এইডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে এ বছর হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ৩৫ হাজার ছাড়িয়েছে। নতুন করে নয়জনের মৃত্যু হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৫ জনে।
বাংলাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এক বছর যত রোগী ভর্তি হয়েছে, সে হিসাবে ভর্তি রোগীর এ সংখ্যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। যদিও বছর শেষ হতে এখনও আরও পাঁচ মাস বাকি। এর আগে ২০১৯ সালে ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন এবং ২০২২ সালে ৬২ হাজার ৩৮২ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ২৮১ জনের মৃত্যু হয় ২০২২ সালে, আর ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৭৯।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ হাজার ২৯৩ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সংখ্যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ ভর্তি রোগীর সংখ্যা।
সবমিলিয়ে এবার ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৩৫ হাজার ২৭০ জনে। এর মধ্যে জুলাই মাসের ২৩ দিনেই ভর্তি হয়েছেন ২৭ হাজার ২৯২ জন।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭ হাজার ৪৬৩ জন রোগী। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৪ হাজার ৩৯৫ জন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩ হাজার ৬৮ জন।
এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। জুন মাসে যেখানে ৫ হাজার ৯৫৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, জুলাইয়ের প্রথম ২৩ দিনেই সেই সংখ্যা বেড়ে সাড়ে চারগুণ হয়েছে। আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুও বেড়েছে। গত মাসে ৩৪ জনের মৃত্যু হলেও চলতি মাসের তিন সপ্তাহে প্রাণ গেছে ১৩৮ জনের।
মাসের হিসাবে জানুয়ারিতে ৫৬৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬৬ জন, মার্চে ১১১ জন, এপ্রিলে ১৪৩ জন এবং মে মাসে ১ হাজার ৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তাদের মধ্যে জানুয়ারিতে ছয়জন, ফেব্রুয়ারিতে তিনজন, এপ্রিলে দুজন এবং মে মাসে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ বছর এইডিস মশা শনাক্তে চালানো জরিপে ঢাকায় মশার যে উপস্থিতি দেখা গেছে, তাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়ার আশঙ্কা করেছেন তারা।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ বছর যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে ভুগছিলেন এবং শক সিনড্রোমে মারা গেছেন।