সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:০০ পূর্বাহ্ন




বিএনপির আন্দোলনের প্রস্তুতি

আউটলুকবাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৩ ১০:৫৯ am
Bangladesh Nationalist Party BNP ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি
file pic

সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনের পরিকল্পনা প্রায় শেষ করেছে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। এরই অংশ হিসাবে ঈদের পর আন্দোলনের গতি বাড়াবে দলটি। মহান মে দিবসে ঢাকায় বড় শোডাউনের মধ্য দিয়ে মাঠে নামছেন তারা। ওইদিন রাজধানীতে শ্রমিক মহাসমাবেশ বা র‌্যালি করার কথা রয়েছে। এরপর তৃণমূল থেকে পুনরায় সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু করতে চায় দলটি। ঢাকা থেকে বিভিন্ন বিভাগ অভিমুখে রোডমার্চ বা লংমার্চ করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। এভাবে ধারাবাহিক কর্মসূচি দিয়ে দখলে রাখা হবে রাজপথ। ধীরে ধীরে তা বেগবান করে সময় ও সুযোগ বুঝে সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে অলআউট মাঠে নামবে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। সে লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে সার্বিক প্রস্তুতি।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানান, রাজপথে নামার আগে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে। কিছু বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে থাকা দূরত্ব মেটাতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন তারা। শিগগিরই মান-অভিমান মিটে যাবে। সব দলের মতামতের ভিত্তিতে অভিন্ন দাবি নিয়ে চূড়ান্ত করা হচ্ছে ঘোষণাপত্র। শিগগিরই যৌথভাবে তা ঘোষণা করা হবে।

বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, চলমান আন্দোলনে যাতে স্থবিরতা না আসে সেজন্য পবিত্র রমজান মাসেও কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। রোজার মধ্যেই দেশের ১৩ মহানগরসহ ৭৯ সাংগঠনিক জেলা ও সাড়ে ছয়শ থানা-উপজেলায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ১১ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশের অধিকাংশ ইউনিয়নে পালন করা হয় অবস্থান, মানববন্ধন ও গণসংযোগ কর্মসূচি। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রমজানেও নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখা হয়।

মাঠের কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি পহেলা রমজান থেকে এ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কেন্দ্র ও তৃণমূলের অন্তত ৫০টি আলোচনা সভা ও ইফতার পার্টিতে অংশ নেন। একদিনে একাধিক অনুষ্ঠানেও বক্তব্য রাখেন তিনি। তার বক্তব্যের প্রায় পুরোটাই ছিল রাজপথের আন্দোলনকেন্দ্রিক। রাজপথে কঠোর আন্দোলন করতে হবে নেতাকর্মীদের এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে। এর আগে সাড়ে ৩ হাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে হাইকমান্ড। এসব বৈঠকেও স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা সরকারবিরোধী কঠোর আন্দোলনের পরামর্শ দেন।

জানা গেছে, আগামী দিনে রাজপথে আন্দোলনের বার্তা নিয়ে ঈদে নেতাদের এলাকায় পাঠানো হয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ওই আন্দোলনে শরিক হতে তাদের কাজ করতে বলা হয়। জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলনে আমরা সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন পাচ্ছি। বিগত সময়ে বিভাগীয় গণসমাবেশ এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে নানা কর্মসূচিতেও তাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিএনপির দাবিগুলো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বলেই তারা আমাদের সমর্থন জানাচ্ছে।

তিনি বলেন, যে কোনো আন্দোলনের একটা কৌশল থাকে। দিনক্ষণ ঠিক করে কখনো চূড়ান্ত আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া যায় না। অতীত ইতিহাস তাই বলে। ঈদের পরে চলমান আন্দোলনের গতি আরও বাড়ানো হবে। সময় ও সুযোগমতো তা সরকার পতনের একদফায় রূপ নেবে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে এবার আমরা বেশ সতর্ক। আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে বা স্তিমিত করতে সরকার নানা কৌশলের আশ্রয় নিতে পারে। কিন্তু এবার সরকারের কোনো ফাঁদে পা দেব না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথেই থাকব। বিএনপির এ আন্দোলন একপর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ পাবে। গণআন্দোলনে সরকার বিদায় নিতে বাধ্য হবে।

 




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD