আগামী আগস্টে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন কঠোর নির্বাচনী আইন ঘোষণা করেছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। নতুন এ আইনের বিভিন্ন ধারার কারণে দেশটিতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
২০১০ সালের পুরোনো আইনের পরিবর্তে নতুন এ আইন করা হয়। এ আইনে সেসব প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না-যারা ‘সন্ত্রাসী’ বা ‘অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ আইন হওয়ার ফলে এটি স্পষ্ট যে নোবেলজয়ী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।
অন্যদিকে নতুন আইনে যেসব রাজনৈতিক দল জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক, তাদের নিবন্ধনের তিন মাসের মধ্যে এক লাখ সদস্য থাকতে হবে। এ ছাড়া দলগুলোর তহবিল মিয়ানমারের মুদ্রা ১০০ মিলিয়ন কিয়াট (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫০ লাখ ৪৮ হাজার ১৭৪ টাকা) থাকতে হবে। আগের তহবিলের তুলনায় যা ১০০ গুণ বেশি। আর এই অর্থ রাষ্ট্রীয় ব্যাংক মিয়ানমার ইকোনমিক ব্যাংকে জমা রাখতে হবে।
শুক্রবার সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল মিন অং হ্লাইং স্বাক্ষরিত এ আইন দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারে প্রকাশ করা হয়।
এর আগে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দেশটির সামরিক বাহিনী ভোটে নির্বাচিত নেতা অং সান সু চিকে গ্রেপ্তার করে ক্ষমতা দখল করে। তারও আগে তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে ক্ষমতায় এসেছিল।
এদিকে সামরিক জেনারেলরা কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছিল, ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলেছিলেন, ২০২০ সালের নভেম্বরের ওই নির্বাচন খুবই স্বাধীন ও সুষ্ঠু হয়েছিল।