সরকার আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার তিনদিনেও তা বাজারে কার্যকর হয়নি। বিক্রেতাদের দাবি, বেশি দামে পণ্য কিনছেন তাই বিক্রিও হচ্ছে বাড়তি দামে। এদিকে, নির্ধারিত দামে আলু, পেঁয়াজ, ডিম বিক্রি না করায় রাজধানীতে ৭টি দোকানকে ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার। এসময় অভিযানের খবরে আগেই দোকান বন্ধ করে রাখেন অনেকে। অসহযোগিতার কারণে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি।
নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে হিমসিম অবস্থার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার চারটি পণ্যের দাম বেঁধে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলছে, আলু ৩৫ টাকা, পেঁয়াজ ৬৫ টাকা, ডিম প্রতি পিছ ১২ টাকা আর প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি করতে হবে ১৬৯ টাকায়।
সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে রোববার রাজধানীর নতুন বাজার কাঁচাবাজারে অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিদপ্তর। বেধে দেওয়া দামে পণ্য বিক্রি না করায় সেখানে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই কারণে জরিমানা গুণতে হয় হাজারীবাগের ২টি প্রতিষ্ঠানকে দুই হাজার টাকা করে।
জরিমানা গোনা এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সরকারি রেটে মাল বিক্রি করতে হবে। কিন্তু সরকারি রেটে মাল কোথাও পাচ্ছি না। আমরা ৬৮ টাকায় কিনেছি, ৬৯ টাকায় বিক্রি করেছি। মেমো আছে, ভাউচার আছে সব কিছু ঠিক আছে।’
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা বেশি দিয়ে কিনছি, এর স্লিপও আছে আমাদের কাছে। সেটা দেখিয়েছিও। আমাদের আলু কেনা সাড়ে ৪১ টাকায়, বিক্রি করতে হচ্ছে ৪৫ টাকায়। পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে একটা ৭২ টাকা আরেকটি ৭৬ টাকা কেজি। ৭৬ টাকায় যেটা কেনা সেটা বিক্রি করতে হয় ৮০ টাকায়।’
বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজ ৬৫ টাকায় বিক্রির কথা থাকলেও গুণতে হচ্ছে ৮০ টাকার বেশি। আলু কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকায় আর ডিমে ডজন প্রতি গুণতে হচ্ছে দেড়শো টাকা। বাড়তি দামের জন্য বিক্রেতারা নানা অজুহাত দিলেও মানতে নারাজ ভোক্তারা।
ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নবলছেন ব্যবসায়ীদের অসহযোগীতার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তদারকি কার্যক্রম।
সংস্থার সহকারী পরিচালক মাগফুর রহমান বলেন, ‘আমরা যখন মনিটরিং করি আমাদের যেন সহযোগীতা করা হয়। আর এভাবে দোকান বন্ধ রাখলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। আমরা কমিটিকে যুক্ত করব যাতে তারাও ব্যবস্থা নিতে পারেন। আর তারা যদি এটা না করেন তাহলে আমরা আমাদের মতো করে ব্যবস্থা নেব।’
রাজধানীতে ভোক্তা অধিকারের ৩ টি টিম বাজার তদারকিতে নামে রোববার। তাদের অভিযান নিয়মিত চলবে বলে জানায় সংস্থাটি।