বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:৫৮ অপরাহ্ন




সংকটেও দেশবন্ধু গ্রুপে পাঁচ হাজার নতুন কর্মীর কর্মসংস্থান

আউটলুকবাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:২১ pm
Deshbandhu Group DBG দেশবন্ধু গ্রুপ দেশ ও জনগণের বন্ধু দেশবন্ধু পলিমার
file pic

মহামারি করোনায় সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। এতে ছোট-বড় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার কর্মী কাজ হারিয়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম এখনও বন্ধ রয়েছে। তবে করোনার সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান দেশবন্ধু গ্রুপ। অর্থনীতিতে প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও করোনার শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কোনো কর্মীর কাজ হারাতে হয়নি। উল্টো গত এক বছরে গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় পাঁচ হাজার নতুন কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। ফলে বর্তমানে গ্রুপের ৩২ প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংখ্যা ২০ হাজার থেকে বেড়ে ২৫ হাজার হয়েছে। গ্রুপের এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারে একদিকে সরবরাহ বাড়ছে, অন্যদিকে প্রতি বছর রপ্তানির পরিমাণও বাড়ছে।

গ্রুপের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশবন্ধু গ্রুপ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নিজেদের ব্যবসা বাড়াতে উৎপাদমুখী নানা প্রকল্প হাতে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান দেশবন্ধু সুগার মিলস, সাউথইস্ট সোয়েটার, জিএম অ্যাপারেল, বেভারেজ, প্যাকেজিং ও দেশবন্ধু টেক্সটাইল মিলসসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও উৎপাদন বাড়াতে গত এক বছর ৮০০ কোটি টাকা নতুন করে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এতে নতুন করে আরও ২৫ শতাংশ কর্মসংস্থান বেড়েছে। গ্রুপের বার্ষিক টার্নওভার ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যার প্রবৃদ্ধি হার ১৪ শতাংশ। তবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়লেও প্রত্যাশানুযায়ী উৎপাদন ও বিক্রি কার্যক্রম অর্জিত হয়।

কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, নতুন বিনিয়োগের শুরুতেই শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। সারাবিশ্বে নেমে আসে নতুন করে আরেক বিপর্যয়। করোনা শঙ্কা যেতে না যেতেই শুরু হয় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা। এর প্রভাবে দেশে ডলারের দামে রেকর্ড হয়। ডলারের অধিক মূল্য বৃদ্ধিতে কাঁচামাল আমদানিতে বড় ধাক্কা লাগে। কমতে থাকে রিজার্ভ। শুরু হয় ডলার সংকট। এ কারণে বন্ধ হয়ে যায় এলসি। একের পর এক কমতে থাকে ক্রয় আদেশ। নতুন করে যুক্ত হয় গ্যাস সংকট, জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপর্যাপ্ততার সঙ্গে চড়া দাম বৃদ্ধি। হুহু করে বাড়তে থাকে পরিবহন ভাড়া। এছাড়া মূল্যস্ফীতির মতো এরকম শত সমস্যা সত্ত্বেও গ্রুপের কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়নি। নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পেয়েছেন। এমনকি ব্যাংকঋণের কিস্তি সিমিত হলেও নিয়মিত পরিশোধ করে যাচ্ছে গ্রুপটি।

অন্যদিকে, বর্তমানে চিনির দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দাম বেঁধে দেয় সরকার। তবে সরকার নির্ধারিত দামে চিনি বিক্রি হচ্ছে না। তবে সরকার নির্ধারিত দামে টিসিবির আদলে সাধারণ

মানুষের জন্য ট্রাকে করে রাজধানীতে চিনি সরবরাহ করছে দেশবন্ধু সুগার মিলস। গতকাল নরসিংদীর চরসিন্দুর পলাশ শিল্প এলাকায় অবস্থিত দেশবন্ধু সুগার মিলস পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, চিনি কারখানায় চলছে উৎপাদন ও সরবরাহ চালু রয়েছে। কাঁচামালের সংকট থাকলেও তা দ্রুত কেটে যাবে। বাজারে সরবরাহ যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য কর্মকর্তারা বিশেষ তদারকি করছেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের চিনির চাহিদার ৯ শতাংশ জোগান দিচ্ছে দেশবন্ধু। দেশবন্ধু সুগার মিলে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ মেট্রিক টন ও বছরে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করা হচ্ছে। কারখানা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও নতুন বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এতে প্রতিদিন উৎপাদন ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন হয়ে যাবে। যার ফলে বাজারে চিনির আরও বেশি জোগান দেয়া যাবে।

অন্যদিকে, রাজধানীর উত্তরখান এলাকায় রয়েছে গ্রুপের দুই অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সাউথইস্ট সোয়েটার ও জিএম অ্যাপারেলস লিমিটেড। শতভাগ রপ্তানিমুখী দুটি প্রতিষ্ঠানের গত বছর প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ শতাংশ। চলতি বছর ইউরোপে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে। দুটি কারখানা সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যার ফলে আগামী বছর রপ্তানি ৪০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, দুটি কারখানায় নিরাপদ পরিবেশে কাজ করছেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের জন্য রয়েছে গ্রুপ বিমা ও স্বাস্থ্য বিমা। বাচ্চাদের জন্য চাইল্ড কেয়ার, শ্রমিকদের ফ্রি মেডিকেল সুবিধা, মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা রয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত গ্রুপের একমাত্র প্রতিষ্ঠান ‘দেশবন্ধু পলিমার’। সরেজমিন দেখা গেছে, উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। পলিমারের উৎপাদন কার্যক্রম বেশ গোছালো।

দেশবন্ধু পলিমারের মহাব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশবন্ধু সুগার মিলস চালু হওয়ার পর মোড়কের জন্য প্রতি বছর ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ চিনির ব্যাগ প্রয়োজন হয়। ২০০৬ সালে দেশবন্ধু পলিমার কারখানা স্থাপন করা হয়। প্রথমে তাইওয়ানের মেশিনারি দিয়ে স্বল্প পরিসরে অর্থাৎ বার্ষিক এক কোটি ব্যাগ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন মিল স্থাপন করা হয়। পরবর্তী সময়ে আরও মেশিনারিজ সংযোজনের মাধ্যমে ২০১৩ ও ২০১৬ সালে আরও উৎপাদন বৃদ্ধি করে সিমেন্ট ব্যাগসহ বর্তমানে এর উৎপাদন ছয় কোটি ব্যাগে উন্নত করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। দেশবন্ধু পলিমার ও দেশবন্ধু প্যাকেজিংয়ের ডব্লিউপিপি ব্যাগ, ওয়ান এবং ডাবল প্লাই সিমেন্ট ব্যাগ, বিওপিপি (সুইং ও পেস্টিং) এবং এফআইবিসি ব্যাগ।

অপরদিকে, অল্প সময়েই বাজার দখল করেছে দেশবন্ধু বেভারেজের পণ্য। বিশেষ করে দেশবন্ধু মিনারেল ওয়াটার সারাদেশে চাহিদা তৈরি করতে পেরেছে। ফলে গত বছরে বেভারেজ কারখানায় ২০০ কোটি টাকার বেশি নতুন বিনিয়োগ করা হয়েছে। কারখানায় উন্নত প্রযুক্তির ইতালিয়ান মেশিনারিজ স্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ধীরগতিতে চলছে উৎপাদন কাজ। তবে কারখানার নতুন মেশিনারিজে পুরোদমে উৎপাদন শুরু হলে প্রতিঘণ্টায় উৎপাদন হবে ৭৫ হাজার (বিপিএইচ) বোতল। অর্থাৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে ৬৫ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে নতুন এক হাজার ৫০০ জনের কর্মসংস্থান হবে।

দেশবন্ধু বেভারেজের মহাব্যবস্থাপক মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, বেভারেজ পণ্যে কোনো অবস্থাতেই পণ্যের মানের বিষয়ে ছাড় দেয়া হয় না। শতভাগ কোয়ালিটি বজায় রেখে নিজস্ব কারখানায় উৎপাদন পণ্যের মাণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। দেশবাসী আমাদের প্রতি আস্থা রেখেছে। আমরা তাদের আস্থার প্রতিদান অবশ্যই দেব। বেভারেজ তৈরিতে যেসব কাঁচামাল ব্যবহƒত হয়, তার সবই আমরা অস্ট্রেলিয়া, ইতালি ও ব্রাজিলসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে থাকি। কিন্তু বর্তমানে ডলারের দর বৃদ্ধি ও এলসি না পাওয়ার কারণে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যাওয়া যাচ্ছে না। দেশবন্ধু বেভারেজে উৎপাদিত পণ্য দেশে বিক্রি ছাড়াও দুবাই, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, গ্রিসেও রপ্তানি হচ্ছে।

দেশবন্ধু গ্রুপের পরিচালক (প্রশাসন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, করোনার ধাক্কা কাটতে না কাটতে শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এতে সারাবিশ্বে আমদানি-রপ্তানিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। দেশবন্ধু গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শুধু রপ্তানিনির্ভর।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD