দেশে নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। বর্তমানে নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক, ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম করসহ সব মিলিয়ে ১৩০ শতাংশের ওপরে খরচ হচ্ছে বলে জানায় নোয়াব। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে গতকাল বাজেট-পূর্ব আলোচনায় এ দাবি তুলে ধরেন সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক প্রতিনিধিরা।
এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন নোয়াবের সভাপতি ও সমকালের প্রকাশক এ কে আজাদ, সহসভাপতি ও নিউ এজের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি এএসএম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামছুল হক জাহিদ এবং বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহসভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী, কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচালক ও বাংলাভিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল হক, সময় টিভির এমডি আহমেদ জোবায়ের, দীপ্ত টিভির চেয়ারম্যান জায়েদুল হাসান।
নোয়াবের সভাপতি এ কে আজাদ লিখিত বক্তব্যে তাদের প্রস্তাব এনবিআরের কাছে তুলে ধরেন। এছাড়া টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের পক্ষে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন অ্যাটকোর সিনিয়র সহসভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী।
সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন আয়ের উৎসে কর ও অগ্রিম আয়কর থেকে অব্যাহতি চেয়েছে নোয়াব। এছাড়া সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত সাড়ে ২৭ শতাংশ করপোরেট কর কমিয়ে ১০-১৫ শতাংশ করার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে ইউটিউব ও ফেসবুক থেকে ডলার আয়ের ১০ শতাংশ উৎসে কর অব্যাহতি, বিজ্ঞাপনের উৎসে কর ৪ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা, ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার এবং ভারতীয় চ্যানেল বাংলাদেশে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ডাউনলোড চার্জ বাড়ানোর দাবি জানায় অ্যাটকো।
আলোচনায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘সেবা শিল্প হিসেবে সংবাদপত্র সরকারের কাছ থেকে কোনো সেবা বা সমর্থন পায় না। ১৪ বছর ধরে আমি এ রকম আলোচনায় আসি, কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো ক্ষেত্রেই সামান্যতম সুযোগ-সুবিধা বা ছাড় পাইনি। ট্যাক্স কার্ডের বিপরীতেও তেমন কোনো সুবিধা দেয়া হয় না। আমরা এখন ট্রানজিশন পিরিয়ডের মধ্যে আছি। প্রিন্টের পাশাপাশি ডিজিটাল পাঠক তৈরি হচ্ছে সংবাদপত্রে, এটাই আমাদের ভবিষ্যৎ। ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করপোরেট ট্যাক্স সংবাদপত্রের মতো রুগ্ণ শিল্পে কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। তাই এটিকে কমিয়ে ১০-১২ শতাংশ করার দাবি জানাই।’
ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রকে বিকশিত হওয়ার জন্য ভালো একটা ট্যাক্স সিস্টেম দরকার। দেশের ট্যাক্স-জিডিপির অনুপাত নেপালের চেয়েও কম।’ তাই করের আওতা বাড়াতে তিনি সংবাদপত্রের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়া আন্ডার ইনভয়েস ও ওভার ইনভয়েসের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং বন্ধে সংবাদপত্রের মাধ্যমে জনমত তৈরি করার কথাও বলেন তিনি।
অ্যাটকোর সিনিয়র সহসভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘রাজস্ব আদায়ে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। করদাতারা যাতে শেষ বয়সে গিয়ে সরকারি বিভিন্ন সেবা ও সুবিধা পায় সে ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে যারা কর ফাঁকি দেয় তাদেরও চিহ্নিত করতে হবে।’
সবার কথা শোনার পর এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘প্রিন্ট মিডিয়া চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে। অবশ্য তারা তাদের ধরন পরিবর্তন করে টিকে থাকতে পারে। দৃশ্যমান লাভের বাইরে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা খুঁজে দেখতে হবে।’ করের আওতা বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিআরটিএ, ডিপিডিসির মতো সরকারি বিভিন্ন সেবাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমরা ইন্টিগ্রেশন করেছি। একই সঙ্গে বিভিন্ন সেবায় টিআইএনের পরিবর্তে প্রুফ অব রিটার্ন জমা দেয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করেছি। করের আওতা বাড়ায় এতে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া অডিট ভীতি দূর করার জন্য অডিট ম্যানুয়াল তৈরির জন্য কাজ করছি, যে অডিট হবে সেকেন্ডারি ডাটাভিত্তিক।’
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন এনবিআর সদস্য মো. মাসুদ সাদিক, জাকিয়া সুলতানা, সামস উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।