃবৃন্দ এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবাদপত্রের ওপর আক্রমণ, সম্পাদকদের হুমকি এবং বিদ্বেষ ছড়ানোর মাধ্যমে মূলত দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সাংবাদিক সমাজ এ ধরনের কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করবে না।

সম্পাদক পরিষদের বিবৃতি

মতপার্থক্য প্রকাশে দায়িত্বশীলতা, শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। রোববার এক বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এ আহ্বান জানান।

এতে বলা হয়, শনিবার প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার একটি কপি তাকে ছিঁড়ে ফেলতে দেখা যায়।

সম্পাদক পরিষদ মনে করে, সংবাদ বা সম্পাদকীয় বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে মতপার্থক্য প্রকাশে দায়িত্বশীলতা, শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা জরুরি।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী এবং সচিব পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত ব্যক্তি হিসেবে তার বক্তব্য ও আচরণে সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া প্রত্যাশিত। একইসঙ্গে সাংবাদিকতার পেশাগত মান, বস্তুনিষ্ঠতা, নৈতিকতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। সম্পাদক পরিষদ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানায়, উসকানিমূলক বক্তব্য, হুমকি ও হয়রানি থেকে বিরত থাকুন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সমুন্নত রাখুন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর আমার দেশ ছিঁড়ে ফেলার ভিডিও বার্তার নিন্দা ও প্রতিবাদ এনইসির

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় প্রকাশ্যেই ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলেছেন। বক্তব্যে তিনি ‘আমার দেশ’ পত্রিকা এবং সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারসহ চরম বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন। ৩১ অক্টোবর (শনিবার) ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের জবাবে রাশেদ খাঁন এ ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখান।

রাশেদ খাঁনের এহেন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)। আজ রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে এনইসির সভাপতি শফিক রেহমান ও কোষাধ্যক্ষ শফিকুল আলম এই উদ্বেগ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মতো দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্য ভিডিও করে প্রচার করার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাতের শামিল। এই আচরণের মাধ্যমে তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মৌলিক নীতিকেই অস্বীকার করেছেন।’

তারা আরো উল্লেখ করেন, ‘আমার দেশ বা অন্য কোনো সংবাদপত্রের খবরে সংক্ষুব্ধ হলে তিনি প্রতিবাদ পাঠাতে পারতেন, প্রেস কাউন্সিলে যেতে পারতেনÑএমনকি আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন। কিন্তু এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ ছাড়া ফেসবুকে ভিডিও প্রচার করে সংবাদপত্র সম্পর্কে তিনি কী বার্তা দিলেন? সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকে এভাবে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা একটি স্পষ্ট উসকানিমূলক আচরণ। একই সঙ্গে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও আম-জনতা দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান ‘আমার দেশ’-এর একটি পুরোনো খবরকে কেন্দ্র করে সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আইনের আওতায় আনার যে দাবি জানিয়েছেন, তা শুধু উসকানিমূলকই নয়; বরং সম্পাদককে সরাসরি হুমকি প্রদানের শামিল।

এনইসি নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা, আগুন দেওয়া এবং পত্রিকা অফিসে হামলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছিল। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বিষয়, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও প্রায় একই ধরনের আচরণ করছেন।

বিবৃতিতে নেতারা এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার জোর আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন বলেন, সংবাদপত্রের ওপর আক্রমণ, সম্পাদকদের হুমকি দেওয়া এবং বিদ্বেষ ছড়ানোর মাধ্যমে দেশে মূলত গণমাধ্যমের স্বাধীনতাই সংকুচিত করা হচ্ছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD