বঙ্গবাজার অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিসের অবহেলাকে দায়ী করছেন মার্কেটের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, শুরুতে এই অগ্নিকাণ্ডকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। তাই দুটি আগুন নির্বাপক বোতল নিয়ে এসেছিলেন। পরে আগুন বাড়লে মার্কেটের চাইতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার রক্ষার চেষ্টাই বেশি করেন বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর বঙ্গবাজারে ভোর ৬টা ১০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়। ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ৬টা ১২ মিনিটে।
অভিযোগ করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী হোসাইন বলেন, ‘৬টা বাজে যখন আগুন লাগছে তাগোরে ডাক দিলে তারা বোতল (আগুন নির্বাপক) নিয়া আসছে আগুন নিভাইতে। কিন্তু আগুন নিভে না। তাদের বলছি পানির গাড়ি নিয়া আসেন। তারা বলে ওপর থেকে আমাদের হুকুম আসে নাই। হুকুম আসছে ৭টার পরে। পরে গিয়ে তারা পানি নিয়ে আসছে, সেইটারও স্প্রিড নাই। সারা দেশের ফায়ার সার্ভিসের মেইন অফিস এইখানে, আর এইখানে বলে তাদের পাম্পে পানি নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ৮টার দিকে তাদের বলছি পানি বাড়ান। তারা বলে বছরে দুই একবার আগুন লাগবোই, ঈদে আগুন লাগেই।’
সিদ্দিকবাজার ফায়ার সার্ভিসে আগুন নেভানোর জন্য পর্যাপ্ত পানি ছিল না মন্তব্য করে আরেক ব্যবসায়ী সুলতান বলেন, ‘বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিসের হেড অফিস এটা, এইখানে পানি থাকবো না তো কই থাকবো। সকালে তাদের যথেষ্ট পানি ছিল না। পরে ঢাকার অন্যান্য জায়গা থেকে ফায়ার সার্ভিসের লোক এসে আগুন নেভানোর কাজ করছে।’
আগুন লাগার পেছনে ফায়ার সার্ভিসকে সরাসরি দায়ী করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসই লাগাইছে আগুন। তারাই প্রত্যেক সপ্তাহে মহড়া দেয় এই মার্কেটে। আজকে তারা পানি দেয়, পানি আগুন পর্যন্ত পৌঁছায় না। যেইখানে আগুন লাগছে তার উল্টা পাশে ফায়ার সার্ভিস কিন্তু, আগুন নিভলো না, পুরাটা পুইড়া ছাই হইয়া গেছে, বিশ্বাস হয়!’
ফায়ার সার্ভিস সকালে মার্কেট রক্ষার চাইতে পাশে থাকা পুলিশ হেডকোয়ার্টার রক্ষায় বেশি গুরুত্ব দিয়েছে মন্তব্য করে আরেক ব্যবসায়ী নাঈম বলেন, ‘শুরুতে এত ঘটনা ঘটতোই না। যখন সকালে আমি আসি তখন ওপরে একটু আগুন ছিল, তখন ঠিকমতো পানি দিলে একটা দুইটা দোকান পুড়তো। কিন্তু তারা হাতে কইরা আগুন নিভানোর দুইটা বোতল নিয়া আসছে। পরে যখন আগুন লাগছে তখন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের দিকে পানি দিতাছিল যেন সেই দিকে আগুন না যায়।’
এর আগে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থলের অপর পাশে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের প্রধান কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বিক্ষুব্ধরা।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের এক কর্মকর্তা (মিডিয়া) বলেন, ‘তারা কেন এমন অভিযোগ করছে আমরা জানি না। আগুন নেভাতে আমাদের চেষ্টার কোনও ঘাটতি ছিল না। বরং অগ্নিকাণ্ডের সময় কিছু লোক আমাদের অফিসে ভাঙচুর ও হামলা চালিয়েছে।’