ঢাকাসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় আগামীকাল সোমবার থেকে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার রিকশা (ই-রিকশা) নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। আপাতত চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগবে না। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে আটটি জোন করা হবে। প্রতিটি জোনের রিকশার জন্য থাকবে আলাদা রং। ফলে এক জোনের রিকশা অন্য জোনে চলতে পারবে না।
রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা-২০২৬’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
নতুন বিধিমালা প্রকাশের পর ই-রিকশাচালকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন দেওয়া হবে এবং অবৈধ ই-রিকশা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের কিছুটা সময় দিতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিধিমালা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করে কেউ যেন রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে না পারে, সে জন্য সবাইকে অনুরোধ করব। আপাতত যারা যেভাবে রিকশা চালাচ্ছেন, তারা নিয়ম মেনে চালাবেন। পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন দেওয়া হবে এবং অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আট জোনে চলবে ঢাকার ই-রিকশা
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে আটটি জোন করা হবে। এর মধ্যে উত্তর সিটিতে চারটি এবং দক্ষিণ সিটিতে চারটি জোন থাকবে। প্রতিটি জোনের রিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি কোন জোনে কত রিকশা চলবে, তা ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন আলোচনা করে ঠিক করবে।
মীর শাহে আলম বলেন, জোনভিত্তিক রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় যেতে না পারে। কোন জোনে কতগুলো রিকশা চললে যানজট তৈরি হবে না, তা ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে নির্ধারণ করবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, যেসব সড়কে বাস চলাচল করে, সেসব সড়কে ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা
প্রতিমন্ত্রী জানান, ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। নিবন্ধন প্লেটের জন্য দিতে হবে আরো ১ হাজার টাকা। নিবন্ধন প্রতিবছর নবায়ন করতে হবে। তবে নবায়ন ফি কত হবে, তা সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করা হয়নি।
ই-রিকশার নিবন্ধন নম্বর, মালিকের তথ্য, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং কোন জোনে রিকশাটি চলাচল করতে পারবে, তা কিউআর কোডে থাকবে। চালকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আপাতত পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা রাখা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপাতত চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। নিবন্ধন কার্যক্রম কিছুটা এগিয়ে গেলে এ বিষয়ে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।
বুয়েটের নকশা অনুযায়ী রিকশা সংশোধন
ই-রিকশা নিবন্ধনের আগে বিদ্যমান যানবাহনগুলোকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী সংশোধন করতে হবে। এরপরই নিবন্ধন দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বর্তমানে চলাচলকারী ই-রিকশাগুলোকে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে। উৎপাদনকারীদেরও অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করে যানবাহন তৈরি করতে হবে।
ই-রিকশার চার্জিং স্টেশন স্থাপনের বিষয়েও বিধিমালায় নির্দেশনা রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানে চার্জিং স্টেশন স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হবে। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে রিকশা চার্জ করার ব্যবস্থা করতে পারলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রিকশা চার্জ দেওয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব কার্যক্রম নিয়মিত তদারক করবেন।
এক মাস পর অগ্রগতি জানাবে সরকার
ই-রিকশা নিবন্ধন কত দিনের মধ্যে শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর এক মাস পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আবার বসে অগ্রগতি জানানো হবে। ওই সময়ে কতগুলো রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে এবং অবৈধ রিকশা নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা তুলে ধরা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা আইনগত নিবন্ধন ছাড়াই চলাচল করছে। সিটি করপোরেশন আইন-২০০৯ সংশোধনের মাধ্যমে ই-রিকশা নিবন্ধনের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। ওই আইনের ১২০ ধারার আলোকে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রথমে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে এ বিধিমালা কার্যকর হবে। পৌরসভা এলাকায় ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করে পরে বিধিমালা জারি করা হবে।
ই-রিকশার ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালিকপক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে আলোচনা করে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করবে। ভাড়া সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হবে।